নতুন এমপিও আবেদন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ। সঠিক পদ্ধতি ও যথাযথ তথ্য সংযুক্ত করতে না পারলে কর্তৃপক্ষ আবেদন বাতিল করে দিতে পারেন। এতে নতুন চাকরিতে আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
যেহেতু ২০২৬ সালে নিয়োগ নীতিমালা, এমপিও নীতিমালা ও বেতন প্রদানের পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে সেহেতু স্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আবেদন সাবমিট এর ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যাশিখি ডট কম এর আজকের আয়োজনে আমরা জানবো নতুন এমপিও আবেদন করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনলাইন আবেদন সাবমিট করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন সম্পর্কে।
Table of Contents
Toggleভূমিকা
বর্তমানে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে প্রধান সহকারি শিক্ষক, ইন্সট্রাক্টর ও কলেজসমূহের প্রবেশ পর্যায়ে প্রভাষক, ডেমোন্সট্রেটরসহ শিক্ষকপদ সমূহে শিক্ষক নিয়োগের জন্য গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ);
এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর একজন শিক্ষক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগপত্র পেয়ে যোগদান করেন এবং চাকরি শুরু করেন। তবে, সরকারি অংশের বেতন-ভাতা পাওয়ার জন্য অবশ্যই EMIS পোর্টাল ব্যবহার করে যথাযথ নিয়মে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বর্তমানে এমপিও সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় অনলাইনে মীমাংসা করে তাই ম্যানুয়ালী ডকুমেন্ট জমা দেওয়া বা এমপিওভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
২০২৬ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত, কমিটির কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক বা কর্মচারীদের নতুন এমপিও আবেদন প্রতি বেজোড় মাসের শেষ তারিখের মধ্যে EMIS পোর্টালে জমা দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, এনটিআরসিএ সনদ এবং প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশনসহ অন্যন্য কাগজপত্র।
নতুন এমপিও আবেদন ২০২৬

এই বছর শিক্ষা প্রশাসনে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ নীতিমালা এবং কর্মচারী নিয়োগ বিধিতে এসেছে নতুন নিয়ম। তাই, নতুন এমপিও আবেদন ২০২৬ ক্ষেত্রেও অনেক নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে।
২০২৬ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) সমূহে যোগদানকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনলাইন এমপিও আবেদন EMIS MPO মডিউল এর মাধ্যমে মাউশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের সাথে সুপারিশপত্র, নিয়োগ ও যোগদানপত্র, রেজুলেশন, একাডেমিক সনদ ও অন্যন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট সাবমিট করতে হবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী নতুন এমপিওভুক্তির জন্য নিন্মোক্ত যোগ্যতা থাকতে হবে-
১. শিক্ষক এর ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে হবে। কর্মচারীদের ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ কর্তৃক গৃহিত নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
২. প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক, ইন্সট্রাক্টর, প্রভাষক বা ডেমোন্সট্রেটর হলে এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত হতে হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগপত্র পেতে হবে এবং নিয়মানুযায়ী যোগদান করতে হবে।
৪. ক্যাটাগরী অনুযায়ী কাঙ্খিত পদে নীতিমালা বর্ণিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।
৫. বাংলাদেশের বৈধ নাগরিকত্ব থাকতে হবে। এবং পুলিশ ভ্যারিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়াও পদ অনুযায়ী আরও বিভিন্ন বিষয় আছে এমপিও পাওয়ার জন্য যার সবই পূরণ করতে হবে। অন্যথায় এমপিও আবেদন গ্রহণযোগ্য হবেনা। এখানে ক্রমান্বয়ে সব বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
অনলাইন এমপিও আবেদনের সময়সীমা ২০২৬
মাউশি কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার অনলাইন এমপিও আবেদন সাবমিট করার সময়সূচীতে পরিবর্তন এনেছে। ২০২৬ সাল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সকল প্রকার এমপিও আবেদন নিষ্পত্তির সময় প্রতি বেজোড় মাসের শেষ তারিখ পর্যন্ত। অর্থ্যাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ জানুয়ারি, মার্চ, মে, জুলাই, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসের শেষ দিনের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এর নিকট প্রেরণ করবেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমপিও ফাইল সাবমিট করতে না পারলে সরকারি অংশের বেতন-ভাতাদি পেতে দীর্ঘ বিলম্ব হতে পারে।
আমাদের স্কুল ও কলেজ এমপিও আবেদন করার নতুন নির্ধারিত সময়সূচী সংক্রান্ত আর্টিকেলে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে। কোনো আপডেট আসলে আমরা সেখানে তথ্য দিয়ে দিব।
আমি যেহেতু একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছি এবং এমপিও ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানের আবেদন করি এবং আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এই সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে জড়িত তাই গত কয়েকমাসে এমপিও আবেদন এর ক্ষেত্রে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ দিলাম-
১. নির্ধারিত সময়ে ১ মিনিট পরেও আবেদন সাবমিট করলে ঐ মাসে কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয় নি।
২. কোনো ডকুমেন্ট-এ নূন্যতম ভুল হলেও আবেদন বাতিল হয়েছে বা নিষ্পন্ন হতে বিলম্ব হয়েছে।
৩. যারা আমাদের দেখানো পদ্ধতি হুবহু অনুসরণ করেছে তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এমপিওভুক্ত হতে পেরেছে এবং বেতন-ভাতাদি পেয়েছে।
এমপিও আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
নতুন এমপিও আবেদন মূলত প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পদবি অনুযায়ী নতুন এমপিও আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিন্নতা আছে। তবে, বেশিরভাগ ডকুমেন্টস্ এর ক্যাটাগরী প্রায় একই। তাই আমরা বোঝার সুবিধার্থে এগুলো কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেছি-
- প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্র
- ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত সনদ
- এনটিআরসিএ (NTRCA) সংক্রান্ত
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্র
কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন প্রেরণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যেসকল কাগজপত্র সরবরাহ করবে সেগুলোকেই আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্র বলছি। সেগুলো হলো-
| ক্রম | ডকুমেন্ট এর শিরোনাম |
|---|---|
| ০১ | প্রতিষ্ঠান প্রধানের অগ্রায়ণপত্র; |
| ০২ | নিয়োগপত্র; |
| ০৩ | সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বা ধর্মের শিক্ষার্থী সংখ্যা সামারি ও টট লিস্ট; |
| ০৪ | গাঠাগার বিবরণী; |
| ০৫ | বিজ্ঞানাগার বিবরণী; |
| ০৬ | শিক্ষক-কর্মচারী বিবরণী (নির্ধারিত ফরম্যাটে); |
| ০৭ | সংশ্লিষ্ট পদে পূর্বে কর্মরত শিক্ষক বা কর্মচারীর পদত্যাগপত্র / মৃত্যু সনদ / বরখাস্তপত্র / ছাড়পত্র; |
| ০৮ | পূর্বে কর্মরত শিক্ষক বা কর্মচারীর ব্যাংক নন-ড্রয়াল সনদ ও ব্যাংক হিসাব বিবরণী; |
| ০৯ | প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ স্বীকৃতির কপি; |
| ১০ | বর্তমান কমিটি অনুমোদন চিঠি; |
| ১১ | প্রতিষ্ঠানের লোকেশন সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে); |
| ১২ | নিয়োগ ও যোগদান সংক্রান্ত কমিটির সভার রেজুলেশন; i. শূন্যপদ ঘোষণা ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা ই-রিকুইজিশন রেজুলেশন; ii. সিলেকশান বোর্ড গঠণের রেজুলেশন। (এনটিআরসিএ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।) iii. নিয়োগ সুপারিশ রেজুলেশন। (কমিটির নিয়োগ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।) iv. নিয়োগ সুপারিশ অনুমোদন ও নিয়োগপত্র প্রেরণ রেজুলেশন। v. যোগদান অনুমোদন রেজুলেশন; |
| ১৩ | পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কপি। (শিক্ষকদের ক্ষেত্রে গণবিজ্ঞপ্তির কপি।) |
| ১৪ | প্রতিষ্ঠানের প্রথম এমপিও কপি; |
| ১৫ | প্রতিষ্ঠানের শেষ এমপিও কপি; |
| ১৬ | অরিজিনাল রিক্রুইটমেন্ট রেজাল্ট শীট / ই-রিকুইজিশন লেটার; |
| ১৭ | সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের যোগদান স্টাটাস রিপোর্ট; |
| ১৮ | বিষয় বা শাখা খোলার অনুমতিপত্র; |
| ১৯ | শ্রেণি ভিত্তিক শিক্ষার্থীর তথ্য; |
| ২০ | ডিজি বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মনোনয়ন চিঠি; |
| ২১ | ডকুমেন্ট ভ্যারিফিকেশন রিপোর্ট; |
| ২২ | উপজেলা / জেলা / জোনাল কমিটি রিপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে); |
ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত সনদ
নতুন এমপিও আবেদন সাবমিট করার জন্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীর ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য প্রয়োজন। সেগুলো হলো-
| ক্রম | ডকুমেন্ট এর শিরোনাম |
|---|---|
| ০১ | আবেদনকারীর পূরণকৃত তথ্য ফরম; |
| ০২ | শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ (মূল কপি); প্রযোজ্য ক্ষেত্রে- এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা ও অন্যন্য একাডেমিক সনদ; |
| ০৩ | বি. এড / বি. পি. এড সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে); |
| ০৪ | এনটিআরসিএ সনদ (শিক্ষক এর ক্ষেত্রে); |
| ০৫ | স্নাতক পরীক্ষার নম্বর ফর্দ; |
| ০৬ | যোগদানপত্র; |
| ০৭ | ব্যাংক একাউন্ট স্লিপ এবং ব্যাংক প্রত্যয়নপত্র; |
| ০৮ | পাসপোর্ট সাইজ ছবি; |
| ০৯ | জাতীয় পরিচয়পত্র; |
| ১০ | এনটিআরসিএ সুপারিশপত্র; |
| ১১ | এনটিআরসিএ আবেদন কপি; |
| ১২ | জাতীয় মেধা তালিকা; |
| ১৩ | গণবিজ্ঞপ্তি ফলাফল; |
| ১৪ | এসএমএস-এ প্রাপ্ত ফলাফল কপি; |
| ১৫ | পুলিশ ভ্যারিফিকেশন রিপোর্ট; |
এনটিআরসিএ (NTRCA) সংক্রান্ত
যদিও উপরের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের তালিকায় এগুলো চলে এসেছে তারপরও ডকুমেন্ট প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া সহজ করতে আরও একবার সংক্ষেপে এনটিআরসিএ (NTRCA) সংক্রান্ত তথ্য সমূহের তালিকা দেখে নিন-
১. প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত ই-রিকুইজিশন;
২. পত্রিকায় বা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গণ বিজ্ঞপ্তির কপি;
৩. NTRCA NGI মডিউলে প্রকাশিত পাবলিক শূন্যপদের তালিকা;
৪. প্রার্থীর গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন অ্যাপ্লিকেন্ট কপি;
৫. গণবিজ্ঞপ্তির প্রাথমিক ফলাফল কপি;
৬. গণবিজ্ঞপ্তির প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ফলাফল তালিকা;
৭. এনটিআরএ নিয়োগ সুপারিশপত্র;
৮. সুপারিশের আলোকে প্রার্থীর যোগদান স্টাটাস রিপোর্ট;
৯. সমন্বিত জাতীয় মেধা তালিকা;
১০. প্রার্থীর এনটিআরসিএ পাশের শিক্ষক নিবন্ধন ই-সনদ;
১১. পুলিশ ভ্যারিফিশেন (ভি-রোল) ফরম বা সনদ;
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যন্য গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংযুক্ত করা যেতে পারে। যেমন- পদ সংশ্লিষ্ট মামলা বা অভিযোগ, প্রার্থীর নাগরিকত্ব সনদ, এবং নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ধাপে ধাপে নতুন এমপিও আবেদন প্রক্রিয়া
উল্লেখিত তথ্য সমূহ সংগ্রহ করা হয়ে গেলে ধাপে ধাপে নতুন এমপিও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আমরা মাউশি সার্ভারে অনলাইন নতুন এমপিও আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করণের জন্য ৪টি ধাপে ভাগ করেছি।

ধাপ-১: ডকুমেন্ট প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াকরণ;
ধাপ-২: এইচআরএম রেজিস্ট্রেশন ও অনুমোদন;
ধাপ-৩: অনলাইনে নতুন এমপিও আবেদন পূরণ;
ধাপ-৪: ডকুমেন্ট আপলোড ও ফাইনাল সাবমিট;
১. ডকুমেন্ট প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াকরণ
নতুন এমপিও আবেদন এর জন্য উপরে দেওয়ার তথ্যগুলো সংগ্রহ করে কম্পিউটারে স্ক্যান করে নিতে হবে। স্ক্যান করার ক্ষেত্রে মূল ডকুমেন্টগুলোই স্ক্যান করতে হবে যাতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এতে করে তথ্য যাচাই কারী কর্মকর্তার জন্য ভ্যারিফাই করা সহজ হবে।
প্রথমে স্কুল ও কলেজ শিক্ষক কর্মচারী এমপিও আবেদন এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেক লিস্ট অনুসারে ডকুমেন্টগুলো সাজিয়ে নিবেন এবং একটি একটি করে স্ক্যান করবেন।
কম্পিউটারে শিক্ষক বা কর্মচারীর নাম দিয়ে একটি ফোল্ডার তৈরি করুন। এবং চেক লিস্ট অনুযায়ী ক্রমিক নাম্বার দিয়ে ফাইলগুলো সেভ করুন। এটাচমেন্ট লিস্ট অনুযায়ী ফাইল নাম ব্যবহার করলে সেগুলো আপলোড করার ক্ষেত্রে সহজ হবে এবং ভুল ফাইল আপলোড হওয়ার সম্ভাবনা থাকবেনা।
নোট: এক পাতার তথ্যগুলো JPG এবং মাল্টিপল পেইজ PDF আকারে সেভ করবেন। তবে, প্রতিটি ফাইলের সাইজ ৫০০ থেকে ১০০০ কেবি এর মধ্যে থাকতে হবে। ২ এমবির ফাইল আপলোড হবেনা এবং ১ এমবির বেশি ফাইল আপলোড হতে এবং ডাউনলোড হতে সময় বেশি নিবে।ডকুমেন্টগুলো অবশ্যই স্ক্যান করে সংরক্ষণ করবেন। কোনোভাবেই মোবাইল দিয়ে তোলা ছবি ব্যবহার করবেন না। এতে ফাইলের কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যাবে। এবং যাচাইকারী কর্মকর্তা বিরক্ত হতে পারেন।
এইচআরএম রেজিস্ট্রেশন ও অনুমোদন
সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগ ও যোগদান সম্পন্ন করার পর শিক্ষক বা কর্মচারীর এমপিওভুক্তির প্রথম কাজ HRM বা Human Resource Management রেজিস্ট্রেশন করা। এই কাজটি দুটো ধাপে করতে হবে-
১. শিক্ষক বা কর্মচারী কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ
২. প্রতিষ্ঠান থেকে রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন
চলুন দেখে নিই কিভাবে EMIS MPO HRM পূরণ করতে হবে এবং কিভাবে অনুমোদন করতে হয়।
১. শিক্ষক বা কর্মচারী কর্তৃক HRM রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ

কাজ-১: EMIS HRM মডিউল এক্সেস
যেকোন ইন্টারনেট ব্রাউজার এর এড্রেস বারে Education Management Information System (EMIS) এর ওয়েব ঠিকানায় প্রবেশ করুন। উপরের ছবির মত পাতা আসবে। সেখানে অনেকগুলো মডিউল দেখা যাবে যাতে প্রথমেই HRM – Human Resource Management মডিউলটি দেখতে পাবেন।
HRM বা হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বাটনের নিচের অংশে থাকা Registration লেখার উপর ক্লিক করলে আপনাকে Online Registration পাতায় নিয়ে যাবে।
নোট: যদি কোনো কারনে প্রথম লিংকটি কাজ না করে তাহলে বিকল্প ঠিকানা Alternative Link to EMIS এ প্রবেশ করেও HRM নিবন্ধন করতে পারবেন। মাউশি ওয়েবসাইটের হোম পেজ থেকে অভ্যন্তরীন ই-সেবা বক্সে এই ধরণের সেবাবক্স লিংকগুলো পাওয়া যায়।
কাজ-২: প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক বা কর্মচারীর ধরণ নির্বাচন

এই পর্যায়ে অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। এখানে সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেজিস্ট্রেশনের আলাদা আলাদা মডিউল আছে। আবেদনকারীর পদ পদবীর ধরন অনুযায়ী সঠিক মডিউলটি নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরী।
ছবিতে আমরা পদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী কোন মডিউলটি নির্বাচন করবেন তা দেখিয়ে দিয়েছি এবং এখানে বর্ণনা করছি।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে (যাদের EIIN বা ইউজার আইডি নেই।)-
১. বেসরকারি কলেজ ( স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার, আরডিএ, বিজিবি, আর্মি ইত্যাদি) এ শিক্ষক হলে নীল রঙ্গের ১ নম্বর মডিউল (Non-Govt College Teachers) নির্বাচন করবেন।
২. বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার, আরডিএ, বিজিবি, আর্মি ইত্যাদি) এ শিক্ষক হলে নীল রঙ্গের ২ নম্বর মডিউল (Non-Govt School Teachers) নির্বাচন করবেন।
৩. সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি নন ক্যাডার অফিসার বা মাউশি অফিস সমূহের কর্মচারী পদে নিয়োগ পেয়ে থাকলে ৩ নম্বর হলুদ চিহ্নিত অপশন Govt. Non-Cadre Officer, Employees/Non-Govt Employees (Institutes and DSHE Offices) নির্বাচন করতে হবে।
সকল সরকারি নন-ক্যাডার কর্মকর্তা, সরকারি গ্রন্থাগারিক, সরকারি শরীরচর্চা শিক্ষক, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, স্কুল ও কলেজ) সমূহের কর্মচারী এবং মাউশি অফিস ও মাঠ পর্যায়ের অফিস সমূহের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা এই অপশনটি ব্যবহার করে HRM নিবন্ধন করতে হবে।
আর যাদের পূর্বের Index নাম্বার আছে: তারা লাল চিহ্নিত For Existing Teacher/Employee Having UserId/MPO Index এর নিচে বাটনে প্রবেশ করে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে।
নোট: এখানে আমরা একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের নতুন এমপিও আবেদন সাবমিট করার প্রসেস দেখাবো। সবধরণের আবেদন একই তাই এটি ভালোভাবে অনুসরণ করলে আপনি যেকোন আবেদন প্রসেস করতে পারবেন।
কাজ-৩: এইচআরএম তথ্য এন্ট্রি ও সাবমিট
আপনার পদ অনুযায়ী বাটন সিলেক্ট করলে পরবর্তী পাতায় তথ্য এন্ট্রি ফরমে নিয়ে যাবে। তবে, এখানে আরও একবার Index বা পিডিএস আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য নিচের ছবির মত পপ-আপ মেসেজ আসবে। সেখানে আপনার আইডি অথবা ইনডেক্স নাম্বার থাকলে ‘হ্যাঁ’ দিন আর না থাকলে ’না’ দিন।

যেহেতু নতুন এমপিও আবেদন তাই অবশ্যই ‘না’ নির্বাচন করবেন। ভুলক্রমে হ্যাঁ নির্বাচন করে ফেললে পুনরায় এই পাতায় প্রবেশ করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
এই ধাপে ৩ ধরণের তথ্য এন্ট্রি করতে হবে- ১. সাধারণ তথ্য, ২. কর্মস্থলের তথ্য, এবং ৩. সংযুক্তি
সাধারণ তথ্য
শিক্ষকের সাধারণ তথ্য ইনপুট ফিল্ডে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো এন্ট্রি করত হবে। নাম (বাংলায় ও ইংরেজিতে), পিতার নাম ও মাতার নাম ইংরেজিতে, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, ধর্ম, নিজ জেলা সঠিকভাবে লিখুন বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্বাচন করুন।
জাতীয় পরিচয়পত্র ফিল্ডে ১৭ ডিজিট এর পূর্বের এনআইডি বা ১০ ডিজিট এর স্মার্ট এনআইডি নাম্বার ইংরেজিতে ইনপুট দিন, আপনার এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করা একটি মোবাইল নম্বর দিন, এবং ব্যক্তিগত ইমেইল এড্রেস টাইপ করুন।
মনে রাখতে হবে- ভুল ইমেইল দিলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে না এবং অনাকাঙ্খিত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ইমেইল এবং মোবাইল নাম্বার প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন।

কর্মস্থলের তথ্য
এই অংশে নিয়োগ ও পদবি সংক্রান্ত তথ্য ইনপুট করতে হবে। প্রথমে পদের ধরণ সহকারি শিক্ষকের ক্ষেত্রে সাধারণ আর প্রধান শিক্ষক বা সহকারি প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নির্বাচন করুন।
বর্তমান পদবি: বর্তমানে আপনি যে পদে চাকরি করছেন সেটি নির্বাচন করবেন। এনটিআরসিএ সুপারিশ এর ক্ষেত্রে শিক্ষক পদের জন্য বর্তমান পদবি হবে ‘সহকারী শিক্ষক’;
নিয়োগ এর সময় প্রাপ্ত পদবি: সহকারী শিক্ষক নির্বাচন করুন। প্রশাসনিক পদের ক্ষেত্রে আপনি প্রথম নিয়োগ এর সময় যে পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তা নির্বাচন করবেন।
যোগদানের তারিখ: এখানে আপনার বর্তমান প্রতিষ্ঠানে বর্তমান পদে যোগদানের তারিখ সিলেক্ট করবেন।
বিষয়: এই ফিল্ডে আপনি যে বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং এনটিআরসিএ গণ বিজ্ঞপ্তিতে যে পদে নিয়োগপ্রাপ্তির আবেদন করেছেন সে বিষয় নির্বাচন করবেন।
প্রতিষ্ঠান: এই তথ্যটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করবেন। এখানে থাকা সার্চ আইকনে ক্লিক করলে নিচের ছবির মত একটি পপ-আপ ফরম আসবে। সেখান থেকে আপনি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন সেটি EIIN নাম্বার দিয়ে সার্চ করে নির্বাচন করবেন।

EIIN নাম্বার জানা না থাকলে সবুজ চিহ্নিত ফিল্টার আইটেমগুলো ব্যবহার করে আপনার কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন- ভুল প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে আবেদন সাবমিট করে ফেললে জটিলতা সৃষ্টি হবে পরে আপনার নতুন এমপিও আবেদন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
নিয়োগ এর ধরণ: যারা এনটিআরসিএ গণ বিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পেয়ে নতুন এমপিও আবেদন করছেন, কমিটি কর্তৃক নিয়োগ পেয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগ এর ধরণ হবে সরাসরি। এছাড়াও প্রকল্প, আত্তীকরণ, পিএসসি এবং অন্যন্য এর মাধ্যমে নিয়োগ হলে সেটি নির্বাচন করুন।
নিয়োগ সুপারিশকারী: যারা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ তাদের নিয়োগ সুপারিশকারী হবে- নিয়োগ বোর্ড (এসএমসি/জিবি) আর এনটিআরসি সুপারিশ হলে সেটি নির্বাচন করুন।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে এনটিআরসিএ পরীক্ষার রোল নাম্বার (যদি থাকে) এবং পরীক্ষার সাল নির্বাচন করুন।
সংযুক্তি
এই পর্যায়ে এমপিও আবেদনকারীর ছবি ও যোগদান এবং নিয়োগপত্র আপলোড করতে হবে। ছবির ক্ষেত্রে JPG ফরম্যাটে 300 Pixel দৈর্ঘ্য এবং 300 Pixel প্রস্থ সাইজ দিবেন। আর নিয়োগ ও যোগদান এর ক্ষেত্রে অনধিক ১ এমবি সাইজের পিডিএফ করে আপলোড করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন।
সাবমিট দেওয়ার আগে অবশ্যই ইনপুটকৃত তথ্যগুলো এবং এটাচমেন্টগুলো পুনরায় কয়েকবার যাচাই করুন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ও কর্মস্থলের তথ্য। কারণ আপনার এই তথ্যের আলোকেই নতুন এমপিও আবেদন ফরম পূরণ হবে এবং এমপিও তালিকায় এভাবেই তথ্য আসবে।
প্রতিষ্ঠান থেকে রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন
শিক্ষক এইচআরএম জমা দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান এর মাধ্যমে তা অনুমোদন করতে হবে। এরজন্য প্রতিষ্ঠানের এমপিও প্যানেলে প্রবেশ করে আবেদন অনুমোদন করবেন।

১. emis.gov.bd সাইটে প্রবেশ করে লগইন বাটনে ক্লিক করুনে অথবা সরাসরি https://www.emis.gov.bd/sso/Account/Login?ReturnUrl=%2fSSO ঠিকানায় প্রবেশ করুন।
২. লগইন ফরমে প্রতিষ্ঠানের এমপিও ব্যবস্থাপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। ইউজার আইডির ধরণ: mpo_eiin নম্বার। এখানে mpo এর পর আনডারস্কোর এবং eiin এর স্থলে প্রতিষ্ঠানের ছয় ডিজিট এর EIIN নাম্বার লিখতে হয়।
৩. তিনটি মডিউল থেকে HRM, IMS, এবং MPO থেকে HRM এ প্রবেশ করুন।
৪. কনট্রোল প্যানেল থেকে ’শিক্ষক রেজিস্ট্রশন অনুমোদন’ বাটন নির্বাচন করুন।
৫. দাখিলকৃত আবেদনগুলো থেকে যার আবেদন অনুমোদন করতে চান তার বাম পাশের এডিট আইকনে ক্লিক করে সাবমিটকৃত তথ্যগুলো যাচাই করুন।

আবেদনের তথ্য ঠিক থাকলে Approve এবং ঠিক না থাকলে Reject বাটনে ক্লিক করুন। আবেদন একবার রিজেক্ট হলে একই তথ্য দিয়ে পুনরায় আবেদন করা সম্ভব না। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন সাবমিট করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক MPO HRM আবেদন অনুমোদন হলে apps.emis.gov.bd সাইটে প্রবেশ করে Teacher Registration Status অপশন থেকে অনুমোদন এর অবস্থা জানা যাবে। আবেদন অনুমোদন হলে পরবর্তীতে নতুন এমপিও আবেদন করার জন্য উপযুক্ত হবেন।
অনলাইন এমপিও আবেদন ফরম পূরণ
HRM নিবন্ধন অনুমোদন হয়ে গেলে নতুন এমপিও আবেদন এর ১০% কাজ ইতমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। বাকী ৯০% কাজের প্রক্রিয়া বিস্তারিত দেখাবো এবার। অনলাইনে আবেদন শুরু করার পূর্বে আরও একবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো চেকলিস্ট অনুসারে সাজিয়ে নিন এবং অরিজিনাল কপি স্ক্যান করে কম্পিউটারে একটি ফোল্ডারে নাম দিয়ে সেভ করে রাখুন।
DSHE MPO Application জমা দেওয়ার জন্য এই পর্যায়ে যে কয়টি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে-
১. EMIS MPO Portal এক্সেস
২. এইচআরএম নিবন্ধিত শিক্ষকের তথ্য অনুসন্ধান
৩. এমপিও আবেদন এর ধাপ সমূহ পূরণ
৪. ফাইল আপলোড ও চূড়ান্ত
EMIS MPO Portal এক্সেস

ইএমআইস লগইন: বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এর অনলাইন এমপিও আবেদন জমা দেওয়ার জন্য এইচআরএম অনুমোদন এর মত EMIS Login পেইজে প্রবেশ করুন। উপরের ছবির মত লগইন পেইজ আসবে।
এখানে ইউজার আইডি হিসেবে mpo_EIIN নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে সংগ্রহ করে নিবেন। কোনো কারনে পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে মাউশি ইএমআইএস কর্তৃপক্ষ থেকে পাসওয়ার্ড রিসেট করে নিতে পারেন।
এমপিও মডিউল এক্সেস: ক্রেডেনশিয়াল ঠিক থাকলে ব্রাউজারে নিচের ছবির মত ৩টি মডিউল আসবে। সেখান থেকে MPO – Monthly Pay Order-এ প্রবেশ করুন।

নতুন এমপিও (New MPO): মাসিক পে-মেন্ট অর্ডার অনলাইন আবেদন কনট্রোল প্যানেল থেকে নতুন এমপিও (New MPO) অপশন নির্বাচন করলে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আবেদন এর তথ্য এন্ট্রি
মোট ০৬ টি ধাপে নতুন এমপিও আবেদন এর তথ্যগুলো এন্ট্রি দিতে হবে। এখানের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর। অসাবধানতা বসত কোনো ভুল তথ্য দিলে খুব বাজেভাবে ফেঁসে যেতে পারেন। তাই সতর্কতা অবলম্বন করুন।
ধাপ-১: সাধারণ তথ্য ও ব্যক্তিগত তথ্য এন্ট্রি
এই অংশে প্রথমে এমপিও প্রত্যাশি শিক্ষক বা কর্মচারীর তথ্য সিলেক্ট করতে হবে। সাধারণ তথ্যে অংশে শিক্ষক-কর্মচারী বক্সে পাশে সার্চ আইকনে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এইচআরএম নিবন্ধনকৃত শিক্ষক বা কর্মচারীদের তালিকা প্রদর্শিত হবে।
সেখান থেকে যে শিক্ষক বা কর্মচারীর নতুন এমপিও আবেদন করবেন তার নামের পাশে সিলেক্ট লেখার উপর ক্লিক করলে HRM নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তথ্যগুলো সব সয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যাবে।

সাধারণ তথ্যে পূরণ হওয়া তথ্যগুলো মিলিয়ে নিবেন। শিক্ষক-কর্মচারীর নাম, এমপিও প্রতিষ্ঠানের নাম, এমপিও প্রতিষ্ঠান স্তর, এমপিও কোড, আবেদনকারীর জেলা ও থানা, আবেদনের প্রকার । যদিও এগুলো অটো আসবে তারপরও অধিকতর সতর্কতার স্বার্থে আবারও চেক করে নেওয়া উচিত।
ব্যক্তিগত তথ্য অংশে আবেদনকারীর নাম (ইংরেজিতে ও বাংলায়), পিতা ও মাতার নাম ইংরেজিতে থাকবে তবে বাংলায় লিখে দিতে হবে। এছাড়াও জন্মতারিখ, লিঙ্গ, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এড্রেস মিলিয়ে দেখবেন ঠিক আছে কিনা।
আবেদনকারীর জেলা ও ছবিসহ উল্লেখিত সকল তথ্য কয়েকবার যাচাই করে পরের ধাপে যাওয়ার জন্য ‘Next’ বাটনে ক্লিক করুন। পরের পাতায় গেলে প্রথম পাতার তথ্যগুলো অটোসেভ হয়ে যাবে। অথবা আপনি আবেদনটি সেভ করে পরে কাজ করতে চাইলে উপরে ‘Save as Draft’ বাটনে ক্লিক করে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।
ধাপ-২: এনটিআরসিএ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা তথ্য এন্ট্রি

অনলাইন নতুন এমপিও আবেদন এর দ্বিতীয় ধাপে আবেদনকারীর এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা উত্তীর্ণ সংক্রান্ত তথ্য এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রি দিতে হবে।
আবেদনকারী এনটিআরসিএ উত্তীর্ণ হলে হ্যাঁ আর নাহলে না রেডিও বাটনে ক্লিক করুন। হ্যাঁ হলে এনটিআরসিএ এর সাক্ষাৎকারের তারিখ, রোল নম্বর, পাশের বছর, ব্যাচ নম্বর, বিষয় ও পদবি সঠিকভাবে এন্ট্রি করুন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা অংশে প্রার্থীর একাডেমিক তথ্যগুলো এন্ট্রি করতে হবে। প্রথমে এসএসসি, এরপর এইচএসসি পরে স্নাতক এভাবে ক্রমান্বয়ে উচ্চতর ডিগ্রীগুলো যোগ করুন। একাডেমিক তথ্য যোগ করার জন্য ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা’ লেখার নিচে যোগ চিহ্নিত আইকনে ক্লিক করুন।

পরীক্ষার নাম, রোল নম্বর, সেশন/শিক্ষাবর্ষ, পাশের বছর, বোর্ড / বিশ্ববিদ্যালয়, ফলাফল প্রকাশের তারিখ, গ্রুপ, ফলাফলের ধরন, বিভাগ/শ্রেণি/গ্রেড, প্রাপ্ত নম্বর/সিজিপিএ সনদ অনুযায়ী ইনপুট দিন।
নির্ধারিত ফিল্ডগুলো পূরণ করে সেভ করার জন্য সংরক্ষণ করুন বাটনে ক্লিক করলে ডাটাগুলো যোগ হয়ে যাবে। এভাবে ধাপে ধাপে সবগুলো এড করুন।
এভাবে কাঙ্খিত তথ্যগুলো ধাপে ধাপে এন্ট্রি করে সবগুলো ধাপ শেষ করুন। ফাইলগুলো এটাচ করে ফাইল সেন্ড করে দিন।
ধাপ-৩: পদবি, বিষয়, পেশাগত তথ্য, কমিটি ও নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য
এমপিও আবেদন এর এই ধাপটিও অত্যন্ত জরুরি ও সেনসেটিভ। এখানে নতুন শিক্ষকের বেতন ভাতাদি ও এমপিও শীটে প্রদর্শিত তথ্যগুলো উল্লেখ করা হবে। তাই, অত্যন্ত সতর্কভাবে ডাটাগুলো দিন এবং কয়েকবার যাচাই করবেন।
প্রথমেই, প্রত্যাশিত পদবি হিসেবে যে পদে এমপিওভুক্ত হতে চান সেটি নির্বাচন করবেন। প্রশাসনিক পদের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক বা সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রবেশ প্রর্যায়ে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক এবং কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদটি নির্বাচন করুন।

পদবির স্ট্যাটাস: আপনার নিয়োগ কোন ধরণের সেটি অনুযায়ী পদবি স্টাটাস দিতে হবে। নিয়মিত নিয়োগ হলে ‘Regular’, শাখায় নিয়োগ হলে ‘Sectional’, উদ্বৃত্ত হিসেবে নিয়োগ হলে ‘Surplus’, দ্বিতীয় শিফট এর জন্য নিয়োগ হলে ‘2nd Shift’ আর তৃতীয় শিক্ষক হলে ‘3rd Teacher’ নির্বাচন করুন।
সঠিক পদবি স্টাটাস না দিলে এমপিওভুক্তিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে তথ্য নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন।
প্রত্যাশিত বিষয়: এমপিও শীটে আপনার পদবির পাশে কোন বিষয় লেখা হবে সেটি নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যাশিত বিষয় এর ঘরে আপনার নিয়োগ এর সময় প্রাপ্ত বিষয় বা শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা এবং গণবিজ্ঞপ্তির রিকুইজেশন ও সুপারিশপত্রের সাথে মিলিয়ে সঠিক বিষয়টি ঠিক করুন।
শুধুমাত্র সহকারী শিক্ষক, ইন্সট্রাক্টর, প্রভাষক ও ডেমোন্সট্রেটর এর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বিষয়ে নির্দিষ্ট নাম দিতে হবে। প্রশাসনিক পদ ও কর্মচারী পদে এখানে প্রযোজ্য নয় বা Not Applicable সিলেক্ট করবেন।
প্রত্যাশিত পে-কোড: আবেদনকারী কত ধাপে অর্থ্যাৎ জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুসারে কোন গ্রেড এর কোন ধাপে বেতন-ভাতা পাবে সেটি ঠিক করার জন্য প্রত্যাশিত গ্রেড এর বক্সে সঠিক পে-কোড এবং প্রত্যাশিত গ্রেডের ধাপ বক্সে সঠিক ধাপটি সিলেক্ট করুন।
বিএড ডিগ্রীধারী সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বেতন গ্রেড-১০ (১৬০০০) আর বিএড না থাকলে ১১ (১২৫০০) এবং তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ক্ষেত্রে-১৬ (৯৩০০) এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন গ্রেড হবে-২০ (৮২৫০); বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিত হয়ে এটি এন্ট্রি দিবেন।
পেশাগত তথ্য: এই সেকশনটি পিডিএস এবং এইচআরএম-এ প্রদত্ত অনুযায়ী পূরণ হবে। এরপরও প্রদর্শিত তথ্যগুলো যেমন- পদবি, প্রতিষ্ঠানের স্তর, বিষয়, যোগদানের তারিখ, ব্যাংকের নাম ও শাখা ঠিক আছে কিনা যাচাই করে সঠিক থাকলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ইংরেজিতে টাইম করবেন।
কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে শিক্ষকদের পিডিএস নিবন্ধন ও আপডেট পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে নিতে হবে। নাহলে, তথ্যগত গড়মিলের কারণের ফাইল আটকে যেতে পারে অথবা বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এসএমসি অথবা জিবি: নিন্ম মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) আর উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ক্ষেত্রে গভর্ণিং বডি (জিবি) ধরণ, নিয়োগকালীন কমিটি এবং বর্তমান কমিটির মেয়াদ এন্ট্রি করতে হবে।

এখানে অ্যাাপয়েন্টমেন্টাল জিবি / এসএমসি বলতে বোঝাচ্ছে নিয়োগ এর সময় কমিটি ধরণ এবং তার কার্যকাল। এই বিষয়ে অনেকে কনফিউশনে থাকেন। ব্যাপারটি বুঝিয়ে বলছি। মনে করুন, আপনার নিয়োগ যে কমিটিতে হয়েছে সেটি বর্তমানে মেয়াদ শেষ হয়েছে গেছে এবং তাদের মেয়াদে আপনি এমপিও আবেদন সাবমিট করতে পারেন নি।
এই জন্য আপনার নিয়োগ কালীন ম্যানেজিং কমিটির ধরণ ও কার্যকাল এন্ট্রি দেওয়া আবশ্যক। দুটো এক হয়ে পরিচালনা পর্ষদ মেয়াদ একই দিবেন আর ধরণ একই দিবেন।
নিয়োগ: নিয়োগ পরীক্ষার তারিখটি লিখতে হবে। তবে, এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা দিলে যে দিন নিবন্ধর পরীক্ষা বা নিয়োগ নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সে তারিখটি দিবেন। আর আবেদনকারীর সংখ্যা ‘১’ দিয়ে দিতে পারেন।
তবে, কমিটি নিয়োগ এর ক্ষেত্রে যেহেতু আবেদনকারীর সঠিক সংখ্যা জানা থাকে তাই সেখানে কতজন প্রার্থী আপনার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে সেটি লিখুন।
নিয়োগ এর তারিখ ফিল্ডে যেদিন নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হয়েছে সেটি লিখুন এবং প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ স্বীকৃতির ঘরে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক একাডেমিক স্বীকৃতির মেয়াদ কত তারিখ পর্যন্ত আছে সেটি লিখুন।
তথ্যগুলো কয়েকবার পুনরায় যাচাই করুন। বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব নম্বর। সব ঠিকঠাক থাকলে ‘Next’ বাটনে ক্লিক করে পরের ধাপে অগ্রসর হোন।
ধাপ-৪: নারী কোটা, বিজ্ঞাপণ, রেজুলেশন ও নিয়োগ প্রতিনিধি সংক্রান্ত তথ্য
এই ধাপে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে নারী কোটা সংক্রান্ত তথ্য, সংবাদপত্রে এবং ওয়েবসাইটে রিকুইজিশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির তথ্য ও পত্রিকার নাম, নিয়োগ সংক্রান্ত ম্যানেজিং কমিটির সভার রেজুলেশন এবং মাউশি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ এর প্রতিনিধি সংক্রান্ত তথ্য যোগ করতে হবে।
নারী কোটা

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে মহিলা শতাংশ কত, বর্তমানে কতটি মহিল কোটা আছে, বর্তমান এম.পি.ও শিক্ষক কতজন এবং মোট এমপিও শিক্ষক কতজন সেটি উল্লেখ করুন। যদিও বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগে মহিলা কোটা তুলে দেওয়া হয়েছে তারপরও তথ্যগুলো সঠিকভাবে এন্ট্রি করলে আবেদনটি সয়ংসম্পূর্ণ হবে।
বিজ্ঞাপন (সংবাদপত্র)

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সংখ্যা ঘরে মোট কয়টি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল সেটি লিখুন। তবে গণবিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে ১ টি দিলেই হবে। সাধারণ এই ধরণের বিজ্ঞপ্তি এনটিআরসিএ ওয়েবসাইট এবং যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
যতগুলো বিজ্ঞাপণ সংখ্যা দিবেন ততগুলো বিজ্ঞপ্তির তথ্য এড করতে হবে। এর জন্য ‘+ বিজ্ঞাপন’ বাটনে ক্লিক করলে ফরম আসবে সেখানে সংবাদপত্রের নাম সিলেক্ট করুন। এখানে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার নাম দেয়া থাকবে। সাধারণত এইসব পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।
যদি পত্রিকায় নামটি না পান বা স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় সেক্ষেত্রে Other নির্বাচন করলে নাম ইনপুট দেওয়ার ফিল্ড আসবে সেখানে নাম লিখে সংবাদপত্রের ধরণ জাতীয় বা স্থানীয় (Local or National) সিলেক্ট করুন এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ লিখুন।
প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো দিয়ে যোগ করুন বাটনে ক্লিক করলে তথ্যগুলো সেভ হয়ে যাবে। এভাবে ধাপে ধাপে সবগুলো বিজ্ঞপ্তির তথ্য যোগ করে নিন।
রেজুলেশন (সভার অধিবেশন)

আবেদনকৃত পদের নিয়োগ, যোগদান ও এমপিও সংক্রান্ত যতগুলো সভা হয়েছে সেগুলোর তথ্য একে একে এখানে ইনপুট দিতে হবে। কমিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫টি বা তার বেশি আর এনটিআরসিএ নিয়োগ এর ক্ষেত্রে ৩টি বা বেশি প্রয়োজন হতে পারে।
বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের নতুন এমপিও আবেদন এর সাথে কি রেজুলেশন লাগবে তা এখানে ইতমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সভার রেজুলেশন রেজিষ্টার স্ক্যান করে নিন এবং বই অনুযায়ী তথ্য এন্ট্রি করুন।
ডিফল্টভাবে নতুন এমপিওর প্রয়োজনীয় রেজুলেশন এর নামগুলো লেখা থাকবে। আপনার জন্য প্রযোজ্য রেজুলেশন এর নামের বাম পাশের এডিট আইকনে ক্লিক করে ধরণ, তারিখ, সভার নম্বর, এবং বিবরণ লিখে যোগ করুন বাটনে ক্লিক করলে সংরক্ষণ হয়ে যাবে।
এভাবে সবগুলো যোগ করুন। আপনার জন্য প্রযোজ্য নয় এমন রেজুলেশন এর নামের পাশের ডিলিট বাটনে ক্লিক করে তালিকা থেকে সরিয়ে দিন।
নিয়োগ প্রতিনিধি

প্রশাসনিক ও কর্মচারী নিয়োগ এর ক্ষেত্রে মাউশি মহাপরিচালক এর প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক এর প্রতিনিধি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রতিনিধি নিযুক্ত করা থাকে। তাদের তথ্য এখানে এড করতে হবে।
বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির তথ্য যোগ করার জন্য ‘+ প্রতিনিধি তথ্য’ বাটনে ক্লিক করলে একটি পপ-আপ ফরম আসবে সেখানে প্রতিনিধির প্রকার, নাম ও পদ, আইডি ও ফোন নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম, ও মন্তব্য তথ্য এন্ট্রি করে যোগ করুন বাটনে ক্লিক করলে তথ্যটি সেভ হয়ে যাবে।
তবে, এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্তদের নতুন এমপিও আবেদন এর ক্ষেত্রে এই সেকশনটি প্রযোজ্য নয়। এটি খালি রেখেই পরের ধাপে এগিয়ে যেতে পারেন।
ধাপ-৫: প্রার্থীর মেধা তালিকা, মামলা বা অভিযোগ, ও পাবলিক পরীক্ষা ফলাফলের তথ্য
নতুন এমপিও আবেদন এর পঞ্চম ধাপে নিয়োগকৃত শিক্ষক বা কর্মচারীর মেধা তালিকা সংক্রান্ত তথ্য, সংশ্লিষ্ট পদে মামলা বা অভিযোগ আছে কি না এবং জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা (পাবলিক) পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য দিতে হয়।
মেধা তালিকা

এনটিআরসিএ উত্তীর্ণ ও সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর ক্ষেত্রে শুধু সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের মেধা তালিকা এন্ট্রি করতে হবে। এক্ষেত্রে নাম, এনটিআরসিএ ফলাফল, জাতীয় মেধাক্রম, এনটিআরসিএ উত্তীর্ণ বছর এবং মন্তব্য এর ঘরে সুপারিশপ্রাপ্ত লিখে সেভ করলে হবে।
আর কমিটি কর্তৃক নিয়োগ এর ক্ষেত্রে যতজন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে সকলের জন্য নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শীট অনুযায়ী এন্ট্রি দিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মন্তব্যের ঘরে ’১ম, নির্বাচিত ও নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্ত’ লিখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট পদ সংক্রান্ত তথ্য ও পাবলিক পরীক্ষা রেজাল্ট

নিয়োগকৃত পদে কোনো মামলা বা অভিযোগ না থাকলে এখানে কিছু করার দরকার নেই। আর থাকলে টিক চিহ্ন দিবেন এবং মামলার ক্ষেত্রে সংখ্যা, মামলা নম্বর, মামলা তারিখ, মামলা অবস্থা লিখতে হবে।
পাবলিক পরীক্ষা ফলাফল সমূহ অটোভাবে IMS জরিপ থেকে আসবে। তাই এটি সংযোজন বা সংশোধন অথবা বাতিল করার সুযোগ নেই। ইনপুটকৃত তথ্য যাচাই করে পরের ধাপে প্রবেশ করুন।
ধাপ-৬: ডকুমেন্ট আপলোড এবং চূড়ান্ত সাবমিট
এই ধাপটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল ও কলেজ শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিও আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানেই নতুন এমপিও আবেদনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো আপলোড করা হবে যা কর্তৃপক্ষ একটি একটি করে যাচাই করে ফাইল আপলোড করবেন।
এখানকার কোন ভুল আপনার আবেদনকে বিলম্বিত করতে পারে অথবা এমপিও প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত করতে পারে যা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই অত্যন্ত সতর্কতা ও বিচক্ষণতার সাথে প্রত্যেকটি ফাইল আপলোড করবেন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তালিকা
এই পোস্টের প্রথম দিকে আমরা নতুন এমপিও আবেদন এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তালিকা ছকে উল্লেখ করেছি। তাও, আপনাদের সুবিদার্থে নিচের ছবিতে এমপিও পোর্টালের অনুরূপ তালিকা দেওয়া হলো।

ডকুমেন্ট প্রস্তুত সংক্রান্ত নোট
একপাতার ডকুমেন্টগুলোকেএকপাতার ডকুমেন্টগুলোকে JPG ফরমেটে সেভ করবেন আর একাধিক পাতার ডকুমেন্ট পিডিএফ আকারে সেভ করবেন। তবে প্রত্যেকটি ফাইল এর সাইজ ৫০০ থেকে ১০০০ কেবির মধ্যে যেন থাকে। ৫০০ কেবির নিচে হলে ডকুমেন্টের কোয়ালিটি নষ্ট হবে আর ১০০০ কেবির বেশি হলে আপলোড করতে সমস্যা হবে এমনকি এই সিস্টেমটি দুই এমবির বেশি কোন ফাইল আপলোড করতে দেয় না।
ডকুমেন্ট আপলোড
সবগুলো ডকুমেন্ট চেক লিস্ট আকারে একটি একটি করে স্ক্যান করে কম্পিউটারে একটি নির্ধারিত ফোল্ডারের নাম দিয়ে সেভ করবেন। ফাইল এর নাম দেওয়ার সময় ডকুমেন্ট এর নাম অনুযায়ী দিবেন তাহলে খুঁজে পেতে সহজ হবে।
এমপিও আবেদন এ আপনার প্রযোজ্য সংযুক্তি আপলোড করার জন্য তালিকায় প্রদর্শিত নামের উপর ক্লিক করুন। নিচের ছবির মত একটি পপ-আপ আপলোড ফরম আসবে।

সংযুক্ত ফাইল নামের পাশের ফাইল নির্বাচন বাটনে ক্লিক করে কম্পিউটারে সেভ থাকার ফাইলটি সিলেক্ট করে ওকে দিলে ফাইল সংযুক্ত হবে। সংরক্ষণ করুন বাটনে ক্লিক করলে আপলোড হয়ে যাবে।
ফাইল আপলোড কনফার্ম হওয়ার জন্য সংযুক্ত কলামের চেক বক্সে টিক চিহ্ন দেখা যাবে। অন্যথায় ফাইলটি পুনরায় আপলোড করতে হবে। এভাবে একটি একটি করে প্রযোজ্য সবগুলো ফাইল আপলোড করুন।
আপলোডকৃত ফাইলগুলো সঠিক স্থানে আপলোড হয়েছি কিনা এবং সঠিক ফাইল আপলোড হয়েছে কিনা তা কয়েকবার ভ্যারিফাই করুন। কারণ ভুল ফাইল আপলোড করলে বা কোনো ফাইল মিসিং হলে এমপিও হতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
ফাইনাল সাবমিট
আমরা নতুন এমপিও আবেদন একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। চূড়ান্ত সাবমিট এর আগে ফাইলটি আরো একবার ড্রাফ্ট সেভ করে নিবেন এবং কয়েকবার যাচাই করবেন। প্রত্যেকটি ধাপের তথ্যগুলো পুনরায় চেক করার পর চূড়ান্ত সাবমিটের প্রস্তুতি নিবেন।

ষষ্ঠ ধাপের পাতাটিতে উল্লেখিত ডকুমেন্টগুলো আপলোড করার পর স্ক্রল করে নিচের দিকে চলে আসবেন। এখানে মন্তব্য নামের ফিল্ডে নতুন এমপিও আবেদনের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের একটি মন্তব্য লিখতে হবে।
নতুন এমপিও আবেদন এর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মন্তব্য এর কয়েকটি উদাহরণ:
১. নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক জনাব মহরম আলী এর এমপিওভুক্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ অগ্রহায়ণ করা হলো;
২. সহকারী শিক্ষক জনাব সলিমুল্লাহ এর এমপিওভুক্তির জন্য অগ্রহায়ণ করা হলো।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আবারও উপরের দিকে চলে যাবেন এবং সাবমিট বাটনে ক্লিক করে নতুন এমপিও ভুক্তির আবেদনটি প্রেরণ করবেন। এটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের প্যানেলে চলে যাবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের বিবেচনা সাপেক্ষে অগ্রহায়ণ হতে থাকবে।
সতর্কতা
১. প্রতিষ্ঠানের হেড থেকে নতুন এমপিও ফাইল সাবমিট করার পর সেটি আর সংশোধন, সংযোজন, বা বিয়োজন এর সুযোগ নেই। তাই প্রত্যেকটি তথ্য ও আপলোডকৃত ডকুমেন্ট কয়েকবার যাচাই বাছাই করে প্রেরণ করবেন।
২. যে কোন প্রকার ভুল তথ্যের জন্য এমপি আবেদন বাতিল হতে পারে অথবা বেতন ভাতা দিয়ে প্রাপ্তিতে বিলম্ব সৃষ্টি হতে পারে। তাই সঠিক তথ্য এন্ট্রি দিয়ে ফাইল সাবমিট করবেন।
৩. ব্যাংক একাউন্ট সঠিক আছে কিনা তা ব্যাংক হিসাব বিবরণী এবং ব্যাংক সনদের সাথে মিলিয়ে দেখবেন। ভুল ব্যাংক একাউন্ট দিলে এমপিও সংশোধন করা লাগতে পারে যা পরবর্তীতে বিড়ম্বনার সৃষ্টি করবে।
৪. একটি এন আইডি দিয়ে শুধুমাত্র একবারই এইচআরএম রেজিস্ট্রেশন করা যায় তাই সকল প্রকার ভুল-ভ্রান্তি এড়িয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে ফাইল সাবমিট না করলে জটিলতা সৃষ্টি হবে।
৫. শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজস্ব আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে নিজেই আবেদন সাবমিট করবেন। তৃতীয় পক্ষ বা তৃতীয় কোন ব্যক্তি দিয়ে ফাইল সাবমিট করালে সেটি কয়েকবার যাচাই করবেন এবং ফাইল সাবমিট হয়ে যাওয়ার পর আপনার এমপিও ইএমআইএস মডিউলের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে নিবেন। না হলে তথ্য হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থাকতে পারে।
আশা করছি বিদ্যাশিখি এর এই আয়োজন আপনাকে নতুন এমপিও আবেদন ফাইল প্রেরণে সহযোগিতা করবে এবং আপনি এটি ফলো করে নিজের এমপিও ফাইল নিজেই প্রস্তুত করতে পারবেন। যদি কোন সহযোগিতা প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন, ফেসবুক পেজে মেসেজ করুন অথবা সরাসরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
নতুন এমপিও আবেদন সংক্রান্ত কিছু জরুরি প্রশ্নোত্তর (FAQ’s)
২০২৬ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের বয়সসীমা কত?
উত্তর: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারী পদে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। তবে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সমপদে বা উচ্চতর পদে আবেদনের জন্য এই বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।
এমপিও আবেদন কি মাসে মাসে করা যায়?
উত্তর: না। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সকল প্রকার এমপিও আবেদন করার সময়সীমা প্রতি বেজোড় মাসের (জানুয়ারি, মার্চ, মে, জুলাই, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর) শেষ তারিখ পর্যন্ত। নির্দিষ্ট সময়ের পর সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে দেয়।
নতুন এমপিও আবেদনে কি মূল (Original) সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি দিতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকল একাডেমিক সনদ, এনটিআরসিএ সনদ এবং নিয়োগ-যোগদানপত্রের মূল কপি রঙিন স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। ফটোকপি বা অস্পষ্ট স্ক্যান কপি দিলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যায়।
পুলিশ ভেরিফিকেশন (V-Roll) সম্পন্ন না হলে কি এমপিও আবেদন করা যাবে?
উত্তর: নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পজিটিভ হওয়া আবশ্যক। তবে এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সাময়িক সময়ের জন্য ভি-রোল ফরম জমার কপি দিয়ে আবেদনের সুযোগ থাকতে পারে, যা মাউশির তৎকালীন নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে।
বিনা অনুমতিতে কতদিন অনুপস্থিত থাকলে এমপিও বাতিল হতে পারে?
উত্তর: নতুন নীতিমালা অনুসারে, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী বিনা অনুমতিতে একটানা ৬০ দিন বা তার বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার এমপিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পদটি শূন্য ঘোষণা করা হবে।
ইএমআইএস (EMIS) পোর্টালে পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেললে করণীয় কী?
উত্তর: যদি প্রতিষ্ঠান প্রধানের পাসওয়ার্ড হারিয়ে যায়, তবে EMIS ওয়েবসাইটের ‘Forgot Password’ অপশনে গিয়ে ইমেইল বা মোবাইলের মাধ্যমে সেটি রিসেট করা যাবে। সফল না হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক (ডিডি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করে পাসওয়ার্ড রিসেট করে নিতে হবে।
বদলি হওয়া শিক্ষকরা কি নতুন এমপিও আবেদন করবেন?
উত্তর: না। বদলি হওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ‘নতুন এমপিও’ নয়, বরং ‘ইনডেক্স ট্রান্সফার’ বা ‘কর্মস্থল পরিবর্তন’ মডিউলের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। প্রথম যোগদানের ২ বছর পূর্ণ হওয়ার পর শিক্ষকরা বদলির জন্য যোগ্য বিবেচিত হন।
এমপিও আবেদনের শেষ তারিখ কবে?
প্রতি বেজোড় মাসের শেষ তারিখ অর্থ্যাৎ ৩১ জানুয়ারি, ৩১ মার্চ, ৩১ মে, ৩১ জুলাই, ৩০ সেপ্টেম্বর, ৩০ নভেম্বর এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান থেকে ফাইল পাঠাতে হবে।
