এই কিউট কুকুরটা আগে নিউজ ফিরে দেখছেন না? ভালো করে দেখেন তো, চেনা চেনা লাগে না? এই কিউট কুকুরটা কিন্তু বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে আমাদের নিউজ ফিরে দেখে। এটা কিন্তু জানোয়ার না, কুকুর না—এটা একটা মিম। আর এই মিমটার নাম হচ্ছে ডোজ।
২০১৩ সালের, অ্যাডভান্সড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জ্যাকসন পামার এবং আইবিএমের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিলি মার্কাস—দুজন মিলে মজা করে এই মিমির নাম দিয়ে একটা ক্রিপ্টোকারেন্সি খুলে। এরপর বাকিটা ইতিহাস। মাত্র সেভেনটি টু আওয়ার্সের মধ্যে এটার ভ্যালু বেড়ে যায়।
খেলা এখনো শেষ হয়নি। সাল ২০২১—ক্রিপ্টো অরেঞ্জের দুনিয়ায় একটা হিস্টোরিক্যাল ইভেন্ট হয়। আর সেই ইভেন্টের ব্যাপারে কথা বলার আগে আমি ছোট্ট একটু ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যাপারে সামান্য বলি। তাহলে ডিজিটাল কারেন্সি আর রেগুলার কারেন্সি—যেমন টাকা, ইউএস ডলার—এর মধ্যে পার্থক্যটা কী?
একচুয়ালি পার্থক্য অনেক আছে। ফার্স্ট অব অল, আমরা যে পেপার মানিটা ইউজ করি, সেটাকে বলে ফিয়াট মানি। অর্থাৎ, এটার কোনো ইন্টারনাল ভ্যালু নাই, যেমন গোল্ড বা সিলভারের থাকে। টাকা আসলে জাস্ট পেপার—এর ভ্যালু আছে কারণ আমরা কালেকটিভলি মনে করি যে এর ভ্যালু আছে।
যদি আমরা সবাই মিলে মনে করি যে টাকার বা পেপার মানির কোনো ভ্যালু নাই, তাহলে এটা হয়ে যাবে ফেক। পেপার মানি বা পেঁয়াজ মানি কন্ট্রোল করে সরকার, যেমন বাংলাদেশে টাকার সাপ্লাই কন্ট্রোল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেরকম ইউএস ডলারে কন্ট্রোল করে ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ।
গভর্নমেন্ট চাইলে টাকার সাপ্লাই বাড়িয়ে দিতে পারে, সেক্ষেত্রে টাকার ভ্যালু কমে যাবে এবং ইনফ্লেশন হবে। ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কোনো সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট নাই, এটা কমপ্লিটলি ডেসেন্ট্রালাইজড। গভর্নমেন্ট কোনো রকম ইন্টারভিন করতে পারবে না।
মানে, গভর্নমেন্ট চাইলেও ক্রিপ্টোকারেন্সির সাপ্লাই বাড়াতেও পারবে না, কমাতেও পারবে না। আর একটা সুবিধা হলো, ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠানোর জন্য কোনো মিডিয়াম বা এজেন্সি প্রয়োজন পড়ে না। আমরা একজন আরেকজনকে ডাইরেক্টলি ট্রান্সফার করতে পারি।
যেমন ধরুন বিটকয়েন—আপনি দুনিয়ার যে প্রান্তেই থাকেন না কেন, উগান্ডায় থাকেন বা পর্তুগালে থাকেন—ডাজেন ম্যাটার। আপনি এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পাঠিয়ে দিতে পারবেন, কোনো থার্ড পার্টি ছাড়া।
ভাই, আমি কিন্তু কোনো ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার না। আমি জাস্ট এডুকেট করার জন্য এই ভিডিওটা বানাইছি। আমার কথা শুনে টুনি মনে করেন যে বাড়িটা বেচে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। কারণ, ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশে ইলিগ্যাল।
আর এই সেক্টরটা অনেক বেশি রিস্কি ইনভেস্টমেন্ট। তবে এক মহাজ্ঞানী একটা কথা বলেছিল… কী জানি বলেছিল! তো স্ক্রিনে দেখেন, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে যদি আপনি বিটকয়েনে জাস্ট ১০০০ টাকা ইনভেস্ট করতেন—বাই দ্য ওয়ে, এটা কিন্তু রিয়েল টাকা, ফেক না—আর ভয় পাবেন না, আমি এবার ছিঁড়বো না, আই প্রমিস!
যাই হোক, ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে সেটা হয়ে যেত ৮০০০ টাকা, মানে ৮ গুণ। আর আপনি যদি ১০০০ টাকা ইনভেস্ট করতেন, সেটা হয়ে যেত ৩১০০০ টাকা, মানে ৩১ গুণ। আর ডোজ কয়েনে ড্রেস পরলে সেটা হয়ে যেত ৩০০০০০ টাকা।
তিনশো গুণ! ভাই, ১ বছরের মধ্যে বাড়ছে। ভাই বুঝতেছেন, সবকিছু একটা জোক নিয়ে শুরু হইছে। বিটকয়েন এত বেশি পপুলার, তাও বিটকয়েন থেকে ডোজ কয়েন ১ বছরের মধ্যে ৩০ গুণ বৃদ্ধি পাইছে।
এখন প্রশ্ন হলো—কিভাবে বাড়লো, কেন বাড়লো, আর এত কেন বাড়লো? সাল ২০২০, মে মাস—টিকটকের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়। “বিশ্বাসঘাতকতা মানিনা”—বেসিক্যালি ছেলেটা এখানে বোঝায়, টিকটকের যত ইউজার আছে, যেটা ৮০ কোটির মতো।
সবাই যদি ২৫ ডলারের ডোজ কয়েন কিনে, তাহলে ডোজ কয়েনকে ১ ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এবং যখন সেটা হবে, তখন সবাই অনেক বেশি টাকা বানাবে। এই ভিডিও দেওয়ার কারণে মাত্র ২ দিনের মধ্যে ডোজ কয়েনের ভ্যালু ৪৭% বেড়ে যায়।
বাট মাইন্ড—ডোজ কয়েন এজ আ ফ্লাইট নাও। সারা দুনিয়াতে এক্স্যাক্টলি ৫৯০২টা ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে, এবং প্রতিদিনই নতুন নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি এড হচ্ছে। তাহলে সব বাদ দিয়ে
সবাই এই ডোজকোনের পিছে কেন ছুটলো, এই বিষয়ে ইলন মাস্ক একটা ভালো কথা বলেছে।
টিকটকের ইনজেকশনে যে কেউই বানাতে পারে, যেমন ধরেন সহজ ঢাকার রাফায়েত ভাই। উনি যদি চান যে ‘জীবনমুখী’ নামে কোনো একটা কয়েন খুলতে, ‘জীবনমুখী কয়েন’ উনি চাইলেই খুলতে পারেন, কোনো সমস্যা নাই। তো এইভাবে করে ডোন্ট মাইন্ড, আর ফান রোস্টরা কিন্তু মজা করে জাস্ট এই কয়েনটা খুলেছিল।
টাকা বানানো এদের কোনো উদ্দেশ্যই ছিল না। অ্যাজ এ ম্যাটার অফ ফ্যাক্ট, ২০১৫ সালে বিলি মার্কাস তার সব ডোজ কয়েন সেল করে একটা ইউজড ওয়াশিং মেশিন কিনে। এখন ইমাজিন করুন, সেই সব ডোজ কয়েন্স যদি তিনি রেখে দিতেন, তাহলে আজকের ভ্যালু কত হয়ে দাঁড়াতো।
ডোজকোন এত জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণ হলো, এদের কমিউনিটি অনেক বেশি স্ট্রং। অন্যান্য কয়েনস যেগুলোকে বলা হয় ‘সুটীকর্মী’, এরা বেসিক্যালি পাল পাম্প অ্যান্ড ডাম্প করে। মানে প্রথমে অনেক বেশি হাইপ তুলে প্রাইসটা বৃদ্ধি করে, তারপর ইনিশিয়ালি যারা ইনভেস্ট করছিল তারা সব সেল করে একদম মার্কেট থেকে সব টাকা তুলে নেয়।
আর ভাই, ০০:০১ নাম শুনলে কী কী যে নাম! মমি ডোজ, ড্যাডি ডোজ, ট্রাংডোজ, ডোরেমন, ট্রাম্প কয়েন, পুটিন কয়েন—মানে কোনো কিছু বাদ রাখেনি। তো যাই হোক, যেটা বলছিলাম, ডোজ কয়েনের কমিউনিটিটা অনেক বেশি হুলসাম এবং অনেক বেশি স্ট্রং। Reddit-এ যদি কেউ কারো পোস্ট পছন্দ করতো, তো একজন আরেকজনকে টিপ হিসেবে ডোজ কয়েন দিতো।
২০১৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিকসে জামাইকান ববস্লে টিম কোয়ালিফাই করলেও টাকার অভাবে তারা অংশগ্রহণ করতে পারছিল না। ঠিক তখনই ১৯ জানুয়ারি ২০১৪ সালে ডোজকোন কমিউনিটি সবাই মিলে ৫০,০০০ ডলার ডোনেট করে, এই টিমকে ওই ইভেন্টে পার্টিসিপেট করতে হেল্প করে।
শুধু তাই না, ২০১৪ সালে ডোজকোন কমিউনিটি ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ডে উপলক্ষে কেনিয়াতে ৩০,০০০ ডলার ডোনেট করে, সেখানে অনেকগুলো কুয়া বানাতে সাহায্য করে এবং পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা করে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, ডোজকোন কমিউনিটি কত বেশি জোস।
এখন আপনি চিন্তা করতে পারেন, আচ্ছা ঠিক আছে, সবই বুঝলাম, তো তাই বলে এত বেশি দাম কেন পারলো? সাল ২০২০, ডোজকোনের প্রাইস তখন ৩৯ সেন্ট অথবা ৩৩ পয়সা। কোন এক ঠান্ডার মধ্যে ইলন মাস্ক টুইট করে, “ডোজ!” — just এটুকু। এর পরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডোজ কয়েনের প্রাইস বেড়ে যায় ২৫%।
এরপর Reddit-এর সবাই মিলে টিকে পান করা শুরু করলো এবং সবাই একসাথে বলা শুরু করলো — “শুধু মুন!” মানে এত দাম বাড়াতে হবে, যাতে করে একদম চাঁদে উঠে যায়। ৩ জানুয়ারি তোরি তোরি ওয়ান, এইটার প্রাইস ০.৩ সেন্ট থেকে ১ সেন্টে চলে আসে। ঠিক এক বছর আগে, যেটার দাম ছিল মাত্র ০.২ সেন্ট, ৩০ জানুয়ারিতে এসে সেটা ২৫০% বেড়ে ৪ সেন্টে চলে আসে।
ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে ইলন বাবাজি আবার তার টুইটারের দরবেশে হাজির হলেন এবং টুইট করলেন — “ডোজ কয়েন ইজ দ্য পিপলস ক্রিপ্টো।” এটা বলার পরে কে কাকে থামায়! ডোজ কয়েন সাথে সাথে ৩০% বৃদ্ধি পায় এবং ৮ ফেব্রুয়ারিতে এর প্রাইস ডাবল হয়ে ৮ সেন্টে চলে আসে।
তখন প্রশ্ন উঠে, ডোজ কয়েন কেন? বিটকয়েন তো ছিল! বিটকয়েন তো সব টুর্নামেন্টের বাপ। তো আমরা তো বিটকয়েনে লাফালাফি করতে পারতাম। লাফালাফি করে করে প্রাইসটা বাড়ায়ে দিতে পারতাম। সো, বিটকয়েন নিয়ে কেন লাফালাফি করলাম না?
বিটকয়েনের থেকে ডোজ কয়েনের হাইপ বেশি উঠার অনেক কারণ আছে। ফার্স্ট অফ অল, ডোজ কয়েনের মার্কেট ক্যাপ বিটকয়েনের থেকে অনেক ছোট। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস, টিকটক ভিডিওর কথা বলেছিলাম না যে ভিডিওটা ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল? ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগে, ডোজ কয়েনের মার্কেট ক্যাপ কত ছিল জানেন?
তখন বিটকয়েনের মার্কেট ক্যাপ ছিল $১৬৯ বিলিয়ন ডলার। তার মানে মার্কেট ক্যাপওয়াইজ বিটকয়েন ডোজকোনের থেকে ৫০০ গুণ বড় ছিল। আর যখন কোনো কিছুর মার্কেট ক্যাপ অনেক ছোট থাকে, সেটার প্রাইস ম্যানিপুলেট করা অনেক বেশি ইজিয়ার।
এখন এটা ছিল রোস্ট, কিন্তু কিছু কিছু দিক দিয়ে ডোজকোন বিটকয়েনের থেকে আগায় আছে। যেমন একটা বিটকয়েন ট্রানজেকশন কমপ্লিট করতে লাগে ১৭৪৮ কিলো ওয়ার্ক আওয়ার্স, যেখানে ১ লাখটা ভিসা কার্ডস ট্রানজেকশন করতে লাগে অনলি ১৪১ কিলো ওয়ার্ক আওয়ার্স। আর ডোজ কয়েনের একটা ট্রানজেকশন কমপ্লিট করতে লাগে মাত্র ০.১২ কিলো ওয়ার্ক আওয়ার্স।
বিটকয়েন কতটা এনার্জি কনজিউম করে সেটা বুঝানোর জন্য একটা এক্সামপল দেই — বাংলাদেশের পার ক্যাপিটা এনার্জি কনজাম্পশন হচ্ছে ৩২০ কিলো ওয়াট আওয়ার্স ইন ওয়ান ইয়ার। মানে আমরা ১ বছরে যেটা খরচ করি, সেই এনার্জি একটা বিটকয়েন ট্রানজেকশন করতে খরচ হয়!
সো সেদিক থেকে তুলনা করলে ডজ কয়েনে এনার্জি কনজাম্পশন অনেক অনেক কম। আবার বিটকয়েনের ব্লকটাইম হচ্ছে টেন মিনিটস, মানে মাইনারদের একটা ব্লক কমপ্লিট করতে ১০ মিনিট সময় লাগে। যেখানে ডজ কয়েনের ব্লকটাইম হচ্ছে মাত্র ওয়ান মিনিট। সো, টেকনিক্যালি ডজ কয়েন বিটকয়েন থেকে অনেক ফাস্টার, যদিও এটা অনেকটাই থিওরিটিক্যাল — প্র্যাকটিক্যালি অনেক বেশি টাইম লাগবে। নেভারদেলেস, ডজ কয়েন বিটকয়েনের থেকে অনেক বেশি ফাস্টার।
আচ্ছা, আরেকটা বিষয় হচ্ছে, বিটকয়েনে ট্রানজেকশন ফি হচ্ছে ২.৪৭ ডলার, যেখানে ডজ কয়েনে ট্রানজেকশন ফি হচ্ছে মাত্র ৪৩ সেন্ট। ডজ কয়েন অবশ্যই একটা ডিজার্ভিং অ্যাডভান্টেজ আছে। ডজ কয়েন হচ্ছে একটা ইনফ্লেশনারি অ্যাসেট, আর বিটকয়েন হচ্ছে একটা ডিফ্লেশনারি অ্যাসেট। অর্থাৎ বিটকয়েনের টোটাল সাপ্লাই, যেটা ২১ মিলিয়ন, সেটা ফিক্সড — এটা কখনো বাড়বে না।
বাট ডজ কয়েনের সাপ্লাইয়ের কোনো লিমিট নাই। প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন ডজ কয়েন নতুন প্রোডিউস হচ্ছে। এটার কারণে ডজ কয়েনের ভ্যালু দিনে দিনে কমতে থাকবে, যেটা বলে ইনফ্লেশন বা মুদ্রাস্ফীতি। তবে আরেকটা জিনিস আছে, যেটা কখনো মুদ্রাস্ফীতি হয় না এবং যেটার ভ্যালু খুবই নগণ্য — সেটা হচ্ছে লাইক বাটন। যদি এখন পর্যন্ত লাইক বাটনে ক্লিক না করে থাকেন, তাহলে করে ফেলেন। চট করে খুলে ফেলেন — বিলিভ মি, এটার প্রাইস হচ্ছে মাত্র ০.০০ টাকা। ওয়েট করছেন কেন?
ওকে, কিসে জানি কথা বলছিলাম… মার্ক জাকারবার্গ? ডজ কয়েনের প্রাইস বাড়লো কিভাবে? সো, ২০ এপ্রিল ২০২১, এলন মাস্ক টুইটারে ডজ কয়েন স্ট্যান্ডলি প্রমোট করা শুরু করল — “ডজ কয়েন, ডজ কয়েন!” এবং এটা দেখে মার্ক কিউবান সেও প্রমোট করা শুরু করল, সাপোর্ট করল। দেখলো আস্তে আস্তে সবাই শুরু করল — সেলিব্রিটি, ইউটিউবার, টিকটকাররা কেউ বাদ নেই।
সবার একটাই উদ্দেশ্য — ডজ কয়েনকে ১ ডলারে নিয়ে যেতে হবে। সব ব্রোকার অ্যাপ যেমন ইটোরো, জেমিনি, তারপর উইবুল — এরা সবাই ডজ কয়েনকে লিস্ট করা শুরু করল তাদের অ্যাপে। এবং দেখতে দেখতে ২০ এপ্রিল ডজ কয়েনের দাম বেড়ে যায় ৪০ সেন্ট। অনেক কোম্পানি আস্তে আস্তে ডজ কয়েনকে এক্সেপ্ট করা শুরু করল অ্যাজ অ্যা পেমেন্ট ম্যাথড।
এবং ফাইনালি, মে মাসে ডজ কয়েন সবচেয়ে হাইয়েস্ট রেকর্ড রিচ করল — ৮ মে ২০২১ সকাল ১১:০৮ মিনিটে ডজ কয়েনের দাম হয় ৭২ সেন্ট। জাস্ট উইকড! ১ বছর আগে ঠিক ঐ সময়ের সাথে যদি কম্পেয়ার করি — ২৭৬ পার্সেন্ট… একচুয়ালি ২৭৬ গুণ এটা বৃদ্ধি পায়। কেন? ম্যাজিক!
ভাই, এই সবকিছু একটা জোক থেকে শুরু হয়েছে! সবকিছুরই মনে হয় একটা ইতি টানতে হয়। ১৩ মে ২০২১ রাত ০৩:৩৬ মিনিটে এলন মাস্ক টুইট করল যে বিটকয়েন দিয়ে আর টেসলা কেনা যাবে না। আর ঠিক কয়েকদিন পরেই চায়না ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যান করে দেয়। মার্কেট প্যানিক করা শুরু করে এবং আস্তে আস্তে ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম কমতেই থাকে, কমতেই থাকে।
২৩ মে ২০২১ — ক্রিপ্টো মার্কেটের সবচেয়ে বড় ধস নামে। বিটকয়েন ৪৫ পার্সেন্ট কমে, ইথেরিয়াম কমে ৫৬ পার্সেন্ট, আর আমাদের ফেভারিট ডজ কয়েন কমে ৬১ পার্সেন্ট। এবং এখন পর্যন্ত মার্কেট স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে পারেনি। আবার দেখা যাক — হয়তোবা ফিউচারে আবার নরমাল হয়ে যেতে পারে।
তাছাড়া বলেছিলাম না যে এই মার্কেটে অনেক বেশি প্রিন্স আছে? তো যাই হোক, আজকের ভিডিওটা এখানেই শেষ করছি। ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্য কোনো টপিক নিয়ে যদি চান আমি ভিডিও বানাই, তাহলে প্লিজ কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।
