DeepSeek (ডিপসিক): আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স এর অতিরিক্ত সফলতার কারণে আজকের দিনে প্রতিযোগিতা এমনটাই কঠিন লেভেলে চলে গেছে যে, সেটাকে মোকাবেলা করার জন্য দুটো পরাশক্তি এই মুহূর্তে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।
গত একদিনে প্রায় ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে আমেরিকা সবমিলে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি লস করতে হয়েছে শুধুমাত্র আটটি বিষয়ে অ্যান্টেলিজেন্সের কারণে। প্রতিযোগিতার লেভেলটা এমন পর্যায়ে চলে গেছে, চ্যাট জিপিটি-৪, জেমিনি থেকে শুরু করে গ্রোথ কিংবা মাইক্রোসফটের কোপাইলট, ফেসবুকের লামা পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি শুধুমাত্র একটা অ্যাপসের বিপরীতে।
আর সেই অ্যাপসটার নাম হচ্ছে ডিপসিক। যে ডিপসিক মূলত চাইনিজ একটা ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল। যেমন একই ধরনের মডেল আমরা ব্যবহার করে যাচ্ছি: জিপিটি-৪, জেমিনি, গ্রোথ কিংবা কোপাইলটের মতো যতগুলো অ্যাপস রয়েছে, তার প্রত্যেকটাই।
কিন্তু ডিপসিক এমন কি করেছে, যার কারণে একদিনের ব্যবধানে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি লস করেছে আমেরিকা? এর প্রত্যেকটা ইস্যু আজকের দিনে তুলে আনবে এবং কিভাবে ডিপসিক বাকি সবাইকে আউটপারফর্ম করে দিয়েছে, সেটাও জানার চেষ্টা করব।
আরও পড়ুনঃ ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট মিশনসমূহ (Lagrange points missions) বিবরণ
Table of Contents
ToggleDeepSeek (ডিপসিক) এর যাত্রা
২০০৮ সালে চায়নার জিয়াঙে হ্যাঞ্জুইনবর্তীতে লিয়ান ওয়াং ফিং নামক এক তরুণ ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করেন নিজ বাসা থেকে।
সেখান থেকে তিনি একটা কোম্পানির সাথে জড়িত হন এবং সেখানেই তার ব্যবসার গোড়াপত্তন শুরু হয়। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সেই ব্যবসার গোড়াপত্তন থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন চাইনিজ কয়েনফান হাইফ্লাওয়ার। যার মূল ব্যবসা ছিল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং বিজনেস।

ডিপ মেশিন লার্টিন এর ব্যবহার
সেই গোড়াপত্তনে তিনি মূলত চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েন এবং তখনই তার প্রয়োজন আসে ডিপ মেশিন লার্নিংয়ের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে। সেই ডিপ্লয়মেন্টের মাধ্যমে ট্রেডিং ব্যবসাকে আরো এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি মূলত এমপ্লয়েড সিমুলেশনগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেন এবং ডিপ্লয়মেন্টের ওস্তাদ বনে যান।
২০১৮ সালে তিনি এতটাই ডিপ্লয়মেন্টে যান যে সেখান থেকে তার ব্যবসা চায়নার অন্যান্য কনফারেন্সগুলোর থেকে অনেকটাই এগিয়ে যায়। এবং সেখান থেকেই শুরু হয় ডিপ্লয়মেন্টের পেছনে আরো বেশি ইনভেস্ট করার ধারণা। ২০২০ সালের শুরুর দিকে লিয়ান ফ্যান সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজারের বেশি এনভিডিয়ার চিপ ক্রয় করে নেন এবং সেগুলোর প্রত্যেকটাই ব্যবহার করতেন তার ট্রেডিং বিজনেসে।
ডিপসিক তৈরি করার কারণ (Reason for Develop DeepSeek)
২০১৮ সালে মেশিন লার্নিংয়ে বিশাল ইনভেস্টের পর যে রেজাল্ট তিনি পেয়েছিলেন, সেখান থেকে তিনি বুঝতে পারেন মেশিন লার্নিংয়ে আরো ভালো ইনভেস্ট করলে হয়তো আরো ভালো কিছু আসতে পারে। সেখান থেকে সাইড প্রজেক্ট হিসেবে ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ডিপসিক, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মেশিন লার্নিংকে আরও ডিপে নিয়ে যাওয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মাঠে টিকে থাকা।
পাশাপাশি সেই সময়ে চ্যাট জিপিটি-৪-এর বাজারটা ছিল চরমভাবে তুঙ্গে। জিপিটি-৪-কে মূল টার্গেট করিয়ে তারা ডিপসিক ট্রেন করতে শুরু করে।
ডিপসিক এর কর্মক্ষমতা (DeepSeek Performance)
মাত্র ২ বছরে তারা ডিপসিককে এতটাই ডিপ লেভেলে ট্রেন করেছে এবং এতটাই স্ট্রং করে তুলেছে, ২ বছরের কম ব্যবধানে তারা রিলিজ দিতে পেরেছেন ডিপসিক বি-থ্রি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এর পারফরম্যান্স এতটাই নিখুঁত হয়েছে যে এটা রীতিমতো আউটপারফর্ম করে দিয়েছে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, গ্রোক, কোপাইলট কিংবা লামার মতো যতগুলো জিপিটি অ্যাপস আমেরিকান মার্কেটে রয়েছে, তার সবগুলোকে।
ম্যাথ, কোডিং এবং জেনারেল নলেজ—এই তিনটা ক্যাটাগরিতে মূলত সরাসরি চ্যাট জিপিটিকে মার্কেটের বাইরে ঠেলে দিয়েছে ডিপসিকের পারফরম্যান্স। লেভেলটা বিবেচনা করতে গেলে আপনি যেদিকেই তাকাবেন, বেঞ্চমার্ক পারফরম্যান্সে আপনার প্রত্যেকটা পয়েন্টে সে আমেরিকান জিপিটি মডেলগুলোকে রীতিমতো ছুঁড়ে ফেলেছে।

ডিপসিকের পারফরম্যান্স এতটাই নিখুঁত যে ফেসবুকের মাদার কোম্পানি মেটা মূলত তাদের ব্লগে হতাশামূলক পোস্ট পর্যন্ত দিয়েছেন। ফেসবুক এখানে সরাসরি লিখেছে: “এটিং ইনসাল্ট টু ইনজুরি, ওয়ার্ল্ড দ্য আননোন চাইনিজ কোম্পানি উইথ ফাইভ পয়েন্ট ফাইভ মিলিয়ন ট্রেনিং বাজেট, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মুভিং ফ্যানাটিক্যাল লেভেল ডেডিকেশন, ডিপসিক এন্ড কফি এভরিথিং অ্যান্ড এনি থিং উইথেন ক্রোম ইট অ্যান্ড নট ইভেন এক্সেসাইড এটিং”।
যেটা সরাসরি প্রমাণ করে কতটা ডিফারেন্স চলে গেছে ডিপসিক নিয়ে। ফেসবুক থেকে শুরু করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করা প্রত্যেকটা পশ্চিমা মিডিয়াতে রীতিমতো এখন এক ধরনের ভয় কাজ করছে।
মার্ক এন্ডারসন এর মন্তব্য

ডিপসিক নিয়ে বলতে গিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ওয়েব্রোজার আবিষ্কার করা মার্ক অ্যান্ডারসন ঠিক এভাবেই লিখেছেন: “ডিপসিক অ্যান্ড ওয়ান ইজ ওয়ান অব দ্য মোস্ট মিনিব্লোয়িং অ্যান্ড ইনফিউরিয়েটিং রিড্রেসালস… আহ হ্যাভ টু স্যাডলি অ্যাডমিট ইট ইজ অ্যান ওপেন-সোর্স অ্যাপ্রোচ গিফটেড টু ডিপসিক বিইং”।
বেঞ্চমার্ক রিপোর্টের দিকে যদি তাকান, জেনারেল নলেজে তার পারফরম্যান্স অন্যান্য সবার থেকে এগিয়ে রয়েছে—প্রায় জেমিনি থেকে একটু পিছিয়ে রয়েছে।

ম্যাথ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে তার পারফরম্যান্স সবার উপরে, কোডিংয়ে এসে সবার উপরে। কমপ্লেক্স কোয়েশ্চানেও সে সবার উপরে রয়েছে। প্রোগ্রামিংয়েও তার অবস্থান সবার উপরে চলে গেছে। ম্যাথ প্রবলেম সলভিংয়ে একমাত্র জেমিনির থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে এবং বাকি সবার থেকে এগিয়ে রয়েছে।
আগামীর দিনগুলোতে তার পারফরম্যান্স লেভেল এতটাই উপরে যাবে যে তাকে আসলে ধরাটাই মুশকিল হয়ে যাবে অন্যদের তুলনায়।
ডিপসিক ব্যবহারে খরচ (DeepSeek Pricing)
ডিপসিকের প্রাইসিংয়ের দিকে যদি তাকান, সে রীতিমতো তলানিতে রয়েছে অন্যদের তুলনায়। স্পেশালি চ্যাটজিপিটির কথা বললে, ডিপসিকের পুরো বছরের প্ল্যান আপনি চ্যাটজিপিটির ১ মাসের প্ল্যানের চেয়েও অনেক কম।

এত ভালো করার রহস্য
কিভাবে ডিপসিক এতটা ভালো করেছে? পেছনের মূল কারিকুরি কি? কোন টেকনোলজি তারা ব্যবহার করেছে? এর উত্তর একদম সিম্পল: মেশিন লার্নিংয়ের ডিপ ইনভেস্টমেন্ট।
যার উত্তর আমি জানতে চেয়েছিলাম, মূলত ৪ জিবি টি ডিপসিক। জেমিনী অথবা গ্রুপ সবার কাছেই অলমোস্ট সবার উত্তর একই রকম ছিল এবং একই উত্তর তারা দিয়েছে। যেখানে তারা এটাই বুঝাতে চেয়েছে যে, ডিপসিক বলি আর চ্যাটজিপিটি বলি, যারা যত ধরনের উত্তর আমাদেরকে দিয়েছে, সেটা মূলত টোকেন কলের মাধ্যমে দিয়ে যাচ্ছে।
টোকেন কল কি ও কিভাবে কাজ করে
একটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রতিকলে ২০৪৮ থেকে ৪০৯৬ টোকেন পর্যন্ত কল করতে পারে এবং এই টোকেন কল যার কাছে যত বেশি টোকেনের ট্রেন্ড রয়েছে, সে তত ভালো রেজাল্ট দিতে পারে। টোকেন সম্পর্কে যদি বুঝতে চান, তাহলে আপনাকে এটা ক্লিয়ারলি বুঝতে হবে যে, টোকেন মানে একটা ওয়ার্ডকে সে কতটা জানে।

উদাহরণস্বরূপ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর আমেজিং। আর্টিফিশিয়াল একটা ওয়ার্ড, আমেজিং শব্দটাকে যদি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আবার আমাদের কাছে দেখাতে যায়, তখন এখানে ‘সাউয়ার’ যুক্ত হয়ে যায় ‘আইএনজি’ থাকার কারণে।
এভাবে প্রত্যেকটা ওয়ার্ডকে সে বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যেকটা ওয়ার্ডকে যত বেশি ট্রেন্ড করতে পারে, ততই একটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভালো পারফর্ম করতে পারে।
কার কাছে কত টোকেন এর ট্রেইন আছে
এদিক থেকে জিপিটি এখন পর্যন্ত প্রায় ২ ট্রিলিয়ন টোকেনকে ট্রেন করতে পেরেছে। জেমিনিও করতে পেরেছে সব মিলিয়ে ১ ট্রিলিয়নের কাছাকাছি। গ্রুপের অবস্থাও একই লেভেলে পড়ে আছে। এবার আপনি আন্দাজ করুন, ডিপসিক কতগুলো টোকেনকে ট্রেন করেছে! আপনার আমার ধারণারও বাইরে, ডিপসিক এখন পর্যন্ত ১৪.৮ ট্রিলিয়ন টোকেনকে ট্রেন করে ফেলেছে।
যেটা পুরো আমেরিকা জুড়ে যতগুলো জিপিটি মডেল রয়েছে, তারা সবাই মিলেও ডিপসিকের অর্ধেক পরিমাণ টোকেন এখন পর্যন্ত ট্রেন করতে পারেনি। ঠিক এই জায়গায় মূলত কমপ্লেটলি ধরা খেয়ে গেছে পুরো আমেরিকান হেজিমনি।

টোকেন ট্রেইনিং হার্ডওয়্যার
মজার ব্যাপার দেখুন, এই টোকেন ট্রেনিংয়ের জন্য কিংবা একটা জিপিটি মডেলকে রান করার জন্য যে হার্ডওয়্যার পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে মূলত জিপিইউ। একটা জিপিইউ ছাড়া এই কাজটা কখনোই করা সম্ভব না।
আমেরিকান জিপিইউ মডেলগুলোকে ট্রেন করার জন্য তারা ব্যবহার করে মূলত দুটি স্পেসিফিক মডেলের এনভিডিয়া জিপিইউ—যেগুলো হচ্ছে ‘এইচ১০০’ এবং ‘এ১০০’। অন অ্যাভারেজ, প্রতিটি জিপিইউর দাম আমেরিকার বাজারে রয়েছে প্রায় ৩০,০০০ ডলারের বেশি।
এই জিপিইউর পারফরম্যান্স ক্যাপাবিলিটি অন্যান্য যেকোনো জিপিইউ থেকে অনেক বেশি। কিন্তু বাইডেন সরকার থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত সবাই মূলত একটা আইন করে এই জিপিইউ চীনের বাজার থেকে শুরু করে পৃথিবীর অন্যান্য বাজারেও বিক্রি করা নিষিদ্ধ করে রেখেছে।
কিন্তু একই ভার্সনের এই ‘এ১০০’ জিপিইউর একটা চাইনিজ ভার্সন তারা বের করেছে এবং সেটা চীনের বাজারে চলে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এইচ৮০০’ জিপিইউ। যার দাম প্রায় ৭০,০০০ ডলার প্রতিটি।
এবং সেই জিপিইউকেই মূলত ট্রেন করেছে ডিপসিক, যেটার পারফরম্যান্স ক্যাপাবিলিটি ‘এ১০০’ থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে এবং বাজারে সহজলভ্য নয়। যতটুকু পাওয়া যায়, তারা মূলত ব্ল্যাক মার্কেট থেকে সেই জিপিইউগুলো কালেক্ট করে একটা ক্লাস্টার তৈরি করেছে। এবং সেই ক্লাস্টারের ভিত্তিতে আজকের দিনের ডিপসিক পুরো অরিজিনাল ভার্সনকে ধরা খাইয়ে দিয়েছে।
ডিপসিক নিয়ে অন্যদের ভয়ের কারন
পশ্চিমাদের জন্য এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, ডিপসিক পুরোটাই মূলত ওপেন সোর্স। যে ওপেন সোর্স হওয়ার কারণে, যে কেউ এর কোড যাচাই-বাছাই করতে পারে, এডিট করতে পারে কিংবা তার মতো করে অ্যানালাইসিস করতে পারে। এটাই ছিল কমপ্লিট বিহাইন্ড দ্য সিন, যেখান থেকে মূলত ডিপসিক এতটা ভালো পারফর্ম করে যাচ্ছে এবং অরিজিনাল পারফর্মারদেরকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।

ডিপসিক থেকে শুরু করে চীনের জিপিটি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের এই রেসে বিশাল পাওয়ার হাউসগুলোর মধ্যে পলিটিক্যাল রেস কোথায় এবং জিওপলিটিক্যাল রেসটা আসলে কী, আজকের দিনে ডিপসিককে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবী উত্তাল হয়ে গেছে।
পেছনের কারণটা বিশাল। এটা অনেক বড় একটা বিপ্লব তৈরি করে দিয়েছে ওয়েস্টার্ন হেজিমনির বিপরীতে। এত বিশাল বড় একটা অগ্রগতি তারা নিয়ে এসেছে, যেটাকে পাল্লা দিতে পারছে না পশ্চিমাদের সবগুলো জিপিটি মডেল মিলে।
এটা যে কত বিশাল একটা অর্জন তাদের জন্য হয়ে গেছে এবং আমেরিকার বিশাল পরাজয় হয়েছে, সেটা গতকালকের আমেরিকার নাসডাকের দিকে তাকালেই আপনি বুঝতে পারেন। যেখানে একদিনের ব্যবধানে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি লস করেছে গুগলসহ যতগুলো সুপার টেক কোম্পানি রয়েছে আমেরিকাতে।
তারা সবাই এবং আগামী দিনগুলোতে এটা ঠিক এভাবেই চলতে থাকবে। আমাদের সবারই মনে থাকার কথা, জিপিটি-৪ যখন বাজারে এসেছিল, তখন আমেরিকা গর্বের সাথে বলেছিল যে, আগামীর দিনগুলোতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের লিডারশিপ আমেরিকার হাতেই থাকবে এবং এটা কারো হাতে যেতে দেওয়া হবে না।
সেজন্যই বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে এনভিডিয়া চিপস থেকে শুরু করে যত ধরনের এআই-রিলেটেড প্রোডাক্ট রয়েছে, তার প্রত্যেকটাই কোনোভাবে যেন চীনে না যায়, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজকের দিনে এনভিডিয়া চিপসগুলোর বাজার এতটাই নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে যে, ১২০টি দেশে সরাসরি বিক্রি নিষিদ্ধ। মাত্র ১৮টি দেশে সেই চিপগুলো বিক্রি করার অনুমতি রয়েছে।
এবং এরপরও চীনকে তারা থামিয়ে রাখতে পারেনি। চীন এতটাই ভালো রেজাল্ট দিয়েছে যে, আগামীর দিনগুলোতে আমেরিকা সবচেয়ে বেশি টেনশনে পড়ে গেছে। আজকে তো মাত্র ১ ট্রিলিয়ন ডলার লস করেছে, আগামীর দিনগুলোতে এই সংখ্যাটা কত ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে, সেটা বলা মুশকিল।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার
যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে এত বেশি কথা বলছে, সে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার আপনার মোবাইল থেকে শুরু করে ফাইটার জেট পর্যন্ত সব জায়গায় হয়ে আসছে। ইভেন অটোমেটিক্যাল ট্রাক থেকে শুরু করে সব জায়গায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারও হয়ে আসছে।
ডিপলানিং-এর এই পার্ট যতটা ডেভেলপ, যে দেশ যত দ্রুত ডেভেলপ করতে পারবে, সেই দেশ তত বেশি এগিয়ে যাবে। এবং আজকের দিনে এখানে দাঁড়িয়ে নিশ্চিতভাবে এটা বলা যায়, চায়নার সাথে পাল্লা দেওয়ার অবস্থা এই মুহূর্তে আমেরিকারও নেই। একথা শুনলে অনেকের কাছে একটু বেশিই মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা এটাই।
জিপিটি মডেল নিয়ে কাজ করা কোম্পানী
আমেরিকাতে এখন পর্যন্ত জিপিটি মডেল নিয়ে কাজ করতে পারে সব মিলিয়ে প্রায় বিশটা কোম্পানি। চায়না এ বছর পর্যন্ত সব মিলে চল্লিশটা কোম্পানিকে লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে। আপনি হয়তো ডিপসিকের নাম শুনেছেন, কিন্তু চায়নায় এ ধরনের আরো চল্লিশটা কোম্পানি অলরেডি কাজ করে যাচ্ছে। ১ ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে, সব মিলে আটটা মডেল নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছে।
চায়নায় যতগুলো নামি-দামি কোম্পানি রয়েছে, তারা মূলত সবাই জিপিটি মডেল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। টিকটকের মাদার কোম্পানি বাইটড্যান্স নিয়ে এসেছে দাওভাও। আপনি ব্যবহার করে দেখুন, এটা ডিপসিকের মতই কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে ঠিক একইভাবে আলিবাবা নিয়ে এসেছে কুইন অ্যালান, চার্জিয়ালএম কিংবা ওয়াও দেওয়ার মত যতগুলো কোম্পানি রয়েছে, তারা সবাই মূলত ডিপলানিং নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
মেশিন লার্নিং-এর এই পার্টটাতে তারা রীতিমতো আউট পারফর্ম করে দিয়েছে আমেরিকার অলমোস্ট সবগুলো ইউনিভার্সিটি থেকে শুরু করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করার টেকনিক স্টার্টআপগুলোকে। ইনফ্যাক্ট, গুগলও সেখানে অনেক ক্ষেত্রে পাল্লা দিতে ব্যর্থ হয়ে গেছে তাদের সাথে।
আগামীর দিনগুলোতে ওয়ার্ল্ড অর্ডার শিফট হতে যাচ্ছে চায়নার হাতে। শুধুমাত্র আমেরিকার উদাহরণ নিন—আমেরিকা গত ৫০ বছর পৃথিবীকে শাসন করেছে মূলত তার হাতে থাকা যতগুলো টেকনোলজিক্যাল চক্রবর্তী রয়েছে, সেগুলোকে পুঁজি করেই। আপনি ফাইটার জেট থেকে প্যাসেঞ্জার স্যাটেলাইট ফ্লাইটের দিকে তাকান, তার প্রত্যেকটা প্রান্তে আমেরিকা গত ৫০ বছর লিড করেছে কারণ তাদের হাতে সেই টেকনোলজি ছিল।
কম্পিউটারের রেভল্যুশনের দিকে তাকান—এনভিডিয়া থেকে শুরু করে ইন্টেল অথবা এএমডি, তার প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আমেরিকা মূলত লিড করেছে। কারণ তাদের হাতে সেই টেকনোলজি ছিল। ঠিক একইভাবে অর্থনীতির দিকে তাকান, তার প্রত্যেকটা প্রান্তে আমেরিকা সেই টেকনোলজিকে ব্যবহার করে অর্থনীতিকে ডমিনেট করেছে এবং তারা পুরো পৃথিবীকে শাসন করেছে।
দিনটা কত দ্রুত বদলে গেছে, আপনি শুধু এদিকে তাকান। আজকের দিনে চায়নার সাথে শুধুমাত্র এআই মডেল নিয়ে পাল্লা দিতে পারছে না আমেরিকা। ফাইটার জেট থেকে শুরু করে ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার জেট—এমন সবকিছু চায়না নিয়ে এসেছে, কারণ তারা সেখানে সবচেয়ে বেশি ইনভেস্ট করেছে এবং রেভল্যুশন তৈরি করতে পেরেছে।
চায়নার সম্ভাবনা
আগামী দিনগুলোতে আমেরিকা থেকে চায়নার কাছে ওয়ার্ল্ড অর্ডার শিফট হওয়ার পথে রয়েছে। কারণ পৃথিবীতে চাইলেই কেউ সুপার পাওয়ার হয়ে যেতে পারে না। সুপার পাওয়ারের জন্য বেশ কিছু এলিমেন্ট রয়েছে। একটা সুপার পাওয়ার মূলত পৃথিবীকে গাইড করে। একটা সুপার পাওয়ার পৃথিবীর যা প্রয়োজন, তা পৃথিবীকে দেওয়ার চেষ্টা করে।
আজকের দিনে সেই ধরনের উদ্ভাবন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা কিংবা রাজনৈতিক ভারসাম্য—তার সবকিছু চায়না স্ট্রংলি করে যাচ্ছে। সেখানে আমেরিকা পেছনে পড়ে যাচ্ছে। বাইডেন পরবর্তী ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই শুধুমাত্র আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে কেন্দ্র করে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। কিন্তু তারপরের প্রশাসন সেটাতে রীতিমতো পানি ঢেলে দিয়েছে।
জাস্ট ইমাজিন করুন, চায়নার পরিকল্পনা, চায়নার এক্সিকিউশন এবং চায়না কতটা দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে! আগামীর দিনগুলোতে চায়না কি করতে পারে, সেটা আমাদের ধারণার মধ্যে চলে এসেছে অলরেডি। সো, টেক ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে ছোটখাটো যেকোনো ব্যবসার দিকে তাকান, রেস অনেক বড়, অনেক বিশাল এবং খুব দ্রুত গতিতে চলছে।
সেই রেসে যদি আপনি দ্রুতগতির চিন্তা করতে না পারেন, তবে আপনি এই রেস থেকে নিশ্চিতভাবে পিছিয়ে পড়বেন। আমাদের দেশে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কোনো ভাবনা তো আমি সরকারের মধ্যে দেখিনি। আগামীর দিনগুলোতে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, সে ধরনের কোনো নমুনাও দেখা যাচ্ছে না।
যে কোনো ধরনের কাজে আমাদের ছাত্র সমাজ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যরা ক্ষমতার লোভে বিপ্লবী হয়ে গেছে। ঢাকার রাস্তা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেকটা প্রান্তে লাশ পড়লেও নিজের ক্ষমতাটা চাই। কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো একটা বিশাল বিষয়কে যে পরিমাণে উপেক্ষা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে এর জন্য আমাদের হয়তো চড়া মূল্য দিতে হবে।
আপনি যদি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স নিয়ে আরও জানতে চান তাহলে বিদ্যাশিখি ডট কম এর এআই প্রযুক্তি বিভাগ ফলো করুন।
তথ্যসূত্র:
১. ঈগল আই ইউটিউব চ্যানেল (https://youtu.be/V8S0etj4LsY?list=PLOrIk8frqee0gltZp2VNE2HnnJOc0l4cU)
২. ডিপসিক অফিসিয়াল সাইট: (DeepSeek)

Comments