বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বিএড সম্পন্ন করার পর বেতন বৃদ্ধির জন্য অর্থ্যাৎ বি এড স্কেল পাওয়ার জন্য EMIS MPO পোর্টালে আবেদন করতে হয়। বিদ্যাশিখি ডট কম এর আজকের আয়োজনে আমরা জানবো কিভাবে বিএড স্কেল প্রাপ্তির আবেদন অনলাইনে সাবমিট করতে হয় এবং কিভাবে অবস্থা ট্রাকিং করতে হয়।
যেসকল শিক্ষকগণ ব্যাচেলর অব এডুকেশন বা বিএড ডিগ্রী সম্পন্ন করা ছাড়াই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশ করেন তারা শুরুতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ১১ তম গ্রেডে বেতন ভাতা পান। শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সেসব শিক্ষক বিএড ডিগ্রী করার সুযোগ পান এবং ফলাফল অর্জনের পর ১০ তম গ্রেড প্রাপ্তির জন্য অর্জন করেন।
এই ডিগ্রী অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ইএমআইএস পোর্টালে এমপিও ম্যানেজমেন্ট মডিউল ব্যবহার করে Arrear MPO আবেদন জমা দিতে হয়। কর্তৃপক্ষ সব ডকুমেন্ট অনলাইনে যাচাই করে এপ্রুভ করলে বিএড স্কেলসহ এমপিও আপডেট হয়ে যায়। এই লেসনে আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত জানবো।
স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাচেলর অব এডুকেশন ডিগ্রী অর্জন হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিএড স্কেল প্রাপ্তির আবেদন করতে হবে। তিনি ম্যানেজিং কমিটির সভা আয়োজন করে সব কিছু ঠিক থাকলে কমিটির অনুমতি সাপেক্ষ্যে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
বিএড স্কেল আবেদন এর পূর্বের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। যা আমরা পূর্বেই জানিয়েছি। বি এড স্কেল এমপিও আবেদন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট হার্ড কপি রেডি হলে সঠিক পদ্ধতিতে ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে কম্পিউটারের যেকোন একটি ফোল্ডারে সেভ করে নিতে হবে। যাতে আপলোড করার জন্য সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।
মনে রাখতে হবে, সিঙ্গেল পেইজ এর ডকুমেন্টগুলো JPG এবং মাল্টিপল পেইজগুলো PDF হিসেবে সেভ করবেন। এবং প্রতিটি ফাইল সাইজ ৫০০ কেবি থেকে ১০০০ কেবি এর মধ্যে যেনো হয়। নাহলে ফাইল এটাচ হতে ঝামেলা হতে পারে।
বিএড স্কেল প্রাপ্তির আবেদন সাবমিট করার জন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশি কর্তৃক নির্ধারিত এমপিও ইউজার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে emis.gov.bd অথবা বিকল্প সাইট Alternate link of EMIS Server এ প্রবেশ করে Login করতে হবে।

ইউজার আইডি এন্ড পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে- এমপিও রিলেটেড সার্ভিস মডিউল ব্যবহার করার জন্য ইউজার আইডি হিসেবে MPO_EIIN দিতে হবে। আর পাসওয়ার্ড প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
ক্রেডেনশিয়াল ঠিক থাকলে নিচের ছবির মত পেইজ আসবে। সেখান থেকে MPO – Monthly Payment Order অপশনটি নির্বাচন করবেন।

নিচের ছবির মত এমপিও সিস্টেমের যতগুলো মডিউল আছে সবগুলোই দেখাবে। এই সবগুলো সার্ভিস নিয়ে আমাদের চ্যানেলে বিস্তারিত গাইডলাইনমূলক ভিডিও আছে। প্রয়োজন হলে দেখে নিতে পারেন।

এই পর্যায়ে এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের বিএড স্কেল প্রাপ্তির জন্য প্রথম ধাপে ইএমআইএস ডাটাবেজ থেকে ইনডেক্স নাম্বার বা পিডিএস আইডি দিয়ে যে শিক্ষকের আবেদন করা প্রয়োজন তার নাম খুঁজে বের করতে হবে এবং সিলেক্ট করতে হবে। বিএড স্কেল মডিউলে প্রবেশ করলে নিচের ছবিরমত পেইজ চালু হবে।
ছবিতে দেখানো লাল চিহ্নিত সার্চ বক্সে ক্লিক করলে ডাটাবেজে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের তথ্য প্রদর্শিত হবে। তালিকা থেকে যার আবেদন করতে চান তার নামের পাশে সিলেক্ট বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে ফরমটিতে প্রয়োজনীয় বেসিক ডাটাগুলো ফিল হয়ে যাবে।
তবে কিছু ডাটা ম্যানুয়ালী এন্ট্রি দিতে হবে। যেমন- পিতার নাম এবং মাতার নাম বাংলায়। এনআইডি বা সনদ অনুযায়ী তথ্যগুলো এন্ট্রি দেওয়ার পর নেক্সট বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এই ধাপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রি দিতে হবে। অবশ্যই বিএড ডিগ্রী সংক্রান্ত তথ্যসহ। এক্ষেত্রে প্রথমে এসএসসি, তারপর এইচএসসি এভাবে ক্রমান্বয়ে উচ্চতর শিক্ষা যোগ্যতা তথ্যগুলো এন্ট্রি করে নিতে হবে।
এমপিও মডিউলে সকল সার্ভিসে শিক্ষাগত যোগ্যতা তথ্য এন্ট্রি দেওয়ার ফরমটি একই রকম তাই এখানে বকেয়া বেতন ভাতা আবেদন এর সময় দেখানো ফরমটি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বিভ্রান্ত হবেন না।
প্রথমে ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা’ নামের নিচে থাকা প্লাস আইকনে ক্লিক করবেন। একটি পপআপ এন্ট্রি ফরম আসবে। সেখানে পরীক্ষার নাম -> রোল নম্বর -> সেশন / শিক্ষাবর্ষ -> পাশের বছর -> বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় -> ফলাফল প্রকাশের তারিখ -> গ্রুপ / বিষয় / বিভাগ -> ফলাফলের ধরণ -> বিভাগ / শ্রেণি / গ্রেড -> প্রাপ্ত জিপিএ / নাম্বার এন্ট্রি দিয়ে যোগ করুন বাটনে ক্লিক করুন।

এভাবে পর্যায়ক্রমে সবগুলো তথ্য এন্ট্রি করে নেক্সট বাটনে ক্লিক করবেন।
বিএড স্কেল প্রাপ্তির তৃতীয় ধাপ এবং আবেদন প্রক্রিয়ার পঞ্চম ধাপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিএড স্কেল পাওয়ার পর ১০ম গ্রেড এর কততম ধাপে বেতন পাবে সেটির তথ্য এন্ট্রি করতে হবে। এখানে প্রত্যাশিত পে-কোড এর অপশনে Pay Code – 10 অটো চলে আসবে যা আপনি এডিট করতে পারবেন না। তবে, অবশ্যই প্রত্যাশিত গ্রেডের ধাপ কত তা এন্ট্রি করতে হবে।
এখানে অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে যান। বিএড স্কেল এর বেতন এন্ট্রি দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন। কোনো শিক্ষক ১১তম গ্রেড-এ যত বেতন পাচ্ছে বিএড স্কেলে অথ্যাৎ ১০ম গ্রেডে তার পরের ধাপ হবে।
যেমন- ১১তম গ্রেড এ যদি ৫ম ধাপে বেতন পায় তাহলে ১০ম গ্রেডে ৬ষ্ঠ ধাপে বেতন পাবে। নাহলেতো ১০ম গ্রেডের শুরুতে তার বেতন কমেও যেতে পারে। খুব সতর্কতার সাথে বেতন এর পরিমাণ এন্ট্রি দিবেন নাহলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এরপর পেশাগত তথ্য অংশে ডাটাগুলো ডাটাবেজ থেকে আসবে। সংশোধন বা সংযোজন করার সুযোগ নেই। এখানে, পদবি, বিষয়, বর্তমান গ্রেডসহ মৌলিক প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো দেখা যাবে। ভ্যারিফাই করে নিবেন।
এসএমসি বা জিবি অংশে ম্যানেজিং কমিটির ধরণ সিলেক্ট করবেন এবং মেয়াদ সঠিকভাবে এন্ট্রি দিবেন। আর নিয়োগ এর তথ্য ফিল্ডে প্রথম এমপিওর তারিখ, প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মেয়াদ কত থেকে কত পর্যন্ত নির্বাচন করে নেক্সট বাটনে ক্লিক করবেন।
বিএড স্কেল আবেদন ফরমের চতুর্থ অংশে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক গৃহিত সিদ্ধান্তের রেজুলেশন সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রি করতে হবে। এই ধাপে রেজুলেশন লেখার পাশে প্লাস আইকনে ক্লিক করলে একটি ফরম আসবে সেখানে রেজুলেশন এর নাম, তারিখ, মিটিং নম্বর এবং মিটিং এর বিবরণ এন্ট্রি দিয়ে ‘সংরক্ষণ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

একাধিক রেজুলেশন থাকলে, সেগুলো এড করে নেক্সট বাটনে ক্লিক করবেন।
যে শিক্ষকের আবেদন করছেন তার সেই পদে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে সেটির তথ্য এখানে এন্ট্রি করতে হবে। মামলা আছে কিনা সেটির পাশে চেক বক্সে টিক চিহ্ন দিন এবং মামলার নম্বর, সংখ্যা, মামলার তারিখ, মামলার অবস্থা।
এবং কোনো অভিযোগ থাকলে সেখানে টিক চিহ্ন দিন। আর কোনো কিছু না থাকলে কোনো কিছু না করে নেক্সটে চলে যান। মনে রাখবেন, মামলা না থাকলে কোনো তথ্য এন্ট্রি দিবেন না।

এখন আমরা বিএড স্কেল অনলাইন আবেদন এর চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছি। এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কোনো ভুল হলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে অথবা আপনার আবেদন মঞ্জুর হতে সময় লাগতে পারে। আমরা পূর্বের লেসনে বকেয়া এমপিও আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানিয়েছি যেখানে নমুনা ফাইলও ছিল।
সেগুলো সতর্কতার সাথে তৈরি করুন এবং স্ক্যান করে কম্পিউটার ফোল্ডারে আপলোড করে রাখুন। নিচের ছবিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা আরও একবার দেখানো হলো।

ছবিতে দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী প্রথমে যে ফাইলটি আপলোড করতে চান সেটি নামের উপর ক্লিক করবেন। ডকুমেন্ট আপলোড ফরম আসবে। সেখানে ফাইল নির্বাচন বাটনে ক্লিক করে কম্পিউটারে যেখানে ফাইলটি সেভ করেছেন সেটি সিলেক্ট করুন।
ফাইল আপলোড করার ক্ষেত্রে সিঙ্গেল পেইজের ডকুমেন্টগুলো ছবি বা JPG আকারে আর মাল্টিপল পেইজের ডকুমেন্টগুলো পিডিএফ হিসেবে সেভ করুন। আর ডকুমেন্ট সাইট ৫০০ থেকে ১০০০ কেবি এর মধ্যে রাখবেন। তাহলে কোয়ালিটি ও সাইজ নিয়ে আর কোনো ঝামেলা হবেনা।
ফাইল সফলভাবে সংযুক্ত হলে ডান পাশে নামের পাশে টিক চিহ্ন আসবে। আর আপলোড না হলে আগের মতই খালি দেখাবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল ফাইল আপলোড করুন। শেষ কয়েকবার করে ফাইলগুলো যাচাই করবেন। সংশ্লিষ্ট নামের পাশে ঠিক ফাইলটি এটাচ হয়েছে কিনা!
এখন এই পর্যন্ত যতগুলো তথ্য এন্ট্রি করেছেন এবং ফাইলগুলো আপলোড করেছেন সেগুলো আরও কয়েকবার যাচাই করুন। কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে সাথে সাথে সংশোধন করুন। আপলোডকৃত ফাইলগুলো একটি একটি করে ওপেন করে দেখুন সব ঠিক আছে কিনা।
সঠিক থাকলে মন্তব্যের ঘরে একটি মন্তব্য লিখে আবেদন এর উপরে Submit বাটনে ক্লিক করে উপজেলায় প্রেরণ করে দিন। আশা করবো আপনার আবেদনটি এপ্রুভ হয়ে যাবে।

বিএড স্কেল একদিকে যেমন পেশাগত দক্ষতা অর্জনের স্বীকৃতি অন্যদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তাই আমাদের দেখানো পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করে আপনার বি এড স্কেল প্রাপ্তির আবেদন জমা দিন। যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাহলে কমেন্ট করুন।
প্রয়োজনে আমাদের ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব চ্যানেল, হোয়াটসঅ্যাপসহ সকল সোস্যাল নেটওয়ার্কে মেসেজ দিন। আমরা যথাসম্ভব রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবো।