প্রিয় শিক্ষক! এই পর্যায়ে আমরা বকেয়া এমপিও প্রাপ্তির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানব। এই লেসনটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে আপনার প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক অথবা কর্মচারীর বকেয়া বেতন ভাতা দিয়ে প্রাপ্তির আবেদন খুব সহজেই মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও পোর্টালে সাবমিট করা যায়।
এখানে এমন কিছু বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যা অনুসরণ করলে আপনার বকেয়া এমপিও পাওয়ার ফাইলটি কোনভাবেই উচ্চতর কর্তৃপক্ষ রিজেক্ট করবে না। খুব সচেতনভাবে এগুলো করলে আপনার আবেদন শতভাগ মঞ্জুর হবে আশা করছি।
আশা করছি আপনি আমাদের পূর্ববর্তী লেসন অনুসরণ করে ইতমধ্যেই বকেয়া এমপিও আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করে ফেলেছেন। তাহলে এই ধাপে শুধু আবেদন করার পালা।
গত পর্বের আলোচনায় আমরা জেনেছিলাম এমপি ভুক্ত বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষক অথবা কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা দিয়ে পাওয়ার জন্য কি কি কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং সেগুলো কোথায় পাওয়া যাবে সেই সম্পর্কে। যারা লেসেনটি সম্পন্ন করেননি এখনই সেটি পুনরায় একবার দেখে নিন।
বকেয়া এমপি পাওয়ার আবেদন প্রতিষ্ঠান প্রধান মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ইএমআইএস এর এমপিও সার্ভিস ব্যবহার করে সাবমিট করবেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে প্রতিষ্ঠানের এমপিও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড। চলুন তাহলে জেনে নেই কিভাবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এমপিও ব্যবস্থাপনা কাজগুলো করতে হবে-
অনলাইনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বকে বেতন ভাতা দিয়ে আবেদন সাবমিট করার জন্য প্রথমে মাউশি ইএমআইএস সার্ভার ঠিকানায় প্রবেশ করতে হবে এবং সেখানে নির্ধারিত ই আই এন এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। পূর্বের লেসনগুলোতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে চাইলেই সেগুলো পুনরায় অনুসরণ করতে পারেন।

১. ওয়েব ব্রাউজার এর এড্রেস বারে emis.gov.bd ঠিকানাটি লিখুন এবং প্রবেশ করুন। গুগল সার্চ অথবা বিং সার্চে emis লিখে সার্চ করলেও ঠিকানাটি পাওয়া যাবে। তবে সবচেয়ে ভালো হচ্ছে ওয়েবসাইটের এড্রেস লিখে সরাসরি প্রবেশ করা তাহলে ভুল কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে না।
২. আপনার প্রতিষ্ঠানের এমপিও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
নোট: ইএমআইএস পোর্টালে এমপিও কার্যক্রমের জন্য ইউজারনেম হিসেবে mpo_EIIN নাম্বার ব্যবহার করা হয় এবং পাসওয়ার্ড প্রতিষ্ঠান থেকে রিসেট করা হয়েছিল। তবে ডিফল্ট পাসওয়ার্ড হিসেবে 26031971 দেয়া হয়েছিল প্রথম দিকে।
সফলভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও পোর্টালে লগইন করতে পারার পর আপনার সামনে এমপিওর কার্যক্রম পরিচালনার বা এমপিও সংক্রান্ত সার্ভিস আইকন গুলো প্রদর্শন করবে। সেখান থেকে লাল চিহ্নিত বাটন যেখানে এমপিও লেখা থাকবে সেটিতে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবেন।
ইএমআইএস এর এমপিও সেকশনে প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্য আরো কিছু মডিউল আছে যার মধ্যে একটি হলো এইচআরএম এবং অন্যটি হলো আইএমএস বা ইনস্টিটিউট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এগুলো আমরা অন্য আলোচনায় জেনে নিব।
১. ড্যাশবোর্ড থেকে এমপিও বাটনে ক্লিক করুন;

২. এমপিও ড্যাশবোর্ড থেকে এরিয়ার অ্যাপ্লিকেশন বাটনে ক্লিক করুন;

৩. এরিয়ার এমপি আবেদনের জন্য শিক্ষক নির্ধারণ:
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অ্যারিয়ার বা বকেয়া বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তির জন্য সে শিক্ষকের বকেয়া বেতন ভাতার জন্য অনলাইন আবেদন সাবমিট করতে হবে তার না অনুসন্ধান করতে হবে। এরিয়ার এমপিও আবেদন প্রথম পাতায় শিক্ষকের নাম অনুসন্ধান করার আইকনে ক্লিক করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নাম সিলেক্ট করুন।
ক. MPO Arrear Application আবেদন এর প্রথম পৃষ্ঠায় শিক্ষক/কর্মচারীর তথ্য অনুসন্ধান আইকনে ক্লিক করুন।

খ. শিক্ষক/কর্মচারীর নামের তালিকা থেকে এরিয়ার এমপিও আবেদন করার জন্য কাঙ্খিত শিক্ষক বা কর্মচারীর নাম এর বাম পাশে ‘Select’ অপশনে ক্লিক করুন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সাধারণ তথ্য মানে ইনডেক্স নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম, এমপিও কোড সয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যাবে।
গ. ব্যক্তিগত তথ্য অংশে আবেদনকারী শিক্ষকের নাম বাংলায় এবং ইংরেজিতে, পিতার নাম ও মাতার নাম ইংরেজিতে অটোভাবে চলে আসবে। এসব তথ্য নতুন এমপিও আবেদনের সময় এন্ট্রি দেওয়া হয়েছিল। তবে পিতার নাম এবং মাতার বাংলা ফিল্ডগুলো খালি থাকবে। সেখানে উক্ত শিক্ষকের পিতা ও মাতার নাম বাংলায় এন্ট্রি করে দিবেন।
অন্যন্য তথ্যগুলো যেমন জন্ম তারিখ, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা এবং শিক্ষকের জেলা দেখাবে। তথ্যগুলো কয়েকবার যাচাই করে নেক্সট বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী পৃষ্ঠায় চলে যাবেন।
এরিয়ার এমপি আবেদন পূরণের দ্বিতীয় ধাপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সার্টিফিকেট অনুযায়ী এন্ট্রি করতে হবে। এগুলো সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় অথবা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফাই করা হবে সুতরাং সঠিক তথ্য যাচাই করে এন্টি দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা তথ্য এন্টি দেওয়ার ধাপে শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখার নিচে প্লাস বাটনে ক্লিক করলে সনদের তথ্য এন্টি দেওয়ার একটি ফরম আসবে।
২. পরীক্ষার নাম ড্রপ ডাউন মেনুতে ক্লিক করে যে স্তরের রেজাল্ট এন্ট্রি দিতে চান সেটি সিলেক্ট করুন;
৩. পরীক্ষার রোল নাম্বার ইনপুট করুন;
৪. একাডেমিক সেশন বা শিক্ষা বর্ষ লিখুন;
৫. পাশের বছর নির্বাচন করুন;
৬. বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় এর নাম নির্বাচন করুন;
৭. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ লিখুন; তারিখ লেখার ক্ষেত্রে ক্যালেন্ডার থেকে সিলেক্ট করতে পারেন অথবা DD/MM/YYYY ফরমেটে তা লিখবেন;
৮. পরীক্ষার গ্রুপ নির্বাচন করবেন;
৯. স্নাতক বা উপরের লেভেলের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য এন্ট্রির ক্ষেত্রে বিষয় নির্বাচন করবেন; বিষয় অপশনটি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের পরীক্ষা সিলেক্ট করলেই দেখাবে;
১০. ফলাফলের ধরন নির্বাচন করুন; এখানে বিভাগ, শ্রেণী, জিপিএ চারের মধ্যে, জিপিএ ৫ এর মধ্যে এবং অন্যান্য ধরনের রেজাল্ট নির্বাচন করার অপশন আছে। আপনার ফলাফলটি যে প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল সেটি নির্বাচন করবেন। জিপিএ নির্বাচন করলে লেটার গ্রেডের অপশন আসবে আর বিভাগ নির্বাচন বা শ্রেণি নির্বাচন করলেন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এইরকম অপশন আসবে।
১১. প্রাপ্ত নম্বর বা সিজিপি লিখুন;
উপরোক্ত তথ্যগুলো সঠিকভাবে এন্ট্রি দিয়ে কয়েকবার যাচাই করে নিবেন সনদ এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড অথবা মার্কশিটের সাথে। সঠিক পাওয়া গেলে যোগ করুন বাটনে ক্লিক করবেন। তাহলে ফলাফল এর তালিকা আপনার এই স্তরের ফলাফলটি সংযুক্ত হয়ে যাবে।
এভাবে সবগুলো ফলাফল এন্ট্রি দিয়ে পুনরায় যাচাই বাছাই করে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবেন। একেবারে সম্পূর্ণ আবেদন শেষ করতে না পারলে প্রত্যেক স্তরে আবেদনটি ড্রাফট হিসেবে সেভ করে রাখা যাবে। অ্যাপ্লিকেশনের উপরে সেভ ড্রাফ নামে একটি অপশন দেখা যাবে সেখানে ক্লিক করলে সেটি ইনবক্সে সেভ হয়ে থাকবে।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া বেতন ভাতা দিয়ে প্রাপ্তির অনলাইন আবেদনের তৃতীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানেই আপনি জানাবেন ঠিক কত টাকা এবং কত মাসের এমপিও আপনার বকেয়া রয়েছে সে বিষয়টি। খুব সুন্দরভাবে হিসেবে উপস্থাপন করতে না পারলে এমপিও বকে আবেদনটি রিজেক্ট হয়ে যেতে পারে অথবা আবেদন পেলেও আপনার এমপিওতে কম টাকা জমা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
খুব সতর্কতার সাথে পূর্বের বকেয়া সংক্রান্ত তথ্যগুলো এন্ট্রি করবেন প্রত্যাশিত বকেয়ার পরিমাণ এন্ট্রি করবেন। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে বকেয়ার তথ্য দিয়ে এন্ট্রি করুন-

১. পূর্বের বকেয়া লেখার নিচে প্লাস চিহ্ন দিয়ে লেখা প্রত্যাশিত গ্রেন্ড বাটনে ক্লিক করুন; বকেয়া বিল এন্ট্রি দেওয়ার একটি ফরম আসবে যা ছবিতে দেখানো হলো।
২. বকেয়ার ধরন নির্বাচন করুন। এখানে মূল বেতন এবং বোনাস দুটোরই বকেয়া পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। যে ধরনের বকেয়া পেতে চান সেটি নির্বাচন করুন।
৩. প্রত্যাশিত গ্রেড এর পাশে থাকা ড্রপডাউন মেনু তে ক্লিক করে আপনি যে গ্রেডের বকে বেতন পেতে চান সেটি নির্বাচন করুন; সহকারী শিক্ষক হলে বিএড ছাড়া বেতন গ্রেড ১১, বিএড সহ হলে বেতন গ্রেড ১০ এবং কর্মচারী ভেদে বেতন গ্রেড আলাদা আলাদা।
৪. বকেয়া বেতনের দাবি যে মাস থেকে করছেন সেটি প্রথমে সিলেক্ট করুন এবং যে মাস পর্যন্ত করছেন সেটি নির্বাচন করুন। আপনি চাইলে প্রত্যেক মাসের বিল আলাদা আলাদা এন্ট্রি করতে পারেন।
৫. পে কোডের ধাপ নির্বাচন করুন। আপনার বেতনের স্কেল কোড অনুযায়ী কোন ধাপের বেতনের বকে দাবি করছেন সেটি টাকার পরিমান হিসেবে সিলেক্ট করুন।
৬. আবেদনকারীর প্রত্যাশিত বকেয়া বেতনের পরিমাণ এর ফিল্ডে যে পরিমাণ টাকা আপনি বকেয়া হিসেবে পাবেন সেটি উল্লেখ করুন; মাস হিসেবে এন্টি দিলে প্রতি মাসের বকেয়া বেতনের টাকা এবং সম্পূর্ণ সময়সীমার জন্য এন্ট্রি দিলে সম্পূর্ণ বকেয়া এখানে লিখব। এখানে সিস্টেম জেনারেটর বকেয়া বেতন দেখাবে সেটি আপনার দাবির সাথে নাও মিলতে পারে।
৭. আপনার ইনপুট দেওয়া বকে বেতনের পরিমাণ সঠিক থাকলে যোগ করুন বাটনে ক্লিক করলে সেটি বকেয়া বেতন এর তালিকায় যোগ হয়ে যাবে। চাইলে প্রদর্শিত টাকার পাশে এডিট আইকনে ক্লিক করলে এন্ট্রি সংশোধন করতে পারবেন।
এই পর্যায়ে পিডিএস অনুযায়ী আপনার পেশাগত তথ্য ইনপুট করতে হবে; নতুন নিয়োগ গুলোর ক্ষেত্রে নতুন এমপি এর সময় গৃহীত তথ্যের আলোকে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিলাপ হয়ে যাওয়ার কথা যদি না থাকে অবশ্যই সেটি পূরণ করে দিতে হবে।
পেশাগত তথ্য অংশে শিক্ষক কর্মচারীর পদবী, প্রতিষ্ঠানটি স্তর, বিষয়, বর্তমান গ্রেড, বেতন গ্রেডের ধাপ, যোগদানের তারিখ ব্যাংকের নাম এবং অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার লিখতে হবে।

এসএমসি মানে ম্যানেজিং কমিটি অথবা গভর্নিং বডি অংশে কমিটির ধরন, নিয়োগ কালীন কমিটির ধরন, কমিটির মেয়াদ হইতে এবং পর্যন্ত এই ফিল্মগুলো ভালোভাবে পূরণ করবেন। সবশেষে প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ স্বীকৃতির তারিখ নির্বাচন করে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করবেন।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বকেয়া এমপিও প্রাপ্তির অনলাইন আবেদনের চতুর্থ ধাপে বকেয়া বেতন ভাতা দিয়ে প্রধানের জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সবাই গৃহীত সিদ্ধান্তের রেজুলেশনের তথ্য ইনপুট দিতে হবে;
রেজুলেশন সাথে প্লাস চিহ্নিত বাটনে ক্লিক করলে রেজুলেশন এর তথ্য এন্টি দেওয়ার ফর্ম আসবে সেখানে রেজুলেশন এর নাম, রেজুলেশনের তারিখ, মিটিং নম্বর, এবং সবার বিবরণী উল্লেখ করে যোগ করুন বাটনে ক্লিক করলে তথ্যটি সেভ হয়ে যাবে;
এই ধাপে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট পদে বা আবেদনকৃত পদের কোন মামলা অথবা অভিযোগ আছে কিনা সেটি তথ্য দিতে হবে। যদি এই পদের বিপরীতে কোন মামলা থাকে তাহলে মামলা আছে কিনা লেখার পাশের টিক চিহ্ন দিবেন আর যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে অভিযোগ আছে কিনা লেখার পাশে ঠিক চিহ্ন দিবেন।

যদি কোন মামলা বা অভিযোগ না থাকে তাহলে এই ধাপটি খালি রেখে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবেন। মনে রাখবেন এরিয়ার এমপিও আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদে মামলা বা অভিযোগ থাকলে আবেদন রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে তাই খেয়াল করে তথ্যটি নিশ্চিত করবেন।
ষষ্ঠধাপে বকেয়া বেতন ভাতা দিতে প্রাপ্তির আবেদনে প্রয়োজনীয় সংযুক্ত ডকুমেন্ট আপলোড করার পালা। এখানে মোট ছয়টি ডকুমেন্ট বা ছয় ধরনের ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে যা ইতিমধ্যে আমরা পূর্ববর্তী লেসনে আলোচনা করেছি।
ফাইলগুলোকে কম্পিউটারে স্ক্যান করে যে ফোল্ডারে রেখেছেন সেটি মনে করুন এবং নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করে ফাইলগুলো সংযুক্ত করুন।

১. সংযুক্তির ধরন এর নামের উপর ক্লিক করলে ডকুমেন্ট আপলোড করার ফর্ম আসবে;
২. সংযুক্তি ফরমে সংযুক্ত ফাইল এর পাশে ফাইল নির্বাচন করুন বাটনে ক্লিক করে কম্পিউটারের যেই জায়গায় আপনার সংশ্লিষ্ট ফাইলটি রেখেছেন সেটি খুঁজে বের করে ওই ফাইলটি সিলেক্ট করে ওকে বাটনে ক্লিক করুন;
৩. ফাইলটি সংযুক্ত হলে নির্বাচন বাটনের নিচে ফাইল এর প্রিভিউ আসবে। চাইলে সেখানে ক্লিক করে সেটি পুনরায় নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন সঠিক ফাইল নির্বাচন হয়েছে কিনা।
৪. সঠিক ফাইল নির্বাচন নিশ্চিত হলে সংরক্ষণ করুন বাটনে ক্লিক করেন;
৫. সংযুক্ত ফাইলের তালিকা যে ফাইলটি নির্বাচন করেছেন তার পাশে সংযুক্ত কলামে টিক মার্ক এসেছে কিনা সেটি নিশ্চিত হন। যদি ফাইলটি সঠিকভাবে আপলোড হয়ে থাকে তাহলে এখানে টিক চিহ্ন দেখাবে অন্যথায় বক্সটি খালি থাকবে।
এভাবে উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় একে একে সবগুলো ফাইল সংযুক্ত করে দেন। যদি একটি ফাইলে একাধিক ছবি সংযুক্ত করার প্রয়োজন হয় তাহলে কিভাবে একাধিক ছবিকে একটি পিডিএফ-এ কনভার্ট করা যায় সেটি দেখে নিন। ফাইলগুলো সংযুক্তি শেষ হলে আবেদনটি ড্রাফট হিসেবে সেভ করে নিন এবং পুনরায় ইনবক্স থেকে খুঁজে বের করে তথ্যগুলো বারবার যাচাই করুন।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বকেয়া এমপিও প্রাপ্তির আবেদনের আমরা প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। ইতোমধ্যেই উপরোক্ত ধাপ গুলো অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য এন্ট্রি করেছি এবং ফাইলগুলো সঠিকভাবে সংযুক্ত করেছে। এবার আমরা বকেয়া এমপিও প্রাপ্তির আবেদনটি ফাইনাল সাবমিট করব।

১. এমপিও বকেয়া প্রাপ্তির আবেদনের ষষ্ঠ ধাপে তৃতীয় অপশন মন্তব্যের ঘরে বকেয়াপ্রাপ্তির জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের ফরওয়ার্ডিং মন্তব্য লিখুন;
২. আবেদনের সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলে সবার উপরে সাবমিট বাটনে ক্লিক করে দিন।
আপনার সামনে একটি ডায়লগ বক্স ওপেন হবে যেখানে আপনি আবেদনটি চূড়ান্তভাবে সাবমিট করতে চান কিনা সেটি নিশ্চিত করতে বলবে। কারণ একবার আবেদন সাবমিট করে ফেললে আপনার সেটি সংশোধন করার কোন সুযোগ থাকবে না। তাই যদি আপনি নিশ্চিত হয়ে থাকেন সবগুলো ফাইল ঠিকভাবে সংযুক্ত হয়েছে এবং এন্ট্রি কিত তথ্যগুলো শতভাগ সঠিক তাহলে হ্যাঁ বাটনে ক্লিক করুন।

এই ছিল আমাদের বকেয়া এমপিও প্রাপ্তির আবেদন প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ লেসন। আশা করছি এটি অনুসরণ করে আপনি আপনার বিদ্যালয় এর যে কোন শিক্ষক কর্মচারীর বকেয়া এমপিও পারবেন খুব সহজে। এছাড়াও কোন সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমাদের সাপোর্ট গ্রুপে যোগদান করে সেখানে মেসেজ করতে পারেন অথবা সরাসরি আমাদেরকে হোয়াটসঅ্যাপে অথবা ইমেইলে জানাতে পারেন।