শিক্ষক নিবন্ধন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ কর্তৃক গৃহিত একটি চাকরির পরীক্ষা। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার এই পরীক্ষা বা বাছাই পদ্ধতিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। যা নিয়োগ প্রত্যাশিদের অবশ্যই জানতে হবে। নিবন্ধন পরীক্ষার নতুন নিয়ম সংক্রান্ত সঠিক তথ্যের অভাবে শিক্ষকতা পেশার মত আকর্ষনীয় একটি চাকরি প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়বে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত একটি সংস্থা যাদের মাধ্যমে এই পর্যন্ত ১৮টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (NTRCA Teacher Registration Test) অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ৭,১০,৬১০ জন চূড়ান্তভাবে নিবন্ধিত আছেন। বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষ এই পদ্ধতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসে। তার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে এমপিওভুক্ত পদে শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য কিছু সময়োপযোগী পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে তা নিয়েই আজকের আয়োজন।
Table of Contents
Toggleশিক্ষক নিবন্ধন কি?

নাম থেকেই বোঝা যায়- শিক্ষক নিবন্ধন হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার জন্য শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার একটি প্রক্রিয়া। তবে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শিক্ষক নিবন্ধন বলতে বোঝায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি) শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া বা পরীক্ষা।
নির্ধারিত সিলেবাস এবং রুটিন অনুযায়ী ২০০৫ সাল থেকে এই পর্যন্ত মোট ১৮ টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এরমাধ্যমে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষকে যোগ্যতা সাপেক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ের জন্য শিক্ষক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষক নিবন্ধন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া

২০১৫ সালের পূর্বে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে একটি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ নামে একটি সনদ প্রদান করতো এবং ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আলাদা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতো, নিবন্ধনধারী শিক্ষকগণ তাদের যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষ্যে কাঙ্খিত পদে আবেদন করতেন। এরপর আলাদা একটি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হতো।
নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও অনিয়ম রোধের জন্য ২০১৫ সালে এনটিআরসিএ প্রথম গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত পদে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়া আরম্ভ করে।
২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ৬টি গণবিজ্ঞপ্তি এবং কয়েকটি বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২,৪১,০৩০ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এর জন্য সুপারিশ করেছেন।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী- নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষক নিবন্ধন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

- ১. প্রতিষ্ঠান থেকে ই-রিকুইজিশন গ্রহণ (শূণ্যপদের তথ্য)।
- ২. শূন্যপদ অনুযায়ী গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
- ৩. ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক নিয়োগ প্রদান।
এই পদ্ধতিতে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ২,৪১,০৩০ জন শিক্ষককে নিয়োগ সুপারিশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা মাউশি, ডিএমই এবং টেকএডু কর্তৃপক্ষের নিয়মানুযায়ী এমপিওভুক্ত হয়ে চাকরি করছেন।
নিচের সারণিতে ১ম থেকে ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিয়োগ গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্তদের সংখ্যা দেওয়া হল-
| বিজ্ঞপ্তি নম্বর ও নাম | প্রকাশের সাল | প্রকাশের তারিখ | সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| ১ম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (প্রথম গণ বিজ্ঞপ্তি) | ২০১৬ | ১৮,৪০১ জন | |
| ২য় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (দ্বিতীয় গণ বিজ্ঞপ্তি) | ২০১৯ | ৩১,৬৬৫ জন | |
| সেসিপ (বিশেষ) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-১ | ২০২০ | ৬৭৬ জন | |
| ৩য় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (তৃতীয় গণ বিজ্ঞপ্তি) | ২০২২ | ৩৪,২০৩ জন | |
| ৩য় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২য় ধাপ (তৃতীয় গণ বিজ্ঞপ্তি-২) | ২০২২ | ৯২৪ জন | |
| বিশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | ২০২২ | ৩,৮৪৪ জন | |
| সেসিপ (বিশেষ) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-২ | ২০২২ | ৪৭৪ জন | |
| ৪র্থ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (চতুর্থ গণ বিজ্ঞপ্তি) | ২০২৩ | ২৭,৮৪৬ জন | |
| সেসিপ (বিশেষ) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-৩ | ২০২৩ | ৭২ জন | |
| ৫ম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (পঞ্চম গণ বিজ্ঞপ্তি) | ২০২৪ | ২২,১০৩ জন | |
| ৬ষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (ষষ্ঠ গণ বিজ্ঞপ্তি) | ২০২৫ | ১৬ জুন ২০২৫ | ১,০০,৮২২ জন |
| মোট: | ১১ টি | ২,৪১,০৩০ জন |
তবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চিরচেনা এই পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন করে নিবন্ধন পরীক্ষার নতুন নিয়ম নিয়ে আসতে চাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত না হলেও ৯০% সম্ভাবনা আছে এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করার। এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ভিত্তিতে বিদ্যাশিখি ডট কম এর পক্ষ থেকে ১৯ তম থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সম্ভব্য সকল বিষয় নিয়ে এবার আলোচনা করবো।
পরিবর্তিত নতুন নাম
বিভিন্ন মাধ্যমে এখনো উনিশতম শিক্ষক নিবন্ধন নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। সহজে বোঝার স্বার্থে ঊনিশতম নিবন্ধন স্পেসিফিক বলা হলেও ঊনিশতম নিবন্ধন নামে কোন নিবন্ধন আসবে না। পরবর্তী নিবন্ধন পরীক্ষা হবে সরাসরি শিক্ষক নিবন্ধন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নামে।
এরমানে পূর্বের ধারাবাহিকতা প্রথম, দ্বিতীয় … … … ষোলোতম নিবন্ধন, সতেরোতম, আঠারোতম, এরপর উনিশতম এভাবে আর চলবে না। পরবর্তীতে এই পরীক্ষা বা প্রক্রিয়াকে সরাসরি ‘শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার বা শিক্ষক নিবন্ধন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ বলা হবে। কারণ হিসেবে জানা যায়- এরপর থেকে পরীক্ষা ও গণবিজ্ঞপ্তি আলাদাভাবে প্রকাশ না করে সরাসরি শূণ্যপদের জন্য বিসিএস এর আদলে নিয়োগ পরীক্ষা হবে এবং চূড়ান্ত উত্তীর্ণরা সরাসরি নিয়োগ পাবেন।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি
বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে বা বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমে বা অনেক মাধ্যম থেকেই আপনারা শিক্ষক নিবন্ধন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ (Shikkhok Nibondhon Circular 2026) নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক অনেক ধরনের তথ্য জেনেছেন বা অনেকেই টেনশনে আছেন যে পরবর্তী নিবন্ধন পরীক্ষা আসলে প্রিলি হবে নাকি লিখিত হবে, নাকি লিখিত বাদ যাচ্ছে, নাকি প্রিলি বাদ যাচ্ছে, বা আদৌ এটা আসলে কোন পর্যায়ে যাবে।
আপনি যদি বেসরকারি এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হতে চান তাহলে পরবর্তী শিক্ষক নিবন্ধন আসলে কেমন হতে যাচ্ছে বা কি কি পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে এবং নতুন নিয়ম এবং এই মুহূর্তে আপনাদের করণীয় কি তা জানা আবশ্যক।
আপনারা যে সমস্ত বিষয়গুলো নিয়েই আসলে খুবই দ্বিধাদ্বন্দের মধ্যে আছেন যে, আসলে পরবর্তী নিবন্ধনের জন্য আমরা কি করব। অনেকেই তো দেখা দেখেছে যে পড়াশোনাই ছেড়ে দিয়েছে। অনেকেই দেখা গেছে যে আমাদের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে আয়োজন করা কোর্সগুলোতে পড়াও বাদ দিয়ে দিয়েছে।
পরীক্ষা হবে না বা প্রিলি হবে না বা লিখিত হবে? পদ্ধতি কেমন হবে? কত নম্বরের পরীক্ষা হবে? কাট মার্ক কত হবে? নিয়োগ কিভাবে হবে? এই বিষয়গুলো স্পষ্ট তথ্য না থাকায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এই ধোঁয়াশার কারণেই দেখা যাবে যে অনেকেই কিন্তু পিছিয়ে যাবেন। আর হঠাৎ করে যখন সার্কুলার চলে আসবে তখন প্রস্তুতি নেওয়ার সময় না পেয়ে হতাশায় পড়তে হবে।
তাই পিছিয়ে পড়তে না চাইলে এই তথ্যটি সম্পূর্ণ পড়ুন এবং প্রয়োজনে নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে রাখুন। তাহলে পরিচিতি বন্ধু বান্ধব উপকৃত হবে এবং আপনিও নিজেও পরে সেটি ব্যবহার করতে পারবেন।
আর হ্যাঁ, শিক্ষক নিবন্ধন সর্বশেষ আপডেট পাওয়ার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করবেন এবং বিদ্যাশিখি ইউটিউব চ্যানেল ও বিদ্যাশিখি ফেসবুক পেইজ লাইক, ফলো এবং সাবস্ক্রাইব করে রাখবেন।
বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ও নিবন্ধন পরীক্ষার তুলনামূলক বিশ্লেষণ
শুরুর আগে দেখে নেওয়া যাক বর্তমানে আসলে দেশে বেকারের সংখ্যা কত? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য মতে দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৬৩ শতাংশ; যদিও সরকারি হিসাবমতে বলা হচ্ছে আটাশ লাখ, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্নাতক পাস বেকারের সংখ্যা ৪,০০০,০০০ বা তারও বেশি হতে পারে।
আপনাদের মাথায় রাখতে হবে যে বর্তমানে কিন্তু বেকারত্বের সংখ্যা অনেক বেশি। মানে যারা অন্ততপক্ষে স্নাতক বা ডিগ্রি পাস। এই ডিগ্রি পাস এরকম বেকারের সংখ্যা বর্তমানে ৪,০০০,০০০। এখন ভাই, এই ৪০ লাখের কি সবাই কি চাকরি পাবে? এটা আদৌ সম্ভব না। এখান থেকে হয়তো ১,০০,০০০, ১.৫ লাখ বা সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ চাকরি পাইলো।
কারণ বুঝতে হবে, বর্তমানে নিবন্ধন থেকে শুরু করে অন্যান্য যতগুলো সরকারি সেক্টর আছে, খুব বেশি হলো কত লাখ আছে? ২ বা ২.৫ লাখ বাদ সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে ৫ লাখ বা ৫.৫ লাখ পদ হবে নিবন্ধন সহ।
বিগত নিবন্ধন পরীক্ষার পরিসংখ্যান (১ম থেকে ১৮তম)
এখন আমরা বিগত নিবন্ধন নিয়ে বেশ কিছু পরিসংখ্যান দেখব। এই পরিসংখ্যানগুলো আপনাদের দেখাটা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষাসমূহের ফলাফল (১ম – ১৮তম)
| পরীক্ষা | অংশগ্রহণকারী | পাসের হার | উত্তীর্ণ | উত্তীর্ণের হার |
| ১ম পরীক্ষা সেপ্টেম্বর, ২০০৫ | ৪৬০০৫ | ৫৭.৪৮% | ৩৯৭৭৮ | ৪৮.৭৭% |
| ২য় পরীক্ষা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ | ৪৫৭৪৮ | ৪৭.১৯% | ৩৩০৫৬ | ২২.৪৮% |
| ৩য় পরীক্ষা সেপ্টেম্বর, ২০০৭ | ৬০৬২৬ | ৪৬.৭৬% | ২৬৬৬০ | ২০.৫৫% |
| ৪র্থ পরীক্ষা ডিসেম্বর, ২০০৮ | ৬০২১৭ | ৪৭.৩৯% | ৩২৩০৩ | ২৫.৩৯% |
| ৫ম পরীক্ষা ডিসেম্বর, ২০১০ | ২০৬০৫২ | ৭১.৪২% | ৩২২২৪ | ১১.০৭% |
| ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা, ২০১১ | ২২০২৯৭ | ৭৮.৪৯% | ৪৬২৫৪ | ১৬.৪৯% |
| বিশেষ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা, ২০১৩ | ৩৩০০ | ৪২.৪৯% | ২০৬৪ | ২৬.৫৯% |
| ৭ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা, ২০১৩ | ২২৬১১৬ | ৬৮.৬৬% | ৪৭৫৩৫ | ১৪.৪৪% |
| ৮ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা, ২০১৪ | ২৪৮৯৩২ | ৭৯.৫০% | ৫৬০৪৯ | ১৭.৮৫% |
| ৯ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা, ২০১৫ | ২৪৪৯৪৯ | ৭৭.৬৩% | ৭১৬৬৬ | ২২.০৮% |
| ১০ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা, ২০১৬ | ৩৫২৪৬৯ | ৭৯.১৭% | ১২১৮০৩ | ২৭.৩৫% |
| ১১তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা, ২০১৭ | ৩২৭৪৮২ | ৭৪.০৪% | ৫২০০৫ | ১১.৭৫% |
| ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (প্রিলিমিনারি) | ৪৫০৭১৩ | ৯৬.৯২% | ৭৩২৪৬ | ১৬.৯৪% |
| ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (লিখিত) | ৬০০২১৯ | ৯৭.৬১% | ৪৭৪৬৯ | ৭.৭২% |
| ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (প্রিলিমিনারি) | ৪৭৭২৮৬ | ৮৪.২০% | ১৪৪৭২২ | ২৫.৫৩% |
| ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (লিখিত) | ২৭৬৯৫৮ | ৩৬.৭৪% | ৫১৯৪ | ৬.৮৯% |
| ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (প্রিলিমিনারি) | ২৭৪০৬৬ | ৯৫.২৪% | ৯৭৩২৯ | ৩৩.৮২% |
| ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (লিখিত) | ৩৫১৬৩১ | ৮১.৫৯% | ৭৪৬৩০ | ১৭.৩২% |
| ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (প্রিলিমিনারি) | ২৬৯৯৯২ | ৯৪.৬৬% | ৭৩৬২৪ | ২৫.৮১% |
| ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (লিখিত) | ৩৯৯০৬০ | ৯২.৫৯% | ৬১৭১৯ | ১৪.৩২% |
| ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (প্রিলিমিনারি) | ২৫৭৯৯১ | ৮৭.২৩% | ৬১১৮৩ | ২০.৬৮% |
| ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১৯ (লিখিত) | ২১০৪৩২ | ৯৪.৭৯% | ২০৫৪৪ | ৯.২৫% |
| ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২০ (প্রিলিমিনারি) | ৮১৯৯২ | ৮১.৬৪% | ১৯৩৪৪ | ১৯.২৪% |
| ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২০ (লিখিত) | ১৪২৯১৭ | ৯৯.১৯% | ১৬৮৬২ | ১১.৭০% |
| ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২১ (প্রিলিমিনারি) | ১৮৮২৬২ | ৮৭.৫৭% | ৪০৪৫৮ | ১৮.৮২% |
| ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২১ (লিখিত) | ২০০০৫৬ | ৮৯.৮৯% | ১৬৩৪৯ | ৭.৩৫% |
| ১ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১০ (প্রিলিমিনারি) | ২৫৯৫৪৩ | ৮১.৪২% | ২১৯৭৪ | ৭.৫২% |
| ১ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১০ (লিখিত) | ৩০৩০২০ | ৯৩.২৯% | ১২৮৩২ | ৩.৯৪% |
| ২য় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২২ (প্রিলিমিনারি) | ২৫৩৪১৫ | ৮৭.০০% | ৩৪০২১ | ১১.৬৭% |
| ২য় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২২ (লিখিত) | ২৫৫৬২০ | ৮৭.২৩% | ১৫৮১৬ | ৫.৩৯% |
| ৩য় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২২ (প্রিলিমিনারি) | ৩৯৫৬৩৪ | ৮৮.৭০% | ৯৬,৮১১ | ২১.৭০% |
১ম – ১৮তম সকল পরীক্ষার মোট অংশগ্রহণকারী সংখ্যা = ৬৯,৬৯,৫৭৭ জন যার মধ্যে মোট উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা = ৬,৫৯,৫৫৩ জন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি
চাকরির কর্মস্থল কোথায় হবে এটা নিয়ে দ্বিধায় থাকার কারণে অনেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চান না। এর অন্যতম কারণ বর্তমান বাংলাদেশের বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রবেশ পর্যায়ে একজন শিক্ষকের বেতন ১২৫০০ টাকা হলে বাড়ি থেকে অনেক দূরে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে গেলে সেখানে চাকরি করা এবং জীবন যাপন অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।
তাদের জন্য সুখবর হলো ইতোমধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ইন্ডেক্সধারী শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা তৈরি করেছে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম চালু হয়েছে। সুতরাং দেশের যে কোন প্রান্তে আপনি সুপারিশ প্রাপ্ত হলেও নির্ধারিত নিয়মে নিজের কাছাকাছি শহরে বা কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে বদলি হওয়ার সুযোগ আছে।
অন্যান্য চাকরি বনাম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন
এই পর্যায়ে আমরা দেশের প্রচলিত অন্যান্য সরকারি, বেসরকারি বা আধা-সরকারি চাকরিগুলোর সাথে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার একটা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করবো এবং নিবন্ধন পরীক্ষাটা অন্যান্য চাকরির সাথে তুলনা করব। এতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া কিছুটা সহজ হবে।
আগামীতে যে শিক্ষক নিবন্ধনটা আসতেছে তা প্রাইমারি, বিসিএস বা অন্যান্য চাকরির সাথে টেক্কা দেয়ার মত চাকরি হতে যাচ্ছে। বিসিএস এর মত একচুয়ালি না। তবে, প্রাইমারি বা অন্যান্য চাকরির সাথে, অন্যান্য চাকরিকে টেক্কা দেয়ার মত হবে অবশ্যই। নিচের সারণি বিশ্লেষণ করলে আপনিও আমার সাথে একমত হবেন-
| পরীক্ষার ধরন | মোট আবেদনকারী (প্রায়) | প্রিলিতে উত্তীর্ণ (প্রায়) | সুপারিশ প্রাপ্ত | সুপারিশ প্রাপ্তির হার (আবেদনের বিপরীতে) |
| সাঁইত্রিশতম বিসিএস | ৩,৭৪,০০০ | ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ | ৩,৭০০ থেকে ৩,৮০০ (সকল পোস্ট) | ১% |
| ব্যাংক জব (গড়) | ১,৪০,০০০+ | ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ | ১,০০০ থেকে ১,৫০০ | ১.৫% |
| বিগত প্রাইমারি | ১১,৩৯,৪৩৩ | ৫৩,০০০ (পাসের হার ৪.৬১%) | ১৪,৪৮৪ | ১.২৬% |
| আঠারোতম নিবন্ধন | ১৮,৬৫,০০০+ | ৪,৭৯,৯৯৬ (পাসের হার ৩৫.৮০%) | ৪১,৬২৭ (ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে) | ২.২৩% |
তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাইমারি এবং নিবন্ধনের মধ্যে শিক্ষক নিবন্ধন প্রিলিতে পাস করার হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৮০%)। চূড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্তির হার: বিসিএসে ১%, ব্যাংকে ১.৪০% থেকে ১.৫%, প্রাইমারিতে ১.২৬%, নিবন্ধনে ২.২৩%।
অর্থাৎ, অন্যান্য চাকরি থেকে নিবন্ধনে চাকরি পাওয়াটা একটু হলেও সহজ। নিবন্ধনের চাকরি পাওয়ার হার অন্যান্য চাকরির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নিবন্ধনের চাকরি স্পেশালি প্রাইমারি বা অন্যান্য চাকরি থেকে কিন্তু একটা স্পেশাল একটা চাকরি হতে যাচ্ছে।
১৮তম নিবন্ধনের রেজাল্ট বিশ্লেষন
১৮তম নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় ৮৩ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমি প্রেডিকশন করেছিলাম যে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইবা) পাসের সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি হবে না। সেখানে অনেকেই এই মন্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন।
চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যায়- শেষ পর্যন্ত ভাইবাতে পাস করেছে মাত্র ৬০ হাজার। যা আমাদের পূর্বাভাসের সঙ্গে একদম মিলে গিয়েছিল। আমরা আরও বলেছিলাম এই ৬০ হাজারের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাবে সর্বোচ্চ ৪০–৪৫ হাজার প্রার্থী। বাস্তবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে ৪১,৬২৭ জন।
আমরা আরও বলেছিলাম- বাসস্থান থেকে দূরে, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বা অন্যান্য কারণে সুপারিশপ্রাপ্ত ৪১ হাজারের সবাই চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন না। সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার শিক্ষক প্রকৃত যোগদান করবে। এনটিআরসিএ থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে সেটিও মিল পাওয়া যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আমাদের দেওয়া প্রতিটি বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সঠিক তথ্য, পরিসংখ্যান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা এই পূর্বাভাসগুলোই দেখায় যে শিক্ষার্থী ও চাকরি – প্রত্যাশীদের জন্য বিদ্যাশিখি ডট কম এর সরবরাহকৃত তথ্য সবসময়ই নির্ভরযোগ্য ও উপকারি।
শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের সুপারিশ প্রাপ্তির হার
বিগত তিনটা নিবন্ধন (১৬, ১৭, ১৮) দেখলে বোঝা যায়, যত দিন যাচ্ছে, নিবন্ধনে কিন্তু একটা সুযোগ তৈরি হচ্ছে। নিচের তথ্য পরিসংখ্যানটা দেখে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন শিক্ষক নিয়োগ এর সুপারিশের হার পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ছে।
| নিবন্ধন | মোট আবেদনকারী (প্রায়) | সুপারিশ প্রাপ্ত | সুপারিশ প্রাপ্তির হার (আবেদনের বিপরীতে) |
| ষোলোতম | ১১,০০,০০০ | ১৮,৫৫০ | ১.৫৭% |
| সতেরোতম | ১১,৯৪,০০০ | ২১,০০০+ | ১.৭৫% |
| আঠারোতম | ১৮,৬৫,০০০ | ৪১,৬২৭ | ২.২৩% |
১৯তম নিবন্ধনের প্রত্যাশিত আবেদনকারী ও সুপারিশের হার
অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন- উনিশতম নিবন্ধনে বা পরবর্তী শিক্ষক নিবন্ধনে কতজন আবেদন করতে পারে? পূর্বের সবগুলো পরীক্ষা অনুযায়ী আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ হলো এই নিবন্ধনে সর্বনিম্ন ২২ থেকে ২৫ লাখ আবেদন হবে। কারণ হচ্ছে, নিবন্ধন এখন আর আগের মতো নেই;
শিক্ষকতা পেশায় এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন ধরনের সুযোগ সুবিধা, যা আবেদনকারীর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়ে দেবে। এবং শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের হারও বেড়ে যাবে। ১৮তম নিবন্ধনে যেখানে সুপারিশ ছিল প্রায় ২.২৩%, উনিশতম নিবন্ধনে তা অবশ্যই ২.৫% বা তার বেশি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আগের সব নিবন্ধনকে পিছনে ফেলে উনিশতম নিবন্ধন বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সুপারিশপ্রাপ্তির রেকর্ড গড়তে পারে। আসন্ন উনিশতম নিবন্ধনটি হবে রেকর্ডব্রেকিং হওয়ার পর ২০তম থেকে শিক্ষক নিয়োগ এর হার কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সামনে আসছে সবচেয়ে বড় সুযোগ। তাই এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করে আপনিও শিক্ষক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারেন।
আসন্ন নিবন্ধনের শূন্যপদ (বিস্তারিত হিসাব)
বিগত ১৬তম, ১৭তম ও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকে মোট প্রায় ৮০,০০০ জন সুপারিশ পেয়েছেন। এই অবস্থায় উনিশতম নিবন্ধনের জন্য শূন্যপদ থাকবে আনুমানিক ৭০,০০০ এর কাছাকাছি।
বর্তমান শূন্যপদের হিসাব: মোট শূন্যপদ ছিল ১,০০,০৮২ টি এর মধ্যে ৪১,৬২৭ জন সুপারিশ পেয়েছেন। বাকী ৫৯,০০০ এর বেশি এখনো শূন্যপদ রয়েছে। খালি পদের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকবে।
এর অন্যতম কারন হিসেবে বলা যায়- দূরবর্তী প্রতিষ্ঠান, বিষয়ভিত্তিক অমিল (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা), ব্যক্তিগত/পারিবারিক কারণ সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই চাকরিতে যোগ দেবেন না। বিশেষ করে অনেক নারী প্রার্থী দূরত্বের কারণে যোগদান নাও করতে পারেন। ধারনা করা যায় ৪১,৬২৭ সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে আনুমানিক ৫,০০০ জন যোগদান করবেন না।
যার ফলে শূন্যপদের সংখ্যা দাড়াবে ৬৪,০০০ টি। সার্কুলার থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত আরও ৫–৬ হাজার পদ স্বাভাবিকভাবে খালি হবে। মোট আনুমানিক শূন্যপদ হবে: ৭০,০০০ (কম-বেশি); এই বিশাল শূন্যপদের কারণে উনিশতম নিবন্ধনে বড় পরিসরে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
শিক্ষক নিবন্ধনের গুরুত্ব
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার অসাধারণ সুযোগ তৈরি হবে। সেই সাথে সমাজের সম্মানজনক পেশায় নিজের ক্যারিয়ার গড়া যাবে।
এছাড়াও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়োগ হবে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে। তাই যারা শিক্ষক হতে চান, তাদের জন্য এটি সত্যিকার অর্থেই একটি বড় সুযোগ।
শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা বিলুপ্তি ও মেধায় নিয়োগ
নারী কোটা বিলুপ্তি: নিবন্ধন শিক্ষক নিয়োগে নারী কোঠা বিলুপ্তি হয়ে গেছে। শিক্ষক নিবন্ধনে যে নারী কোঠা ছিল, সে নারী কোঠা কিন্তু এখন আর নাই। এই জিনিসটা মাথায় রাখতে হবে।
মেধায় নিয়োগ (৯৩%): শিক্ষক নিবন্ধনে নিয়োগ হবে কিভাবে? ৯৩% মেধায় হবে। নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্যই ৯৩%। নারীদের জন্য আলাদা কোন কোটা নেই। পুরুষের জন্য কই, কোন ধরনের কোনো কোটা নাই।
কোটা নিয়োগ (৭%): মুক্তিযোদ্ধা (ফ্রিডম ফাইটার): ৫%। প্রতিবন্ধী (অটিজমের শিকার) এবং আদিবাসী সম্প্রদায় (ইতিহাস গ্রুপ): ১%।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স সংক্রান্ত ক্রাইটেরিয়া
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা এর সর্বশেষ সংশোধনীর আলোকে এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির জন্য নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট পদে জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।
এখনো পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ প্রবেশ পর্যায়ে প্রভাষক, সহকারী শিক্ষক ও জুনিয়র শিক্ষক পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজন করেন।
প্রভাষক, সহকারী শিক্ষক পদে শিক্ষক নিবন্ধন দেয়ার জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সহ দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রী / সমমানের ডিগ্রী থাকবে হবে। এবং শিক্ষাজীবনে একটির বেশি তৃতীয় শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।
এছাড়াও পদ ভিত্তিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাদা আলাদা শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়। ১৮ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সার্কুলারে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাবে।
আসন্ন শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার ও পরীক্ষা পদ্ধতি (নতুন নিয়ম)
অনেকেই জিজ্ঞেস করেছেন সার্কুলার কবে হবে? সাবজেক্টিভ যে পরীক্ষাটা হবে, সেটা কি এমসিকিউ টাইপ হবে? অবশ্যই এটাই তো আপনাদেরকে আজকে জানাবো যে আপনাদের পরীক্ষাটা কেমন হবে। এটাই হলো আপনাদের আজকের আসল আলোচনার বিষয়।
আসন্ন সার্কুলার: আমরা জানি যে উনিশতম শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য বেশ কিছু খসরা বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পর্যালোচনারত রয়েছে। তারা এগুলোকে খুব তাড়াতাড়ি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিবে।
এটা খুব হতে পারে, মানে সেটা, যেহেতু আপনাদের ১৮ তম রেজাল্ট হয়ে গেছে, ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির, মানে অল্প কিছুদিনের মধ্য ভিতরে, এ মাসের ভিতরে এটা মন্ত্রণালয় চলে যাবে।
মন্ত্রণালয় চলে গেলেই এই খসরাগুলোতে কি কি আছে? ১ নাম্বার যেটা দেখেন, ১ নাম্বার হলো কি? গণবিজ্ঞপ্তি থাকবে না। সার্কুলার অবশ্যই অবশ্যই আগামী মাসে আসতেছে। হান্ড্রেড পার্সেন্ট আসবে।
আগামী মাসেই আসবে। যদি কোন দুর্ঘটনা না ঘটে, অবশ্যই আগামী মাসে সার্কুলার আসবে। কারণ হচ্ছে যে বর্তমান সময়ে চাচ্ছে, মানে বর্তমান সরকার চাচ্ছে যত দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া গুলোকে শেষ করা। আগামী মাসে ইনশাল্লাহ আপনারা সার্কুলার পেয়ে যাবেন।
আগামী মাসেই আপনার সার্কুলার পেয়ে যাবেন, কিসের? শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার। সরাসরি নাম হবে কি? শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার কত সাল? ২০২৫।
পরীক্ষা পদ্ধতি (পরিবর্তন):
পরীক্ষা পদ্ধতিটা কি হবে? ভালো করে দেখেন। প্রিলি হবে। রিটেনও হবে। প্রিলি, রিটেন দুইটাই হবে। এরপর কি হবে? এরপর হচ্ছে ভাইবা হবে। আগে প্রিলি, লিখিত ও ভাইবার ফলাফলের মধ্যে ৬ থেকে ৭ মাস সময় লাগত। এখন এই সময়টাকে তারা কমিয়ে আনবে কিভাবে? প্রিলি এবং লিখিত একসাথে নিবে।
প্রিলি ও লিখিত একসাথে: আগে প্রিলি হইতো একদিন, এরপর হইতো কি? লিখিত হইতো। এখন প্রিলি আর লিখিত একসাথে হবে। কত নম্বরের হবে? ২০০ নম্বরের হবে। এই ২০০ নম্বরের পরীক্ষা একসাথে হবে।
অনেকেই শুনেছেন যে স্পেশাল বিসিএস স্টাইলে হবে। স্পেশাল বিসিএসের ২০০ নম্বর এমসিকিউ হয় (জেনারেল ১০০, সাবজেক্টিভ ১০০)। ভাই, লিখিত থাকবে। তবে সিস্টেমটা একটু চেঞ্জ হবে।
২০০ নম্বরের বিভাজন (প্রস্তাবিত পদ্ধতি)
| পদ্ধতি (খসড়া প্রস্তাব) | জেনারেল | সাবজেক্টিভ | মোট নম্বর | সম্ভাব্য পরীক্ষা ধরন |
| পদ্ধতি ১ | ১০০ নম্বর (প্রিলি) | ১০০ নম্বর (লিখিত) | ২০০ | একই সাথে, একই প্রশ্নে (কম সম্ভাবনা) |
| পদ্ধতি ২ | ১০০ নম্বর (এমসিকিউ) | ৫০ নম্বর (এমসিকিউ) + ৫০ নম্বর (লিখিত) | ২০০ | একই সাথে, একই প্রশ্নে (বেশি সম্ভাবনা) |
| পদ্ধতি ৩ | ১৫০ নম্বর (এমসিকিউ) | ৫০ নম্বর (লিখিত) | ২০০ | একই সাথে, একই প্রশ্নে (বেশি সম্ভাবনা) |
জেনারেল ১০০ নম্বরের প্রিলির বিভাজন:
বাংলা: ২৫, ইংলিশ: ২৫, ম্যাথমেটিক্স: ২৫, জিকে: ২৫
সারসংক্ষেপ: প্রিলিও বাদ যাচ্ছে না, লিখিতও বাদ যাচ্ছে না। এই বিষয়টা মাথায় রেখে আপনারা এখন থেকে পড়াশোনা করেন। যারা পড়াশোনায় গ্যাপ দিয়েছেন, চরম ভুল করতেছেন।
যারা প্রিলির প্রিপারেশন নিচ্ছেন, এখন ধুমসে প্রিলির প্রিপারেশন নেন। কারণ আপনাদের জেনারেলে প্রিলি বাড়তে পারে। লিখিত তো থাকবেই। লিখিত হয়তো একটু নম্বর কমতে পারে। লিখিতের নম্বর একটু কমে আসতে পারে।
স্কুল, কলেজ কি একসাথে আবেদন করা যাবে? অবশ্যই যাবে। স্কুল, কলেজ অবশ্যই আবেদন করা যাবে। স্কুল ২ আর স্কুল, হ্যাঁ, এ দুইটা থেকে এখন সামনে কিন্তু এগুলো চেঞ্জ হতে, চেঞ্জ হচ্ছে। এখন যেমন হচ্ছে যে স্কুল এবং স্কুল ২ একসাথে পরীক্ষা হয়, এই সমস্যাটা হয়তো একটা সুরাহা আসতে পারে।
যে স্কুলের একদিন পরীক্ষা, স্কুল দুইয়ের একদিন, কলেজের একদিন, এরকম একটা সমস্যার সমাধান হতে পারে। এরকম কিন্তু হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তখন আপনি কিন্তু তিনটাতেই কি করতে পারবেন? যোগদান করতে পারবেন।
পরীক্ষা ও পাস মার্কের নতুন নিয়ম (কাটমার্ক):
৪০ পাইলেই প্রিলিতে পাস, এই চিন্তাটা আপনার মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। যদি একসাথে পরীক্ষা হয়, তাহলে এটা হবে কাট মার্ক সিস্টেম। কেন কাটমার্ক সিস্টেম হবে? কারণ গণবিজ্ঞপ্তি থাকবে না।
গণবিজ্ঞপ্তি না থাকলে কি হবে? সরাসরি নিয়োগ। ভাইভায় পাস মানেই নিয়োগ। কাটমার্কের উদ্দেশ্য: প্রিলিতে যারা পাস করবে, শুধু তাদের লিখিত খাতাটাই দেখবে। প্রার্থী নির্বাচন (লিখিত): এই ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় প্রার্থী টিকাবে দ্বিগুণ। ৭০০০০ শূন্য পদ হলে দ্বিগুণ অর্থাৎ ১,৪০,০০০ প্রার্থীকে টিকাবে।
কাটমার্ক: সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্তকে বেসমার্ক ধরে, ১,৪০,০০০ তম প্রার্থীর প্রিলির নম্বরটাই (যেমন ৫৬) কাট মার্ক হবে।
সাবজেক্টিভ পরীক্ষার ধরন
সাবজেক্টিভের ক্ষেত্রে একশোই লিখিত হইতে পারে। অথবা, ৫০ সাবজেক্টিভের উপর প্রিলি, আবার সাবজেক্টিভের উপর ৫০ লিখিত, এরকম হতে পারে। অথবা এরকম হতে পারে, দেড়শোই হতে পারে প্রিলি, আর পঞ্চাশ শুধু সাবজেক্টিভের লিখিত।
সহজ কথা: প্রিলিও থাকবে, লিখিতও থাকবে। পরীক্ষাটা হবে কি? একই দিনে হবে, একই সাথে হবে। এবং কাঠমার্ক হবে।
নিয়োগ ও প্যানেল সিস্টেম
ভাইভায় কতজন টেকাবে? পদ হলো ৭০০০০ না? এই ৭০০০০ জন টেকাবে। ভাইভাতে টেকাবে এটার টোয়েন্টি পার্সেন্ট বেশি টেকাবে। ৭০০০০ এর ২০% হলো ১৪০০০। তাহলে ভাইভাতে টেকাইলো মনে করেন যে ৮৪০০০।
প্যানেল সিস্টেম: নিবন্ধনে এই প্রথমবারের মতো প্যানেল সিস্টেম হতে যাচ্ছে। টোয়েন্টি পার্সেন্ট অতিরিক্ত কেন টিকাবে? এই ৭০০০০ যে মূল প্রার্থী, এদের ভিতর যদি ১০০০০ যদি চাকরিতে যোগদান না করে, তাহলে ওই যে টোয়েন্টি পার্সেন্ট অতিরিক্ত যে টিকিয়েছে, যারা ভাইবা পাস করে বসে আছে এই চোদ্দ হাজার, ওখান থেকে ১০ হাজারকে নিয়োগ দিবে। তার মানে বুঝতেই পারতেছেন যে কত একটা সুবিধা আপনারা পেতে যাচ্ছেন।
নম্বর বন্টন (বর্তমান সিস্টেম)
বাংলাতে ২৫, গণিত, ইংরেজি ২৫, গণিতে ২৫, সাধারণ জ্ঞান ২৫। এটা হলো বর্তমান সিস্টেম। তবে এখানে জেনারেলের নম্বর একটু বাড়তে পারে। হয়তো ১২০ বা ১৫০ এরকম করতে পারে। মোট কথা, প্রিলিও থাকবে, লিখিতও থাকবে। দুইটা পরীক্ষা একই দিনে হবে।
স্কুল, কলেজ কি একসাথে আবেদন করা যাবে? অবশ্যই যাবে। স্কুল, কলেজ অবশ্যই আবেদন করা যাবে।
আবেদন যোগ্যতা ও বয়সসীমা (বিস্তারিত)
বয়সসীমা: বয়স হচ্ছে কি? ২১ থেকে ৩২ বছর। আগের যেরকম বয়স আছে। স্কুল দুইয়ের ক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৩২। স্কুল, কলেজে হচ্ছে কত? ২১ থেকে ৩২।
কারেকশন: বয়স সর্বোচ্চ আপনি ৩৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। স্কুল দুইতে ১৮ থেকে ৩৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটা: তারাও ৩৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
বয়সের বাধা মুক্ত: পরবর্তী নিবন্ধন থেকে বয়সের বাধা আর থাকতেছে না। যেদিন আপনার সার্কুলার হবে, ঐদিন যদি আপনি ৩৫ হয়ে যান, ঐদিন আপনি যদি আবেদন করতে পারেন, আপনার চাকরি এখন যতক্ষণ হয় হোক।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
আবেদন যোগ্যতা আমি আগেই বলেছি। আগে যেরকম ছিল আবেদন যোগ্যতা, এরকমই থাকবে।
স্কুল ২: অবশ্যই আলিম পাস অথবা কি? এইচএসসি পাশ।
স্কুল পর্যায়: ডিগ্রি পাশে, ডিগ্রির সাথে মাস্টার চাইতে পারে কিছু কিছু ক্ষেত্রে। ৪ বছর মেয়াদি অনার্স পাশে আবেদন করতে পারবেন। যারা মাস্টার্স আছে, তারা তো পারবেনই।
কলেজ পর্যায়: যাদের ডিগ্রি আছে, ডিগ্রির সাথে মাস্টার্স লাগবে। ৪ বছর মেয়াদি অনার্স করেছেন, তারা তো পারবেনই। মাস্টার্সও বাধ্যতামূলক কিছু সাবজেক্টে।
ফলাফল: দ্বিতীয় শ্রেণি, যেটা হচ্ছে কমপক্ষে ৪ স্কেলের রেজাল্ট থাকবে ২.২৫। আর যদি ৫ স্কেল হয়, ২.৮০।
সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স কত হবে? ২১ থেকে ৩২। তবে স্কুল দুইয়ের জন্য বয়স হবে কত থেকে? স্কুল দুইয়ের জন্য বয়স হবে ১৮ থেকে ৩২। আর যারা কোটা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর।
আবেদন প্রক্রিয়া, ধাপসমূহ ও এসএমএস সতর্কতা
আবেদন প্রক্রিয়া: আগে যেরকম অনলাইন ভিত্তিক করেছেন, ওইভাবেই হবে। অনলাইনে আপনি আবেদন করবেন।
ফি জমা: টেলিটক প্রিপেড মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দিবেন।
যোগাযোগ: সবসময় যে নাম্বার দিয়ে আবেদন করেছেন, অবশ্যই ওই নাম্বারটা আপনাদের খোলা রাখতে হবে। এখানে নানা তথ্য আপনাকে এসএমএস করে জানাবে।
নিবন্ধনের ধাপ (প্রস্তাবিত)
প্রিলি/এমসিকিউ: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান, আইসিটি।
লিখিত পরীক্ষা: এমসিকিউ ফরম্যাটের পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষার এমসিকিউ একই দিনে হবে।
ভাইবা: লিখিত পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন, তাদেরকে ভাইভায় নিয়ে যাবে।
চূড়ান্ত মেধা তালিকা: লিখিত পরীক্ষায় যে প্রাপ্ত নম্বর আছে, অর্থাৎ ওই ২০০ নম্বরের পরীক্ষার ভিত্তিতে আপনাদের রেজাল্ট আসবে এবং মেধা তালিকা আসবে।
শিক্ষক পদে বর্তমান বেতন স্কেল ও ইনক্রিমেন্ট
কলেজ পর্যায় (লেকচারার)
| পদের বিবরণ | বর্তমান বেসিক স্কেল | অন্যান্য ভাতা সহ (প্রায়) | ১০ বছর পর (অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর) |
| লেকচারার | ২২,০০০ টাকা | ২৫,০০০ টাকা (বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা দ্বিগুণ) | ৩৫,০০০ টাকা (বেসিক) |
| অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর | – | ৩৮,০০০ টাকা (বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা দ্বিগুণ) | – |
| প্রিন্সিপাল | – | বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা দ্বিগুণ পাবেন | – |
স্কুল পর্যায় (সহকারি শিক্ষক – ১১ গ্রেড), বর্তমান বেসিক: ১২,৫০০ টাকা। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। বিএড ডিগ্রি থাকলে টোটাল ১৬,০০০ টাকা বেতন পাচ্ছেন। বিএড না থাকলে বিএড করার সময় দিবে।
জুনিয়র শিক্ষক:
বেসিক: ১২,০৩০ টাকা। অন্যান্য ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট: উৎসব ভাতা: ৫০% (বছরের দুটি উৎসব ভাতা, বেসিকের ৫০%)। বৈশাখী ভাতা: ২০%।
ইনক্রিমেন্ট: জুলাই মাসে দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য বছরে একবার ৫% ইনক্রিমেন্ট। প্রত্যেক বছরই আপনার বেতন ৫% ইনক্রিমেন্ট হবে।
পে কমিশন ২০২৫ ও নতুন বেতন স্কেল
আপনারা জানেন যে পে কমিশন ২০২৫ গঠন হয়েছে।
নতুন পে স্কেল: ২০২৬ সালে নতুন পে স্কেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ পে স্কেল হয়েছিল।
ইনক্রিমেন্ট: নতুন পে স্কেলে মোটামুটি আপনারা ফিফটি পার্সেন্ট ইনক্রিমেন্ট পাবেন।
বেতন বৃদ্ধি (প্রত্যাশিত):
কলেজে বেসিক ২২,০০০ টাকা হলে ১.৫ গুণ হয়ে ৩৩,০০০ টাকা হবে। বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা সহ মোট বেতন প্রায় ৩৬,০০০ টাকা হবে।
স্কুলে প্রায় ২০,০০০ প্লাস বেতন হয়ে যাবে (বাড়িভাড়া সবকিছু মিলে)। স্কুল ২ পর্যায়ে প্রায় ১৪, ১৫,০০০ হয়ে যাবে।
পে কমিশনের কারণ: কেন এত তড়িঘড়ি করে পে কমিশন করছে? মানে আগামী বাজেট থেকে আপনাদেরকে মূল স্কেল, মানে বেতন স্কেল, নতুন স্কেল দিবে।
প্রস্তুতির জন্য করণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
এই মুহূর্তে আপনাদের করণীয় হচ্ছে প্রিলির জন্য পড়াশোনা করা। সবার আগে দরকার প্রিলির জন্য পড়াশোনা করা।
কম্বাইন্ড প্রস্তুতি: পাশাপাশি লিখিতের জন্য প্রিপারেশন যেভাবে চলতেছে, টুকটাক প্রিপারেশন নিতেই থাকেন। দুটোই কম্বাইন্ড নিতেই থাকেন। কারণ লিখিতও থাকবে।
পরীক্ষার ধরন: প্রিলি আর লিখিত একই দিনে হতে পারে। ২০০ নম্বরের পরীক্ষা। বিসিএস, স্পেশাল বিসিএসের মতো হইতে পারে। তবে এখানে প্রিলিও থাকবে, লিখিতও থাকবে। প্রিলি এবং লিখিত, লিখিততে নম্বর কমতে পারে। তবে প্রিলি হান্ড্রেড পার্সেন্ট থাকবে।
লক্ষ্য: এই মুহূর্তে আপনাদের দরকার প্রিলির পড়াশোনাটাকে গুছিয়ে নেওয়া।
পাসের ধারণা পরিবর্তন: এখন চল্লিশের ধান্দা করে তো লাভ নাই। ৪০ পাইলেই পাস, এরকম চিন্তা মাথা থেকে এখন ঝেড়ে ফেলতে হবে। কাটমার্ক সিস্টেম হবে।
নেগেটিভ মার্কিং: নেগেটিভ মার্কিং তো থাকবে।
মাদ্রাসায় সুপারিশপ্রাপ্তদের জন্য পরামর্শ: আপনি মাদ্রাসায় সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন, একটি নন এমপিও স্কুলে আছেন। আপনি এখন কি করবেন? অবশ্যই মাদ্রাসায় চলে যাবেন। কারণ ওটা নন এমপিও। এখানে যোগদান করাটা সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। না হলে ভবিষ্যতে পস্তানো লাগবে।
শেষ কথা ও প্রস্তুতিতে গতি বৃদ্ধি
টোটাল কথা হচ্ছে, আপনাদের এখন অবহেলা করা যাবে না। আগামী নিবন্ধন আর উনিশতম নিবন্ধন হবে না। সরাসরি হবে শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার। আগামীতে শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার, এটা আপনাদের জীবনের জন্য কি হয়ে যাবে? যেমন ঊনপঞ্চাশতম স্পেশাল বিসিএস এসেছে কি? এই প্রজন্মের জন্য একটা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
এই সুযোগটা আপনি আগামী ২০ বছর পাবেন কিনা, আমার সন্দেহ। কারণ এই সুযোগটা কিন্তু পাবেন না। যেহেতু প্রথমবার, অনেক কিছু নতুন নিয়ম আসতেছে। এই নতুন নিয়মে যে একটু চালাক, এখন থেকে যে কি করবে, নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারবে, সে কিন্তু আগায় থাকবে।
সর্বশেষ বার্তা:
পড়ার বিকল্প নাই। গুজবে কান দিবেন না। ধুমসে কি করেন? আজকে থেকে প্রিলি পড়া শুরু করেন। প্রিলি আর লিখিতর পড়া একটু একটু করে আগায় রাখেন। প্রিলির পড়া আগে থেকে যেভাবে ছিল, এখন থেকে একটু আরেকটু গতি বাড়ায় দেন। কারণ এখানে ফোর্টি পার্সেন্ট, মানে চল্লিশে পাস আর থাকবে না। কাটমার্ক সিস্টেম হবে।
শিক্ষক নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ’s)
পরবর্তী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা কি ১৯তম নামেই আসবে, নাকি অন্য নামে?
পরবর্তী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আর ১৯তম নিবন্ধন নামে আসবে না। এটি সরাসরি ‘শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার‘ (যেমন শিক্ষক নিবন্ধন সার্কুলার ২০২৫) নামে আসতে যাচ্ছে। তবে বোঝার স্বার্থে এটি ১৯তম নিবন্ধন হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষা কি একই দিনে হবে এবং কাটমার্ক কেমন হতে পারে?
হ্যাঁ, পরবর্তী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলি এবং লিখিত পরীক্ষা একই দিনে, একসাথে, মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে হতে পারে। ৪০ নম্বরে পাসের ধারণা বাদ দিয়ে এখানে কাটমার্ক সিস্টেম চালু হবে। কাটমার্ক হবে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে; প্রিলিতে যারা পাস করবে, কেবল তাদের লিখিত খাতাই দেখা হবে।
নতুন নিয়মে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কি গণবিজ্ঞপ্তি থাকবে, নাকি মেধা তালিকা হবে?
নতুন নিয়মে পরবর্তী শিক্ষক নিবন্ধন থেকে গণবিজ্ঞপ্তি আর থাকবে না। এর পরিবর্তে, লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর এবং ভাইভার ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে এবং চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে।
শিক্ষক নিবন্ধনে এই প্রথম চালু হতে যাওয়া প্যানেল সিস্টেমের সুবিধা কী?
শিক্ষক নিবন্ধনে এই প্রথমবারের মতো প্যানেল সিস্টেম চালু হতে যাচ্ছে। এর সুবিধা হলো, ভাইভাতে মূল শূন্যপদের চেয়ে অতিরিক্ত ২০% প্রার্থীকে (যেমন ৭০০০০ শূন্য পদের জন্য অতিরিক্ত ১৪০০০) টিকিয়ে প্যানেলে রাখা হবে। মূল প্রার্থীরা যোগদান না করলে, প্যানেলে থাকা অতিরিক্ত প্রার্থীদের মেধার ভিত্তিতে শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
পরবর্তী নিবন্ধনে আবেদনকারী প্রার্থীর বয়সসীমা ৩৫ বছর পর্যন্ত হলে নিয়োগের সময় বয়সের বাধা থাকবে কি?
না, পরবর্তী নিবন্ধন থেকে আবেদনের দিন বয়স ৩৫ বছর পর্যন্ত থাকলে, পরবর্তীতে নিয়োগের সময় আর বয়সের বাধা থাকবে না। অর্থাৎ, যেদিন আপনার সার্কুলার হবে, ঐদিন যদি আপনি ৩৫ বছর পর্যন্ত আবেদন করতে পারেন, আপনার চাকরি এখন ৬০ বছর বয়সে গিয়ে হোক বা ৪০-এ গিয়ে হোক, চাকরি যখন হয় হোক – বয়সের বাধা আর থাকছে না।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় নারী কোটা কি থাকবে?
না, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা যে নারী কোটা ছিল, সে নারী কোঠা কিন্তু এখন আর নাই। নিয়োগ হবে ৯৩% মেধায় এবং নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য এই মেধা কোটা প্রযোজ্য হবে। বাকি ৭% কোটা থাকবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য।
NTRCA Circular 2026 বা শিক্ষক নিবন্ধন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ কবে প্রকাশিত হবে?
এই বিষয়ে এখনো তেমন কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে আশা করা যাচ্ছে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে shikkhok nibondhon circular 2026 প্রকাশিত হতে পারে।
আমি বিশ্বাস করি সঠিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রস্তুতি নিতে পারলে আপনি ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত পদে চাকরি করার সুযোগ পাবেন।
