Homeমডার্ণ মার্কেটিংবছরে বেতন ১ ডলার! কেন এবং কিভাবে? – Tax Loophole

বছরে বেতন ১ ডলার! কেন এবং কিভাবে? – Tax Loophole

বছরে বেতন ১ ডলার! কেন এবং কিভাবে? - Tax Loophole

এই যে এখানে যাদেরকে দেখছেন, ইনারা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার মধ্যে ইলন মাস্ক সবাইকে ছাড়িয়ে এখন দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি — ইলন মাস্ক। এর সম্পদ হচ্ছে দুইশো একাত্তর বিলিয়ন ডলার। এখানে বাংলাদেশের জিডিপি হচ্ছে তিনশো বিলিয়ন ডলার।

তবে ইনাদের সবার মধ্যে একটা কমন ব্যাপার কী জানেন? ইনারা সবাই তাদের কোম্পানি থেকে বছরে মাত্র ১ ডলার বেতন পায়। বাংলা টাকায় যেটা হয় ৮৬ টাকা তিরিশ পয়সা মাত্র।

এখন আমার তিনটা প্রশ্ন — তাদেরকে টাকা দেখলে গা জ্বলে? নাকি তাদের টাকার প্রতি অনেক বেশি এলার্জি? নাকি তারা অনেক বড়লোক, দেখে আমাদের সামনে সিম্বলি খালি ভাব মারতেছে?

আরে, মজা করলাম। একচুয়ালি তিনটা প্রশ্ন হচ্ছে — তারা কেন এত কম বেতন নিচ্ছে? এটার পেছনে কি কোনো মোটিভ লুকিয়ে আছে? নাকি তারা কাজ করার জন্যই নিচ্ছে?

তাহলে ইনস্যানিটিগুলা কী? ১ ডলারই বা কেন, জিরো ডলার না কেন?

আগস্ট ১৯২৯ থেকে মার্চ ১৯৩৩ পর্যন্ত আমেরিকা গ্রেট ডিপ্রেশনে ভুগছিল। সেই সময় আমেরিকার জিডিপি কমে যায় ৩০ পার্সেন্ট, এবং বেকারত্বের হার গিয়ে দাঁড়ায় ২৩ পার্সেন্ট — যেটা আমেরিকার হিস্টোরিতে রেকর্ড ব্রেকিং।

ঠিক তার পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, যেটা শুরু হয় সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ পর্যন্ত। এই সময় আমেরিকান গভর্নমেন্টকে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় লিডাররা এগিয়ে আসেন। তবে সেই সময় আমেরিকার ল’ ছিল যে, গভর্নমেন্ট কাউকে ফ্রিতে কাজ করাতে পারবে না। সেইজন্য তারা মাত্র ১ ডলার নিয্য, যার কারণে এইসব ইন্টারেস্টেড… এক্সকিউজ মি…

আমেরিকান গভর্নমেন্ট তার এই ডেডিকেশন দেখে তাকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার লোন দেয়, এবং তার পরে নীল লেখক তার কোম্পানিকে পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন।

১৯৯৭ সালে অ্যাপেল অনেক বেশি স্ট্রাগল করছিল। তখন তারা স্টিভ জবসকে আবার সিনিয়র হিসেবে অ্যাপয়েন্ট করে। স্টিভ জবস ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বছরে মাত্র ১ ডলার করে স্যালারি নিতেন।

শুধুমাত্র স্ট্রাগলিং কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেই এই টাইপের ইনিসিয়েটিভ দেখা গেছে সিইওদের মাঝে। তবে এখন চিত্রটি কমপ্লিটলি ভিন্ন।

ফেসবুক বা টেসলা — এই কোম্পানির কোনোটাই দেউলিয়া হওয়ার পথে না। এবং এই দুই কোম্পানি বেশ প্রফিটেবল কোম্পানি।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে — এদের সিইওরা কেন মাত্র ১ ডলার নিচ্ছে?

কারণ একটাই — ওয়েল, একচুয়ালি কারণ একটা না, কারণ দুইটা। একটা হচ্ছে ছোট কারণ, আরেকটা হচ্ছে বড় কারণ।

ছোট কারণ হচ্ছে ইনভেস্টরস এবং শেয়ারহোল্ডারদের খুশি করা। এইটা বোঝানো যে তাদের কোম্পানির প্রতি প্রচুর পরিমাণে আস্থা আছে। আর যেহেতু এই সিইওদের সবারই স্টকস আছে…

সে কোম্পানির তো, যখন কোম্পানির স্টকপ্রাইস বাড়বে তখন তারাও বেনিফিটেড হবে। এটা হচ্ছে ছোট্ট রিজন। আর একচুয়ালি রিজন হচ্ছে — ট্যাক্স।

ধরেন, ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ। ফেসবুক থেকে বছরে ২০ মিলিয়ন ডলার স্যালারি পাই। এর মধ্যে থেকে ফেডারেল ট্যাক্স তাকে দিতে হবে ৩৭ পার্সেন্ট। তার মধ্যে স্টেট ট্যাক্স, মেডিকেয়ার, সোশ্যাল সিকিউরিটি — সবকিছু মিলিয়ে তাকে ৫২ পার্সেন্ট ট্যাক্স দিতে হবে গভর্নমেন্টকে।

আর সেখানে সে যদি স্যালারি দেখায় মাত্র ১ ডলার, আর স্টক কম্পেনসেশন নেয় সে ২০ মিলিয়ন ডলার, তাহলে ফেডারেল ট্যাক্স দিতে হবে ০%, আর সব ট্যাক্স মিলিয়ে তাকে দিতে হবে মাত্র ৩৭ পার্সেন্ট। এভাবে করে, সে আরও ৩.১ মিলিয়ন ডলার বেশি টাকা সেভ করতে পারবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে — কেন ১ ডলার? কেন ০ ডলার না?

এটার কারণ হচ্ছে লিগ্যাল রিজনস। কেউ যদি কোনো কম্পেনসেশন না নিয়ে ০ ডলারের কাজ করে, তাহলে সে একজন ভলান্টিয়ার হিসেবে গণ্য হবে, এমপ্লয়ি হিসেবে না। আর একজন ভলান্টিয়ারের ওপর আপনার কোম্পানির রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস ইমপোজ করতে পারবেন না।

যেমন ধরেন, একটা ভলান্টিয়ার যদি আপনার কোম্পানির খুবই সিক্রেট এবং সেনসিটিভ ইনফরমেশন লিক করে দেয় আপনার কম্পিটিটরের কাছে — আপনার করার কিছুই থাকবে না। এই কারণেই ০ ডলারের বদলে ১ ডলার নেওয়া হয়।

এখন প্রশ্ন হলো — তারা কম্পেনসেশন বা বেনিফিট পায় কীভাবে?

উত্তর — স্টকস আর অপশন।

স্টকসের ব্যাপারে তো আপনারা কমবেশি সবাই জানেন — এটা হচ্ছে একটা কোম্পানির শেয়ার। যেটার প্রাইস বাড়লে আপনি লাভবান হবেন, আর যদি প্রাইস কমে যায়, তাহলে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

আর স্টক অপশনস হচ্ছে এমপ্লয়িদেরকে একটা ফিক্সড রেট বা ডিসকাউন্ট রেটে স্টক দেওয়া। সো, যখন স্টকের প্রাইস আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে — আপনি যখন সেল করবেন, তখন আপনি লাভবান হবেন।

ইলন মাস্ক ২০২০ সালে শুধু স্টক অপশন থেকেই পেয়েছিলেন ৬ বিলিয়ন ডলার। এটি এমন এক ম্যাথড, যেটা ইউএসএ-র টপ টেন মোস্ট পেইড সিইওদের মধ্যে দেখা যায়।

যদি তাদের কম্পেনসেশনগুলো আমি লিস্ট করি, তাহলে দেখা যাবে তাদের স্যালারি, তাদের টোটাল কম্পেনসেশনের মধ্যে মাত্র ০.৪ পার্সেন্ট কনসিডার করে। যেখানে স্টকস আর অপশনস কম্পেনসেশন কনসিস্ট করে ৯৮ পার্সেন্ট।

বাই দ্য ওয়ে, এখানে আমি ইলন মাস্ককে একদমই ইনপুট করিনি, কারণ উনার কম্পেনসেশন…

Share: 

No comments yet! You be the first to comment.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয় ক্যাটাগরি