Homeমডার্ণ মার্কেটিংগেরিলা মার্কেটিং ট্রিক্স – কম খরচে বেশি সেল

গেরিলা মার্কেটিং ট্রিক্স – কম খরচে বেশি সেল

গেরিলা মার্কেটিং ট্রিক্স - কম খরচে বেশি সেল

আজকের ভিডিওতে আপনাদেরকে দেখাবো যে ডিফারেন্ট ডিফারেন্ট ব্র্যান্ডস কিভাবে কম খরচে তাদের সেলস বৃদ্ধি করে। এই যে এই গাড়িটা দেখছেন না, এটা হচ্ছে ফিয়াট গাড়ি, যেইটা ওয়াক্স বাগানের হেডকোয়ার্টারসের সামনে পার করা ঘুঘু ম্যাপে।

কেউ যদি তখন ওয়াক্স বাগানের হেডকোয়ার্টার দিয়ে সার্চ করতো, তাহলে তখন স্ট্রিট ভিউতে এইটা চোখে পড়তো। ব্যাপারটা এমন যে, আপনি কাজ করছেন অ্যাপেলে কিন্তু ইউজ করছেন স্যামসাং এর ফোন। ইন্টারেস্টিং, রাইট?

এবং এই কারণেই এটা সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক ভাইরাল হয়ে যায়। আর এদিকে ফিয়াট কমপ্লিটলি ফ্রি ফ্রি অর্গানিক প্রমোশন পায়। যে লেভেলের রিচ পেয়েছে, সেটা যদি তারা অ্যাড বা কমার্সিয়াল দিয়ে কিনতো তাহলে সেক্ষেত্রে প্রচুর টাকা লাগতো।

আর এইক্ষেত্রে তারা কোন কিছুই খরচ করেনি। এই যে ফিয়াট যে কাজটা করলো, এটাকে বলে এম্বুশ মার্কেটিং, যেটা গেরিলা মার্কেটিং এর আন্ডারে পড়ে। আর এরকম কিছু ট্রিকস এর কথা আজকের ভিডিওতে দেখাবো, যেখানে আসলে সবচেয়ে বেশি দরকার টাকা না, বুদ্ধি আর ক্রিয়েটিভিটি।

উনিশশো চুরানব্বই সালে, জে কনরেড লেভিনসন গেরিলা মার্কেটিংয়ে প্রথম এইটা ইন্ট্রোডিউস করেন। যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই গেরিলা ওয়ার্ল্ডের কৌশল চারদিকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।

যেমনটা করা হয়েছিল উনিশশো একাত্তর সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের। শত্রুপক্ষের তুলনায় অস্ত্র সংখ্যা কিন্তু কম ছিল, তাই শত্রুপক্ষকে স্তব্ধ করার জন্য তারা আকস্মিকভাবে আক্রমণ করতো বিভিন্ন পন্থায়।

এবং এই মডেলটাই ব্যবহার করা হয় গেরিলা মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে। এটা ছোট ছোট ব্র্যান্ডরা প্রথমে ব্যবহার করা শুরু করেছিল, কারণ স্বাভাবিকভাবে তাদের মার্কেটিং বাজেট অত বেশি থাকেনা। পরে এটার কার্যকারিতা দেখে বড় বড় গ্লোবাল প্লেয়ার যেমন কোকাকোলা,

পেপসি, নাইকি, মার্সিডিজ বেঞ্জ—সবাই এটাতে যোগদান করে। যেমন আমাদের এই উদাহরণের ক্ষেত্রে, ফিয়াটের কিছু এমপ্লয়ি লক্ষ্য করলো, তাদের শহরে গুগল ম্যাপের স্ট্রিট ভিউ কারটা ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তখন তারা চালাকি করে ওয়াক্স ভাইডের হেডকোয়ার্টারসের সামনে তাদের ফিয়াট গাড়িটা পার্ক করে চলে আসে। মানে তারা বুঝাতে চাচ্ছে, যে ওয়াক্সের এমপ্লয়িরা ফিয়াট গাড়ি ব্যবহার করে। এই টাইপের মার্কেটিং কেই বলা হয় গেরিলা মার্কেটিং।

আচ্ছা, বড় বড় কোম্পানি বাদ দেই। আমাদের দেশের একটা মজার উদাহরণ আছে, সেটা আপনাদের বলি। ফেসবুকের একজন ইউজার এই ছবিটা পোস্ট করে বলে, “AWAK Coffee Roaster – That Sent a Proof of My Love Voice!” এবং বিলের সাথে তাকে ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

৯০০ পলিউশনের জন্য ব্যাপারটা তো বেশ মজার, রাইট? সো, মানুষজনরা ধুমসে শেয়ার দেয় এবং এর সাথে সাথে এওয়েক কফি রোস্টারের রিচ বাড়তে থাকে এবং বাড়তেই থাকে। তো যাই হোক, পরে যিনি পোস্ট করেছেন, উনি রিভিউ করে বলেন যে, আসলে তিনি মজা করে গেরিলা মার্কেটিং একটু টেস্ট করতে চাইছিলেন।

উনি এটাও জানান যে, তার এই পোস্টটা অলমোস্ট ১৬,০০,০০০ মানুষকে রিচ করে ফেসবুকে। তো যাই হোক, আপনাদেরকে একটা প্রশ্ন করি—আপনারা বলতে পারবেন যে, আমরা দিনে কয়টা করে ১ মিনিট ৪ থেকে ১০,০০০টা অ্যাড দেখি? রেকর্ডিং টু সানস্ক্রীন, আর এটা হয়েছে স্পেশালি বিকজ অফ ডিজিটাল মার্কেটিং।

তাহলে আপনার মেসেজ এই ভিড়ের মাঝে কিভাবে অ্যাটেনশন পাবে? আর একটা কোম্পানির জন্য ব্র্যান্ড রিকল অনেক জরুরি একটা বিষয়। ব্র্যান্ড রিকল হচ্ছে, আপনার কাস্টমার আপনাকে মনে রাখছে কি রাখছে না। এবং এই মনে রাখার কাজের জন্য গেরিলা মার্কেটিং খুবই খুবই ইফেক্টিভ একটা টুল।

তো যাই হোক, গেরিলা মার্কেটিং অনেক ধরণের হয়। তো আমি আজকে আপনাদেরকে সবগুলো না, জাস্ট কিছু হ্যান্ডসাম তুলে ধরবো আপনাদের সামনে। প্রথমে হচ্ছে অ্যাম্বুশ মার্কেটিং। অ্যাম্বুশ মার্কেটিং সোজা কথায়—আপনি আপনার এনভায়রনমেন্টকে কাজে লাগান।

আপনি আপনার ব্র্যান্ডের মেসেজটা কিভাবে ক্রিয়েটিভলি দিচ্ছেন, এটা হচ্ছে অ্যাম্বুশ মার্কেটিং। যেমন, এখানে দুইটা বেঞ্চ দেওয়া আছে, তো তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে যে, একটা বেঞ্চের বসার জায়গাটা নাইকি উঠায় দিছে, উঠায় দিয়ে তাদের লোগো বসায় দিছে উপরে “Just Run”।

এই ব্যাপারটা কিন্তু ওদের ব্র্যান্ড মেসেজের সাথে যায়। এবার আরেকটা এক্সামপল দেখাই—এই ম্যানহোল থেকে স্টিম বের হচ্ছে, কিন্তু এই ম্যানহোলটাকে এমনভাবে থ্রিডি পেইন্টিং করে করা হয়েছে যে, মনে হচ্ছে হট কফির স্টিম এখান থেকে বের হচ্ছে।

খুবই ক্রিয়েটিভ, তাই না? এবং এই মজার কাজটা কে করেছে? ফৌজারস কফি, যেটা মানুষের মাঝে একটা ওয়াও ইফেক্ট ক্রিয়েট করে। তো ম্যাগনেট ওয়াংস ও কিন্তু এটার জন্য পিছিয়ে নেই। তারা অ্যাম্বিয়েন্ট মার্কেটিংকে একদম নেক্সট স্টেপে নিয়ে গেছে।

দেখেন, তারা ম্যানহোলের ওপরে একটা আস্ত কাপ বসিয়ে দিয়েছে এবং ওই কাপ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এখন ওই দিক থেকে যারাই হেঁটে যাবে, সবাই কিন্তু ওটার উপরে অ্যাটেনশন দিবে। অনেকে হয়তোবা ছবি তুলবে, সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবে।

তো, একটা ইফেক্টিভ গেরিলা মার্কেটিং এক্সিকিউশন করার জন্য দুইটা বিষয় খুবই খুবই দরকার। প্রথম কথা হচ্ছে—আপনার এক্সট্রিম করে ইমোশনকে ট্রিগার করা, যেমন ধরেন অবাক করে দেওয়া, কাউকে হাসানো, চমকিয়ে দেওয়া।

দ্বিতীয় হচ্ছে—পজিটিভলি ইমপ্যাক্ট করা, সেটা যেন নেগেটিভ না হয়। কারণ দেখেন, আপনি একজনকে শক করতে পারেন, কিন্তু সেটা নেগেটিভ হইলে শক করা যায় না ভাই!

তাহলে সেক্ষেত্রে আপনার ক্যাম্পেইন পুরোপুরি ফেল করবে। যেমন লাস ভেগাসে একটা রেস্টুরেন্ট আছে, সেটার নামই হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক গ্রিল। তাদের মেনুর আইটেমগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটস, কোলেস্টেরল, সুগার—মানে সবকিছুতেই ভরা।

আর ওদের সিগনেচার আইটেম হচ্ছে বাইপাস বার্গার, যেখানে আপনি একটা না, আটটা পর্যন্ত প্যাটি অ্যাড করতে পারবেন। যেটা বলে, অক্টোপল বাইপাস বার্গার—আটটা প্যাটি। তো একবার একজন কাস্টমার ওখানেই খাচ্ছিলেন ট্রিপল বাইপাস বার্গার, এবং ওটা খেতে খেতেই তার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়।

তখন অ্যাম্বুলেন্স আসে, মেডিকেল টিম আসে, সবাই আশেপাশে খুবই ভয় পেয়ে যায়। বাট এগুলা সবই সাজানো ছিল মানুষের মধ্যে নেগেটিভ ভাব দেওয়ার জন্য। পাবলিক এটা মোটেও পছন্দ করেনি এবং এটা খুবই খুবই নেগেটিভলি রিসিভ হয়েছে।

যার কারণে রেস্টুরেন্টের ওনার জন ব্যাসকে পরে পাবলিকলি ক্ষমা চাইতে হয়। কিন্তু যে জিনিসটার জন্য আমাদের কখনোই ক্ষমা চাইতে হয় না, সেটা হচ্ছে লাইক বাটন! দয়া করে লাইক বাটনটা দেখবেন, একদম এপ্লিকেশনটা খুলে ফাটায় দেন। প্লিজ ওয়েট, ওকে?

আমরা এখন যে মার্কেটিং টেকনিক নিয়ে আলোচনা করবো, সেটা বাংলাদেশে বহু প্রচলিত এবং সব জায়গায় আপনি দেখতে পারবেন। সেটা হচ্ছে, ওই যে রিকশার পেছনে দেখবেন কিছু অ্যাড দেওয়া থাকে, অটোগ্রাফের পেছনে দেখবেন অ্যাড দেওয়া থাকে, রাইট?

প্রস্রাবখানার দেয়ালে দেখবেন স্টিকার! ইনস্টাগ্রামে এগুলা হচ্ছে ওয়াইল্ড পোস্টিং, যেটা হচ্ছে গেরিলা মার্কেটিং-এর একটা অংশ। হ্যালো, সরি ফর দ্য ইন্টারাপশন, সো ট্রিমিং স্কুলে এখন একটা ফ্ল্যাশ সেল চলতেছে—ইলেভেন ইলেভেন ফ্ল্যাশ সেল!

আপনারা যদি কোন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স নিতে চান, যেমন স্পোকেন ইংলিশ, মাইক্রোসফট এক্সেল, মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট, কার্টুন অ্যানিমেশন, ফেসবুক মার্কেটিং ইত্যাদি—even নেগেটিভ সেশন স্ক্রিনশট নিয়ে একটা পোস্ট আছে, যা আমার বেশি দরকার।

ডেসক্রিপশনে লিংক দেওয়া আছে, সে লিংকে ক্লিক করে আপনারা কিনতে পারেন। যদি আমার লিংক থেকে কিনেন, তাহলে আমার এই চ্যানেলের জন্য অনেক হেল্পফুল হবে। বিকজ আমি একটা স্মল পার্সেন্টেজ পাই—দ্যাটস হোয়াইট, ভাই!

একটা ভিডিও—ওয়াইল্ড পোস্টিং এমন এক ধরনের আউটডোর অ্যাডভার্টাইজিং মেথড, যেখানে অনেকগুলো পোস্টার শহরের বিভিন্ন জায়গায়, যেখানে অনেক লোক সমাগম হয়, সেখানে বসানো হয়। এতে করে একই সময়ে তুলনামূলক অল্প টাকায় অনেক মানুষকে রিচ করা যায়।

নেক্সটে যে মার্কেটিং টেকনিক নিয়ে আমি আলোচনা করব, সেটা অনেক ইন্টারেস্টিং। সো, আমি কথা না বাড়িয়ে আপনাদেরকে ডিরেক্ট দেখাই—কয়েক বছর আগে “ইট” একটা মুভি বের হয়েছিল..

যেটা একটা হরর ফিল্ম আর ম্যাকডোনাল্ডসের ম্যাসকটকে, একটা ক্লাউন—ইটের ভিলেনও একটা ক্লাউন। বার্গার ঠিক তখন ম্যাকডোনাল্ডসকে খোঁচায়, বলতেছে “Never trust a clown”। এটাকে বলে অ্যাম্বুশ মার্কেটিং।

মূলত অ্যাম্বুশ মার্কেটিং হচ্ছে একদম সোজা কথা—কাদা ছোড়াছুড়ি। যখন একটা কোম্পানি আরেকটা কোম্পানির অ্যাডভার্টাইজিং ক্যাম্পেইনকে হাইজ্যাক করে বা আক্রমণ করে, সেটা হচ্ছে অ্যাম্বুশ মার্কেটিং। তাদের উদ্দেশ্যটা কী? তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে অডিয়েন্সের সামনে নিজেকে বা নিজের আধিপত্যকে স্ট্যাবলিশ করা।

রিসেন্ট একটা উদাহরণ হয়ে গেছে এবং এটা সবাই রিলেট করতে পারবে। সেটা গেস হোয়াট—বিকাশ ভার্সেস নগদ। তো আমরা সবাই দেখেছি, একদিন বিকাশে একটা রান করে—”ওস্তাদ! বিকাশে তো খরচ কমছে, ওই যে ক্যাশ আউট হাজারে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা, মাসে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত”।

ঠিক তার কয়েক দিনের মধ্যে নগদ আরেকটা অ্যাড দেয়—”কী রে? রাস্তা বন্ধ করে ওস্তাদিই করেন, কোনো লাভ নাই। রাস্তা ছাড়েন, সরি বস!” যাই হোক, ইন্টারেস্টিং ছিল আমার কাছে। বিষয়টা যদিও অনেকেই সমালোচনা করেছেন নগদকে, কিন্তু ইন্টারেস্টিং নিঃসন্দেহে ছিল।

এখন আমরা আরেকটা গেরিলা মার্কেটিং ট্যাকটিক নিয়ে কথা বলব। ২০১৪ সালে মনে আছে? ওই যে ALS Ice Bucket Challenge-এর কথা। সেলিব্রিটিস থেকে শুরু করে সবাই নিজের মাথায় খালি বরফ ঢালত। এইটা ছিল এক ধরনের গেরিলা মার্কেটিং ট্যাকটিক, যার নাম ছিল গ্রাসরুট মার্কেটিং।

আচ্ছা, ওয়াইল্ড পোস্টিং-এর ক্ষেত্রে আপনারা কী বলেছিলেন মনে আছে? ওয়াইল্ড পোস্টিং-এর অবজেক্টিভটা হচ্ছে যত বেশি মানুষকে রিচ করা যায়। গ্রাসরুট মার্কেটিং-এর ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো, বা বলা যায় একটু ঘুরিয়ে করা হয়।

গ্রাসরুট মার্কেটিং-এ বেসিক্যালি ছোট্ট একটা গ্রুপকে টার্গেট করা হয় এবং তারা এটা এক্সপেক্ট করে যে, এই ছোট্ট গ্রুপ একটা বড় গ্রুপকে স্ট্রেইট আউট করে দেবে। যেমনটা করেছিল ALS অ্যাসোসিয়েশন Ice Bucket Challenge-এর মাধ্যমে।

এইটা ছিল একটা মোটর নিউরন ডিজিজ, যেটা আমাদের ভলান্টিয়ার মাসলকে এফেক্ট করে। যেমন আমাদের হাত, পা ইত্যাদি, এবং এগুলো আস্তে আস্তে প্যারালাইজড হয়ে যায়। এই অসুখের কোনো কিউ নাই, কারণ এটার বেশি রিসার্চ হয়নি, এটার কোনো ফান্ডিংও ছিল না।

কিন্তু এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তারা প্রথমে ১১৫ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন পায় এবং পরে টোটাল ২২০ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন পায়। এটা অনেক বিশাল! এবং ম্যাক্সিমাম টাকাটাই গেছে রিসার্চের জন্য।

এবার আরেকটা এক্সাম্পল হলো Starbucks। আমরা সবাই জানি যে Starbucks এটা ইন্টারন্যাশনাল কফি চেইন। আপনি যখন তাদের কফি অর্ডার করতে যাবেন, তখন তারা আপনার নাম জিজ্ঞেস করে এবং সেই নামটা কফি কাপের উপরে লিখে দেয়।

এখন আপনি যখন নিজের নাম সেই কফি কাপের উপর লেখা দেখেন তখন কিন্তু একটা হিউম্যান কানেকশন ডেভেলপ হবে স্টারবাক্সের সাথে, রাইট? এখন স্টারবাক্স কোন লেভেলে খেলে, সেটা আমি আপনাদেরকে বুঝাবো। স্টারবাক্সের বারিস্তারা কী করে জানেন? অনেক সময় ভুল নাম লেখে।

ওয়েল, এটা তারা কখনো স্বীকার করে না। কিন্তু অনেকে মনে করেন, এটাই সত্যি। আমি কফি অর্ডার দিলাম, এখন আমার নাম নাফিজ—সেটা না লিখে তারা লিখে দিল মফিজ। আর যদি হয় নাফিসা, তখন আমি কী করবো? আমি অফকোর্স ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে সেটা পোস্ট করে বলবো, “দেখ, আমার নামের বারোটা বাজায় দিছে সার্ভারস!”

এবং এইটাই হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং স্পেশালি ইনস্টাগ্রামে ডিফারেন্ট ডিফারেন্ট হ্যাশট্যাগ ইউজ করে তারা পোস্ট করে। এবং কী হয়? স্টারবাক্স পায় পুরা ফ্রি ফ্রি অর্গানিক প্রমোশন!

ভাই দেখেন, স্টারবাক্সের টার্গেট গ্রুপ তারা ছিল ছোট্ট একটা গ্রুপ না। কিন্তু এই যে ছোট গ্রুপকে দিয়ে তারা বড় একটা গ্রুপকে রিচ করছে—এটা হচ্ছে গ্রাসরুট মার্কেটিং।

ওকে, আজকের ভিডিওর লাস্ট যে টপিকটা, সেটা হচ্ছে এক্সপেরিয়েন্সিয়াল মার্কেটিং। এক্সপেরিয়েন্সিয়াল অর্থ হচ্ছে—কোনো টাইপের এক্সপেরিয়েন্স বা অভিজ্ঞতাকে প্রোভাইড করা। এক্সপেরিয়েন্সিয়াল মার্কেটিং হচ্ছে এমন মার্কেটিং ট্যাকটিক, যেটা আপনার কাস্টমারসদেরকে ইনভল্ভ করানো অথবা এক্সপেরিয়েন্স প্রোভাইড করা।

যার কারণে মার্কেটিংকে অনেকে বলে লাইফ মার্কেটিং, পার্টিসিপেশন মার্কেটিং বা এনগেইজমেন্ট মার্কেটিং। যেমন কোকাকোলা করেছিল ২০১২ সালে সিঙ্গাপুরে। তারা একটা ভেন্ডিং মেশিন বসায়, যেই ভেন্ডিং মেশিন থেকে আপনি যদি কোক কিনতে চান, আপনি টাকা দিয়ে কোক কিনতে পারবেন না। আপনাকে হাগ করতে হবে সেই ভেন্ডিং মেশিনকে, মানে যেটাকে কোলাকুলি করতে হবে।

আমরা জানি, কোকাকোলার ব্র্যান্ড মেসেজ হচ্ছে “হ্যাপিনেস স্প্রেড করা।” তো এই টাইপের ক্যাম্পেইন অনেক বেশি সাকসেসফুল হয়। এজন্য কোকাকোলা মাঝে মাঝে এই টাইপের ক্যাম্পেইন এক্সিকিউট করে থাকে।

যেমন আমরা জানি, ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তান—এই দুই দেশের মধ্যে অনেক টেনশন কাজ করে। সো, কোক কী করল? দুই দেশের শপিং মলে দুইটা ভেন্ডিং মেশিন বসালো। এবং সেই ভেন্ডিং মেশিন থেকে আপনি কোক তখনই পাবেন, যখন ওই দুই দেশের মানুষ একসাথে কোনো টাচ করবে।

এই যে, আপনি আপনার ব্র্যান্ড মেসেজকে ঠিকঠাক রেখে আপনার কাস্টমারকে ইনভল্ভ করাচ্ছেন, এনগেইজ করাচ্ছেন—এইটাই হচ্ছে এক্সপেরিয়েন্সিয়াল মার্কেটিং। ব্র্যান্ডের সাইকোলজিক্যাল প্র্যাকটিসের ব্যাপারে আরো জানতে চাইলে, আপনি এই ভিডিওটা ক্লিক করতে পারেন।

Share: 

No comments yet! You be the first to comment.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয় ক্যাটাগরি